সাতক্ষীরা জেলা কারাগার দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত হয়েছে !


923 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা জেলা কারাগার দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত হয়েছে  !
মার্চ ৪, ২০১৭ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

মনজুর কাদীর ::
সাতক্ষীরা জেলা কারাগার দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত হয়েছে। জেলা কারাগারের ভিতর আটক হাজতি, কয়েদি ও আসামীদের স্বজনদের দেখা করার নামে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা অবৈধভাবে আদায় করা হচ্ছে। আসামী ও কয়েদিদের মাঝে অত্যন্ত নিম্মমানের খাদ্য সরবরাহ করা  হচ্ছে। এছাড়া জেলা কারাগারের ভিতরে একটু ভালো থাকার ব্যবস্থা করার নামে হাজতি ,আসামী ও কয়েদিদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে অবৈধ অর্থ। সীমাহীন এসব দুর্নীতি ও অনিয়ম যেনো নিয়মে পরিনত হয়েছে।

শুধু তাই নয়, সাতক্ষীরা জেল খানা এরিয়ার মধ্যে সরকারের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে পালন করা হচ্ছে গবাদি পশু। ফলে সেখানকার আশপাশের পরিবেশ মারাত্বক ভাবে দূষিত হচ্ছে।

সম্প্রতি সাতক্ষীরা জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া একাধিক আসামী, কয়েদি ও তাদের স্বজনদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আসামী, কয়েদি ও তাদের স্বজনেরা ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে জানান, সাতক্ষীরা জেলা কারাগারের ভিতর পৃথক ৪টি ভবন রয়েছে। প্রতিটি ভবনে ৪টি করে কক্ষ হিসেবে মোট ১৬টি কক্ষ রয়েছে। প্রতিটি রুমে ৬৪ জন হাজতি বা কয়েদি থাকার কথা থাকলেও সেখানে ২০০ থেকে ৩০০ জনকে রাখা হচ্ছে। এসব হাজতি ও কয়েদিকে সেখানে একটু ভালো জায়গা দেওয়ার নামে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা আদায় করা হয়ে থাকে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সাতক্ষীরা জেল খানায় আটক আসামীদের সাথে দেখা করতে গেলে আটককৃতদের স্বজনকে গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।

দেখা করতে হলে দুই ধরনের কার্ড কাটা বাধ্যতামূলক। স্পেশাল কার্ড ও মাফি কার্ড ছাড়া কোন বন্দির সাথে তার স্বজনদের দেখা করতে দেওয়া হয়না। স্পেশাল কার্ডের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ টাকা এবং মাফি কার্ডের মূল্য নির্ধারন করা হয়েছে ৫ টাকা। স্পেশাল দেখা করতে হলে হয় বন্দিকে অথবা তার স্বজনকে ১০০ টাকা দিতেই হবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আটক আসামী বা কয়েদির পিসি  কার্ড থেকে এসব টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকা অবৈধভাবে বিভিন্ন অজুহাতে আদায় করছে জেলা কারাগারের দুর্নীতিবাজ কর্তা ব্যক্তিরা।

সাতক্ষীরা জেলা কারাগারের ভিতর বন্দিদেরকে অত্যন্ত নিম্মমানের খাবার দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নিম্মমানের চাল, আটাসহ নিম্মমানের বিভিন্ন দ্রব্য দেওয়া হচ্ছে। মোটা চালের ভাত দেওয়া হচ্ছে, যা গরুর খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সকালে দেওয়া হয় একচিমটি খাওয়ার অযোগ্য ঝোলা গুড়, আর ছোট্ট একটি রুটি। দুপুরে কুমড়া, পুইশাকের ভ্যাকম তো কম্পলচারী।

যেদিন সাতক্ষীরা কারাগারে কোন জেল ভিজিটর ভিজিট করতে যান সেদিন অবশ্য একটু ভালো মানের খাদ্য সরবরাহ করা হয়ে থাকে। তাদের সামনে হাজির করা হয় একটু ভালোমানের খাবার। ভিজিটররা চলে গেলে আবার যা তাই অবস্থা।

সাতক্ষীরা কারাগারের ভিতর গবাদি পশু পালন করার ক্ষেত্রে রয়েছে সরকারি নীতিমালা। সল্পপরিসরে গাভি পালনের নিয়ম থাকলেও সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করে সেখানে একাধিক গরু পালন করছেন জেল সুপার। ফলে আশপাশের পরিবেশ দুষিত হয়ে পড়েছে। জেল খানার ভিতর এর প্রভাব পড়ছে।

সাতক্ষীরা কারাগারের ভিতর মেডিকেল ওয়ার্ডে রাখার জন অর্থ বানিজ্য তো নতুন কিছু নয়।

সাতক্ষীরা কারাগারের এসব দুর্নীতি ও অনিয়ম যেনো নিয়মে পরিনত হয়েছে। প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকার অবৈধ অর্থ বানিজ্য চলছে সাতক্ষীরা জেলা কারাগারে। মাস গেলেই এসব অর্থ রেসিও অনুযায়ী ভাগবাটোয়ারা হচ্ছে। চিহ্নিত কয়েক জন সাংবাদিকের হাতে মাস গেলেই পৌছে দিতে হয় ওই ভাগের টাকা।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা জেলা কারাগারের জেল সুপার মো: আবু জাহেদ ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে বলেন, জেল খানার ভিতরে আটক কোন হাজতি, কয়েদিদের সাথে দেখা করতে হলে একটি টাকাও লাগে না। আগে লাগতো। আমি আসার পর (গত আড়াই বছর ধরে) থেকে কোন টাকা নেওয়া হয়না। কোন হাজতি, কয়েদি ও তাদের স্বজনেরা যাতে টাকা না দেয় সেজন্য আমি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন ভাবে প্রচারনা চালিয়েছি। তিনি বলেন, জেল খানার এরিয়ার ভিতর জেল সুপার সল্পপরিসরে গরু পালতে পারে। আমার ২টি গাভি ও ২টি বাছুর রয়েছে। নিম্মমানের খাদ্যসহ অন্যান্য  দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব সত্য নয়।

(পর্ব-১, চলবে)