সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়ক যেনো মরণ ফাঁদ


427 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়ক যেনো মরণ ফাঁদ
জুন ৩০, ২০১৫ খুলনা বিভাগ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

 

 

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: আস্ত নেই খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়ক। খানা খন্দে পরিণত হবার পর মহাসড়কটি এখন খালে পরিণত হয়েছে। সংস্কারের অজুহাতে খোড়াখুড়ির কারণে মহাসড়কটির এ দুরাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কাজে ধীরগতি ও অনিয়মের কারণে এ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে মানুষ নাকাল হয়ে পড়ছে। জীবনের ঝুকি নিয়েই চলতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। যানবাহন চালকরা রীতিমত হিমশিম খাচ্ছেন। সড়কটি দিয়ে চলাচলের সময় দোলনায় দোল খাওয়ার সাধ পূরণ হচ্ছে। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে মহাসড়কটি জনদুর্ভোগ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
জানা গেছে, খুলনা সাতক্ষীরা মহাসড়কের কাজের নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হলেও শেষ হয়নি রাস্তার কাজ। একটু বৃষ্টিতেই জন দূর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। জীবনের ঝুকি নিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করছে। রাস্তায় হাটু পরিমান কাদার সৃষ্টি হয়ে যান চলাচলে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তায় ভ্যান ইজিবাইক, মটর সাইকেলসহ ছোটখাট যান চলাচল করছে বিকল্প রাস্তা ত্রিশ মাইল হয়ে মিঠাবাড়ীর ভিতর দিয়ে। খোজ খবর নিয়ে জানা গেছে, খুলনা সাতক্ষীরা মহাসড়কের প্রায় ২৪ কিলোমিটার রাস্তার কাজ গ্রহণ করে ডিএনকে লি. ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৮কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রতিষ্ঠানটির কাজ শুরু করার কথা ফেব্র“য়ারী মাসে শেষ হওয়ার কথা ৪জুন মাসে। কিন্তু দেরিতে কাজ শুরু হওয়ায় বর্ষার মৌসুমে কাজ পড়ে যায়। এদিকে কাজ শেষ হওয়ার এক মাস অতিবাহিত হলেও এখনও রাস্তার কাজ শেষ হয়নি। গতকাল সোমবার রাস্তায় কথা হয় প্রজেক্ট ম্যানেজার ইঞ্জিনিয়ার রোজেন বাবুর সাথে। তিনি জানান, গত এক সপ্তাহ বৃষ্টির কারণে কাজে কিছুটা বিঘœ ঘটেছে তা না হলে কাজ অনেক দুর এগুতে পারত। তার পরও আমরা সাধ্যমত চেষ্টা করে যাচ্ছি। যদি ভারী বর্ষণ না হয় তাহলে ১০-১৫দিনের মধ্যে পাথরের হার্ড সোলডার দেওয়া সম্বভ হবে। ইজি বাইক চালক বাবলু জানায় রাস্তার কারণে আমাদেরকে ত্রিশ মাইল হয়ে মিঠাবাড়ীর ভিতর দিয়ে প্রায় তিন চার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আসতে হচ্ছে ভৈরব নগর মোড়ে। ভ্যান চালক রমজান জানায়, টুকটাক মালপত্র নিয়ে যাই সাতক্ষীরায় রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে না পেরে ভৈরব নগর দিয়ে মিঠাবাড়ী হয়ে ত্রিশ মাইল যেয়ে উঠতে হচ্ছে। মিঠাবাড়ী গ্রামের দোকান দার নজরুল ইসলাম বলেন, মহাসড়ক দিয়ে যান বাহন চলাচল করতে না পারায় আমাদের গ্রামের ভিতরের রাস্তা বিভিন্ন যান বাহন যেয়ে নষ্ট করে দিচ্ছে।
এলাকাবাসি জানায়, দুর্নীতির মাধ্যমে কাজটি যেনতেনভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ঠিকাদার বৃষ্টির অপেক্ষা করছিলেন। বৃষ্টিও হয়েছে। এখন তিনি তড়িঘড়ি করে দায়সারাভাবে কাজটি করছেন। যদিও তা কেউ দেখছে না। তাতে তার পোয়াবারো।
সড়ক ও জনপদের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ জানান, জনগণের সুবিধার্তে ঠিকাদাররা রাতদিন কাজ করে চলেছেন। তাছাড়া বৃষ্টিতে যাতে গাড়ী চলাচলে কোন প্রকার অসুবিধা না হয় তার জন্য রাস্তার একপাশ দিয়ে ইটের সোলিং দেওয়া হচ্ছে। যাতে বৃষ্টি হলেও যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক থাকে। প্রবল বৃষ্টির কারণে রাস্তায় কিছুটা যান চলাচলে অসুবিধা হয়েছে। যদি বৃষ্টি কিছুটা স্বাভাবিক থাকে তাহলে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে রাস্তার কাজ শেষ হবে। ইতোমধ্যে মোট কাজের চার ভাগের তিনভাগ কাজ মেষ হয়েছে।