সাতক্ষীরা কোর্ট জিআরওসহ পাঁচ জনের নামে থানায় মামলার নির্দেশ আদালতের


443 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা কোর্ট জিআরওসহ পাঁচ জনের নামে থানায় মামলার নির্দেশ আদালতের
মে ২৬, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

আসাদুজ্জামান :
সাতক্ষীরায় বিচারকের সরল বিশ্বাসের সাথে প্রতারনা ও আইনজীবির স্বাক্ষর জাল করে এক গাজা ব্যবসায়ীকে জেল থেকে মুক্ত করার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাতক্ষীরা সদর কোর্ট জিআরও এ,এস,আই মিজানুর রহমানসহ পাঁচ জনের নামে থানায় মামলা দায়েরের জন্য সদর থানা ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। অভিযুক্ত অন্যরা হলেন, কোর্ট জিআরও এর সহযোগী মোঃ দাউদ হোসেন, এ্যাড. আব্দুল লতিফের মোহরার হাফিজুর রহমান, সদর উপজেলার কামারবায়সা গ্রামের রমজান আলীর ছেলে জামিনদার মোঃ আমের আলী ও একই উপজেলার দক্ষিণ কামারবায়সা গ্রামের মৃত মোসলেম সরদারের ছেলে গাজা ব্যবসায়ী মোঃ মোজাম সরদার।
বৃহস্পতিবার আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২০১৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর গাজা ব্যবসায়ী মোজাম সরদারকে তিন কেজি আট’শ গ্রাম গাজাসহ সাতক্ষীরা সদর থানার এ,এস,আই আব্দুল মালেক আটক করেন। এ ঘটনায় গাজা ব্যবসায়ী মোজাম সরদারকে প্রধান আসামী এবং মোঃ মফিজ, আমিরুল, মুকুল ও শহিদুলসহ অজ্ঞাত আরো দুই জনকে পলাতক আসামী করে সাতক্ষীরা সদর থানায় ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনের ১৯(১) টেবিল ৭(ক) ধারায় মামলা দায়ের হয়। মামলা নং-২৩, তারিখ-০৯-০৯-২০১৫।
পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবুল কালাম আজাদ আসামীদের বিরদ্ধে ২৭-০৯-২০১৫ তারিখে আদালতে অভিযোগপত্র ( চার্জশীট ) দাখিল করেন। অভিযোগপত্র নং-৫১৭।
এদিকে, কোর্ট জিআরও এ,এস,আই মিজানুর রহমান বিচারকের সরল বিশ্বাসের সাথে প্রতারনা করে তার সীলসহি ব্যবহার করে এবং সংশ্লিষ্ট আইনজীবির স্বাক্ষর জাল করে আসামী মোজামকে ০১-১০-২০১৫ তারিখে কারাগার থেকে বের হওয়ার ব্যবস্থা  করেন। এ ঘটনাটি  সম্প্রতি জানাজানি হলে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল মহিবুল হাসানের আদালত বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে জালিয়াতির সত্যতা পান। এরপর তিনি গত ১৯ মে ২০১৬ তারিখে জিআরও এএসআই মিজানুর রহমানসহ তার এ কাজে সহযোগিতা করার জন্য উপরোক্ত পাঁচ জনের বিরদ্ধে পেনাল কোর্ড ১৬১,১৬৭, ৪০৯, ৪২০, ৪৬৬, ৪৬৭,৪৬৮, ৪৭১ ধারাসহ ১৯৭৪ সালের দূর্ণীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ ধারায় ২৫ মের মধ্যে এজাহার দায়ের করে আদালতকে লিখিতভাবে অবগত করার জন্য সাতক্ষীরা সদর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক শেখ জানান, ২৫ মের মধ্যে এজাহার দায়েরের বিষয়টি নির্দিষ্টভাবে তাকে জানানো হয়নি । তিনি আরো বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে জজ কোর্টের আইনজীবি রেশমা পারভীন জানান, আসামী পক্ষের আইনজীবি আমার সিনিয়র আব্দুল লতিফ। সিনিয়রের মোহরার হাফিজুর রহমান তার (রেশমার) স্বাক্ষর জাল করে ভূয়া জামিন নামা দাখিল করেছেন। তিনি এঘটনায় নিউজ না করার অনুরোধ জানিয়ে আরো বলেন, আগামী ২৯ মে রবিবার আসামী মোজাম সরদারকে আদালতে হাজির করা হবে।

প্রসঙ্গত ঃ আদালতের দায়িত্বপালনকালে কোর্ট জিআরও এ,এস,আই মিজানুর রহমানের কাছে বিচারকের সিল সংরক্ষিত থাকে। এ সুযোগে তিনি আইনজীবির জাল স্বাক্ষরিত জামিননামায় বিচারকের সরল বিশ্বাসের সাথে প্রতারনা করে এতে সীলসহি করে নেন। ##