সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠাকালিন সদস্য কারা ?


327 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠাকালিন সদস্য কারা ?
নভেম্বর ১৬, ২০১৯ ফটো গ্যালারি শিক্ষা সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

* রজত জয়ন্তীতে প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের সম্মাননা প্রদান নিয়ে চরম বিতর্ক

॥ এম কামরুজ্জামান ॥

বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হলো সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির ৫০ বছর পূর্তি, সুবর্ণ জয়ন্তী। শনিবার দিবসটি পালন উপলক্ষে দিনভর নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির ১৪ জনকে প্রতিষ্ঠাকালিন সদস্য হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয় এবং তাদেরকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। তালিকাভূক্তদের মধ্যে প্রাক্তর প্রতিমন্ত্রী ডা: আফতাবুজ্জামান ছাড়া বাকি ১৩ জনই মারাগেছেন বলে দাবি করা হয়। সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রতিষ্ঠাকালিন একমাত্র জীবিত সদস্য হিসেবে বক্তব্যও রাখেন ডা: আফতাবুজ্জামান। কিন্তু এনিয়ে চরম বিতর্ক শুরু হয়েছে।

সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠাকালিন সদস্য হিসেবে যাদের সম্মাননা দেয়া হয়েছে তাদের অনেকেই প্রতিষ্ঠাকালিন সদস্য ছিলেন না। অথচ কিভাবে সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানে তারা সম্মাননা পেলেন তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করেন সাতক্ষীরার সচেতন মহল।

তথ্যানুসন্ধানে জানাগেছে, প্রতিষ্ঠাকালিন সদস্যদের মধ্যে একমাত্র বেঁচে আছেন সাতক্ষীরার প্রবীণ আইনজীবী ও সাংবাদিক এ কে এম শহীদউল্যাহ । অথচ তাকে দেয়া হয়নি সম্মাননা। সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানেও তাকে ডাকা হয়নি।

অনুষ্ঠানে সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠাকালিন সদস্য হিসেবে এম এ গফুর, আব্দুল বারী খান, এড.মনসুর আহমেদ, এড.সামছুল হক (১), এড.সামছুল হক (২), অধ্যক্ষ মো: মতিউর রহমান, এড.হাসান আওরঙ্গী, রুহুল আমিন, শেখ তবিবুর রহমান, এড.শামসুর রহমান, সাবেক চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ,আব্দুল মোতালেব, সাবেক কমিশনার এনছার আলী সরদার ও ডা: আফতাবুজ্জামানের নাম ঘোষণা করা হয়। যারা মারা গেছেন তাদের পরিবারের সদস্যদের উত্তরীয় পরিয়ে দেয়া হয়।

কিন্তু যাদেরকে প্রতিষ্ঠাকালিন সদস্য হিসেবে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে তা নিয়ে চরম বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তথ্যানুসন্ধানে জানাগেছে, সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠাকালিন সদস্য হিসেবে যে ১৪ জনকে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে তাদের মধ্যে ১০ জনই প্রতিষ্ঠাকালিন সদস্য ছিলেন না।

কোথা থেকে এই নামের তালিকা সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির বর্তমান কমিটির কর্মকর্তারা পেলেন ? এই তথ্যের ভিত্তি বা কোথায় ? তা নিয়ে রিতিমত প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রাসেলকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন ‘লাইব্রেরিতে প্রতিষ্ঠাকালিন সদস্যদের তালিকা বা তথ্য সংরক্ষণ নেই। তবে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অসিত কুমার মজুমদার স্যারের একটি লেখার ভিতর লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠাকালিন ১৪ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে। বিধায় উক্ত ১৪ জনকে প্রতিষ্ঠাকালিন সদস্য হিসেবে সম্মাননা দেয়া হয়েছে’।

সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির একাধিক বার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আনিসুর রহিম বলেন ‘আমি সাতক্ষীরা পাবলিক লাইব্রেরির তিন বার সাধারণ সম্পাদক ও দুই বার সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। আমার জানামতে প্রতিষ্ঠাকালিন সদস্যদের মধ্যে একমাত্র এড.এ. কে.এম শহীদউল্যাহ সাহেব ছাড়া আর কেউ বেঁচে নেই। অথচ তাকে সম্মাননা দেয়া হয়নি। এটা দু:খ জনক। আর যে ১৪ জনকে প্রতিষ্ঠাকালিন সদস্য হিসেবে সম্মানান প্রদান করা হয়েছে তাদের অনেকেই প্রতিষ্ঠাকালিন সদস্য নন। অধ্যক্ষ অসিত কুমার মজুমদার অন্য জেলার মানুষ। তিনি আশির দশকে সাতক্ষীরাতে প্রথম আসেন। অথচ সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা হয়েছে ১৯৬৯ সালে। বিধায় অধ্যক্ষ অসিত কুমার মজুমদার কি ভাবে জানবেন ? পাবলিক লাইব্রেরি নিয়ে তার এ ধরনের কোন লেখা আছে তাও আমার জানা নেই’।

সাতক্ষীরার প্রবীণ আইনজীবী এ কে এম শহীদউল্যাহ জানান ‘১৯৬৯ সালে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব
চত্বরে তৎকালিন মহাকুমা প্রশাসক (এসডিও) শফিউর রহমান পাবলিক লাইব্রেরির উদ্বোধন ঘোষণা করেছিলেন। উনি একটি বই দিয়ে সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরি উদ্বোধন ঘোষণা করেন। উদ্বোধনের দিন মুন্সিপাড়া এলাকার মরহুম এ বি এম আব্দুল হাই ৫০ খানা এবং আমি নিজে ৫ খানা বই দিয়েছিলাম। তিনি আরো বলেন, এড.আব্দুল গফফার, এড.সামছুল হক (২),এড. এ কে এম শহীদউল্যাহ, অধ্যাপক শেখ তবিবুর রহমান, সাংবাদিক আব্দুল মোতালেব, গহর আলী মাষ্টার, সাংবাদিক সুনীল ব্যানার্জি,এড.হাসান আওরঙ্গী, এ বি এম আব্দুল হাইসহ ১০ থেকে ১২ জন আমরা সেখানে উপস্থিত ছিলাম। তিনি বলেন একমাত্র আমি ছাড়া প্রতিষ্ঠাকালিন সদস্যদের মধ্যে আর কেউ বেঁচে আছেন আমার জানা নেই’।

সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরীর প্রকাশনা সংক্রান্ত সম্পাদনা পরিষদের সদস্য লায়লা পারভীন সেঁজুতি বলেন, সম্পাদনা পরিষদের আমি একজন সদস্য। কিন্তু প্রকাশনা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে এই কমিটির পৃথক কোন সভা হয়নি এবং প্রকাশনার বিষয় নিয়ে আমার সাথে কেউ কোনো রকম আলোচনাও করেননি।


সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল বলেন ‘ প্রতিষ্ঠাকালিন সদস্যদের সম্মাননা প্রদানের বিষয়টি আমার সাখে কেউ আলোচনা করেনি। পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রাসেল আমার সাথে কোন ধরনের আলোচনা না করেই সম্মাননা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর দায় দায়িত্ব আমি নেবো না। তবে কারা প্রতিষ্ঠাকালিন সদস্য তা খতিয়ে দেখা হবে এবং বই মেলার সমাপনি অনুষ্ঠানে তাদেরকে সম্নানিত করা হবে’।