সাতক্ষীরা জেলার উন্নয়নে আসন্ন বাজেটে নাগরিকদের দাবী থাকবে কি ?


142 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা জেলার উন্নয়নে আসন্ন বাজেটে নাগরিকদের দাবী থাকবে কি ?
মে ১৮, ২০২২ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

মো: আনিসুর রহিম ::

জুন মাসের মধ্যেই দেশের এক বছরের আয় ও ব্যয়ের হিসাব জাতীয় সংসদ অধিবেশনে উত্থাপিত হবে। বার্ষিক খরচের হিসেব অনুযায়ী বার্ষিক আয়ের উৎস প্রণীত হবে। যাকে আমরা বাজেট বলে চিহ্নিত করে থাকি। এবার সম্ভবত ৭ লক্ষ কোটিরও বেশি টাকার বাজেট আমরা দেখতে পাব। এটা আমাদের জন্য সৌভাগ্যের ব্যাপার।
অনুন্নত দেশ থেকে আমরা উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছি। যমুনা সেতুর পর পদ্মাসেতু নির্মাণ শেষ পর্যায়ে এসেছে। যমুনা সেতুর কারণে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নের পথে কয়েক ধাপ এগিয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য অপরাপর অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতের উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। পদ্মাসেতুর কারণে এবার দক্ষিণ বঙ্গের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এমনটাই সকলের প্রত্যাশা। বাজেট অধিবেশন চলাকালীন আমাদের স্বপ্নের পদ্মাসেতুর যান চলাচল শুরু হবে। তারপর রেললাইন পরে চালু হবে। জুন মাস আমাদের দক্ষিণবঙ্গের মানুষের জন্য সৌভাগ্যের মাস হিসাবে দেখা দিবে।
২০২২-২৩ অর্থ বছরের বাজেট বরাদ্দে সাতক্ষীরার অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে কী থাকবে, তা আমরা জানিনা। গত বছর বা তার আগের বছরগুলোতে কিছুই ছিলনা। জলাবদ্ধতার অভিশাপে আমাদের সহায় সম্পদের বিপুল পরিমাণ ক্ষতি হয়। এছাড়াও প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রবণ উপকূলীয় জেলা হিসাবে সাতক্ষীরা জেলার উন্নয়ন ব্যাহত হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও কর্ম পরিবেশের সুযোগ না থাকার কারণে কয়েক লক্ষ মানুষ মাইগ্রেট বা অভিবাসন হয়ে এলাকা ছাড়া হয়। এমন এক সময়ে ২০২২-২৩ অর্থ বছরের বাজেট বরাদ্দে সাতক্ষীরার মানুষের একান্ত দাবী সাতক্ষীরায় রেললাইন চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। ২০১০ সালে শ্যামনগর নকীপুর স্কুল মাঠে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১২ বছর আগে সাতক্ষীরায় রেললাইন স্হাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এজন্য জরিপ কাজও শেষ করা হয়েছিল। আমরা সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আমাদের ২১ দফা দাবীনামা উত্থাপন করেছি। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতির ভিতর ছিল সুন্দরবন এলাকাতে পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন করার। ইতোমধ্যেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে সাতক্ষীরায় বিশেষায়িত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্হাপনের পরিপত্র জেলা প্রশাসকের দফতরে পাঠিয়েছেন। আমরা সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির সভায় প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের কারণে অভিনন্দন জ্ঞাপন করেছি। নাগরিক কমিটির ২১ দফা দাবির সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির একাত্ম হওয়ায় আমারা আনন্দিত। জলাবদ্ধতা নিরসনে একনেক সভায় ৪৭৬ কোটি ২৬ লাখ টাকার বরাদ্দ দিয়েছিলেন। ২০২৩ সালে জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজ শেষ হওয়ার কথা। সাতক্ষীরার উপকূলের মানুষের জীবন যাপন মান বাড়ানোর জন্য স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের জন্য বাজেট বরাদ্দ দিয়েছেন।
সরকার সাতক্ষীরার উন্নয়ন কাজে ইতোমধ্যেই ঘোষণা ও প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে আন্তরিকতার পরিচয় দিয়েছেন। আমাদের জনপ্রতিনিধিবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ সমন্বিতভাবে চলতি মে জুন মাসের মধ্যেই উদ্যোগ গ্রহণ করেন, তাহলে দেশের সর্ব দক্ষিণের উপকূলের জেলার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হতে পারে।
সাতক্ষীরার জনসংখ্যা বর্তমানে ২৪ লাখের বেশি। জেলার আয়তন ৩,৮৫৮,৩৩ বর্গ কিলোমিটার। বিশ্বখ্যাত ম্যনগ্রোভ সুন্দরবনের আয়তন আমাদের জেলার ভিতরেই ১,৪৪৫,১৮ বর্গ কিলোমিটার। তিনটি পৌরসভা এবং ৭৭টি ইউনিয়ন পরিষদ। এজেলার মানুষের দুর্ভাগ্য, মানবিক উন্নয়নে শিক্ষাদিক্ষায়, কর্মদক্ষতায় তুলনামূলকভাবে অনেক পিছিয়ে আছে। বাংলাদেশে জাতীয়ভাবে শিক্ষার হার যেখানে ৭৩ শতাংশ সেখানে সাতক্ষীরা জেলায় শিক্ষিতের হার ৬২ শতাংশ।
পরিবহণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও আমাদের জেলা দেশের ৬৪ জেলার ভিতর সবথেকে পিছিয়ে আছে। ফলশ্রুতিতে আমাদের জেলার উন্নয়ন তেমনভাবে দৃশ্যমান নয়। অথচ সাতক্ষীরা জেলার খাদ্য শস্য উৎপাদন থেকে শুরু করে মাছ, দুধ ও দুগ্ধজাত উৎপাদন, আম, কুল, ওল, পেয়ারা, মধু উৎপাদনের ক্ষেত্রে আমাদের জেলার সুনাম দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও ছড়িয়ে আছে।
সাতক্ষীরার মাননীয় সংসদ সদস্যগণ আসন্ন সংসদ অধিবেশন চলাকালীন সাতক্ষীরার উন্নয়নে জনদাবী এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির বিষয়গুলো যথাযথভাবে উপস্থাপন করেন তাহলে নিশ্চয়ই আমরা সুফললাভে সক্ষম হবো। এব্যাপারে জেলার সর্বস্তরের নাগরিক ও উপযুক্ত ব্যক্তিগণ নিজ নিজ অবস্থান থেকে সাতক্ষীরার বাজেট বরাদ্দে প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

লেখক: আহবায়ক,জেলা নাগরিক কমিটি, সাতক্ষীরা