সাতক্ষীরা কিন্ডারগার্টেনের বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার ফলাফল নিয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ


713 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা কিন্ডারগার্টেনের বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার ফলাফল নিয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ
ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১৯ ফটো গ্যালারি শিক্ষা সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার :
সাতক্ষীরা কিন্ডারগার্টেনের বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার ফলাফল নিয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। স্কুল কতৃপক্ষ বার্ষিক এই সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আগে থেকেই ‘গ’ বিভাগে গানের বিষয় নির্ধারন করে দেন ‘ছড়াগান’। কিন্তু বাংলা ছায়াছবির ( বিদ্যালয় মোদের বিদ্যালয়——–) গান গেয়ে ‘গ’ বিভাগে দ্বিতীয় হয়েছে ওই প্রতিযোগিতার এক বিচারকের মালিকানাধীন সঙ্গীত একাডেমির শিক্ষার্থী। এনিয়ে অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শুরু হয়েছে সমালোচনার ঝড়।

জানাগেছে, গতকাল ২৬ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার ছিল সাতক্ষীরা কিন্ডারগার্টেনের বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতায় তিন সদস্যের বিচারক প্যানেলে প্রধান ছিলেন তৃপ্তি মোহন মল্লিক। অপর দুই জন হলেন ওই স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক রাফিজা খাতুন এবং ওই স্কুলের হেডক্লার্ক বৈদ্যনাথ কুন্ডু। ‘গ’ বিভাগের প্রতিযোগিতায় ওই স্কুলের কে জি ওয়ানের ছাত্র অরণ্য চক্রবর্তী ছড়া গানের পরিবর্তে বাংলা ছায়াছবির ( বিদ্যালয় মোদের বিদ্যালয়——–) গান পরিবেশন করেন। যে-টি আদৌ ছড়াগান নয়। অথচ প্রতিযোগিতার ফলাফলে তাকে দ্বিতীয় করা হয়েছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানাগেছে, অরণ্য চক্রবর্তী ওই প্রতিযোগিতার এক বিচারকের মালিকানাধীন সঙ্গীত একাডেমির ছাত্র বলেই ফলাফলের ক্ষেত্রে এ ধরনের পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে। এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে।

একাধিক শিক্ষার্থীর অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, প্রতিযোগিতায় রবিন্দ্র নাথের ছড়াগান ( আমরা সবাই রাজা ——-) পরিবেশন করেন অপর এক ছাত্রী। কিন্তু বিচারক বৈদ্যনাথ কুন্ডু’র ঘোর-আপত্তির কারনে তাকে প্রতিযোগিতা থেকে বাইরে রাখা হয়। অথচ প্রতিযোগিতার নির্ধারিত বিষয়ের বাইরে গান পরিবেশন করে কি ভাবে দ্বিতীয় হলো অরণ্য চক্রবর্তী ? এই প্রশ্নে ক্ষুব্ধ অভিভাবকগণ।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ওই প্রতিযোগিতার প্রধান বিচারক তৃপ্তি মোহন মল্লিক অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে বলেন, ফলাফল নিয়ে আমারও প্রশ্ন রয়েছে। ছড়াগান না গেয়ে কিভাবে প্রতিযোগিতায় অরণ্য চক্রবর্তী দ্বিতীয় হলো সে-টি আমারও জিজ্ঞাসা। তিনি বলেন, আমাকে উপেক্ষা করে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। ফলাফল শীটে আমার স্বাক্ষরও নেয়া হয়নি। বৈদ্যনাথ কুন্ডু এটি করেছেন । আমি ওই স্কুলের হেড টিচারের কাছে পক্ষপাতিত্বের বিষয়টি ওইদিন জানিয়েছি।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা কিন্ডারগার্টেনের হেড টিচার রফিকুল হাসান বেলালের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মুঠো ফোনটি রিসিভ করেননি।

উল্লেখ্য, গতবছর আবৃত্তি প্রতিযোগিতার ফলাফল নিয়ে একই ভাবে অভিযোগ ওঠে স্কুলটির বিরুদ্ধে। ওই প্রতিযোগিতার এক বিচারকের নাতনিকে একই ভাবে প্রথম করা হয়েছিল বলে অভিযোগ অভিভাবকদের।