সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের মির্জাপুরে দু’টি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ: ২ জন নিহত : আহত অর্ধশতাধিক


600 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের মির্জাপুরে দু’টি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ: ২ জন নিহত : আহত অর্ধশতাধিক
জুলাই ২১, ২০১৫ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের পাটকেলঘাটা থানার মির্জাপুর চারা বটতলা এলাকায় দু’টি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ২ জন নিহত ও অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত হয়েছে। আহতদের  মধ্যে কমপক্ষে ১০ জনের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানাগেছে। আহতদেরকে তালা, পাটকেলঘাটার বিভিন্ন ক্লিনিক ও  সাতক্ষীরা সদর হাসপাতারে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহতরা হলেন, যশোর জেলার গোপালপুর এলাকার শহর আলীর ছেলে সাহেব আলী (৪৫) ও বাসের হেলপার খুলনার চুকনগরের ইমাম হোসেন (৩৫)। সে খুলনা মেট্রো-জ-১১-০১০৭ নম্বরধারী যাত্রীবাহী বাসের হেলপার বলে জানাগেছে ।
প্রত্যক্ষদর্শিরা জানায়, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা খুলনা মেট্রো-জ-১১-০১০৭ নম্বরধারী যাত্রীবাহী বাস মির্জাপুর চারা বটতলা এলাকায় যাত্রী নামাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা খুলনা মেট্রো-জ-০৪-০০৭৮ নম্বরধারী যাত্রিবাহী বাস এসে মেরে দেয়। এতে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় কমপক্ষে অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত হয়েছে। নিহত হয়েছে ২ জন। তাদেরকে বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতরা হলেন, সাতক্ষীরার শ্রীরামপুর গ্রামের গোপাল (২৬), তালার তেতুলিয়া গ্রামের আকলিমা (১৯)বকশিয়া গ্রামের নুরুল হক(৪০), বারাত গ্রামের রাশেদ (১৩) দুধলী গ্রামের জাহানারা (৪০), দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়ার সুভেনন্দু (২৬) ও তার ভাই টুটুল (৮), খুলনার নাজিরঘাট বিহারী কলোনীর আফরোজা (৩৫), পুত্র আশিক(১০), মেয়ে মিম (৩), বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের আব্দুল জলিল (৪৫), সজিব(৬), সাতক্ষীরার নাগতাড়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক (৩২), আশাশুনি উপজেলার চাঁপড়া গ্রামের মর্জিনা (৩৫), পুত্র মিরাজ(৮), গোদাড়া গ্রামের রুহুল আমিন (৪৫), মেয়ে রেহেনা (২০), কেয়ারগাতীর নুরজাহান (৪৮), কালীগঞ্জ উপজেলার মৌতলা গ্রামের ইদ্রিস আলী (৪০) স্ত্রী পলি(২৫), মনিরামপুর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের মুসলিমা (৪০), কেশবপুর আলতাপোল গ্রামের গাড়ী চালক দেবু (৪৮)সহ কমপক্ষে ৫০ জন। আহতদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সাতক্ষীরা সদর ও খুলনার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদিকে সড়ক দূর্ঘটনায় গুরুতর আহতদের ভর্তি না করার কারণে উত্তেজিত জনতা পাটকেলঘাটা স্বাগতা ক্লিনিকে ব্যাপক ভাংচুর চালিয়েছে। ক্লিনিকের পরিচালক ডাঃ মধুসুদন মন্ডল জানান-তার ক্লিনিকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় আহতদের ভর্তি করা সম্ভব হয়নি। এদিকে, উত্তেজিত জনাতার অভিযোগ, ডা: মধুসুধন মন্ডল কোন রুগী তো ভর্তি করেনি বরং তিনি তাদের সাথে খারাপ আচরণ করেছেন।
এদিকে, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল সূত্রে জানাগেছে, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ১২ জনকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসার পর সাহেব আলী ও ইমাম হোসেন মারা যায়। আরো কয়েক জনের অবস্থা আশংকাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছে।
সাতক্ষীরা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ জানান, নিহত দুই জনের মধ্যে নিহত ইমাম হোসেন ১০৭ নম্বর যাত্রীবাহী বাসের হেলপার। তার বাড়ি খুলনার চুকনগরে।
পাটকেলঘাটা থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের মির্জাপুর চারা বটতলা এলাকায় খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ও সাতক্ষীরা থেকে ছেড়ে আসা দু’টি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে কোন হতাহতের দেখা মেলেনি। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছানোর আগেই  ইঞ্জিনভ্যানযোগে আহতদেরকে আশপাশের ক্লিনিক ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি জানান, দুর্ঘটনাকবলিত যাত্রীবাহী বাস দু’টি মেইন সড়কের উপর থেকে পুলিশ সরিয়ে মহাসড়কে যোগাযোগ ব্যবস্থা সাভাবিক করে দিয়েছে।