সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির বিরুদ্ধে মাদকাসক্ত ও শিবির কানেক্টের অভিযোগ


1214 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির বিরুদ্ধে মাদকাসক্ত ও শিবির কানেক্টের অভিযোগ
সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৮ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার ::
মাদকাসক্ত আর বিতর্কিতদের নিয়ে চলছে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল ইসলাম রেজার নেতৃত্ব। আবার মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে উপজেলা ও কলেজের বিভিন্ন ইউনিটের কমিটি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে এই সভাপতির বিরুদ্ধে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাদিকুর রহমান বলেন, যারা মাদকাসক্ত ও বিতর্কিত তাদের তালিকা ইতোমধ্যে করা হয়েছে। তবে এসব ইউনিটের নেতারা সভাপতির অনুসারী হওয়ায় তার বাঁধার কারণে পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আহসান হাবিব লিমু জানান, আশাশুনি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আসমাউল হুসাইন একজন চিহ্নিত মাদকসেবী। আশাশুনি থানায় তার বিরুদ্ধে রয়েছে মাদক মামলা। কলারোয়া উপজেলা সভাপতি আবু সাঈদ ও সাধারণ সম্পাদক জজও মাদকাসক্ত। সভাপতি আবু সাঈদের বিরুদ্ধে কিছুদিন আগে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে চাঁদাবাজিকালে আটক হওয়ার পর কলারোয়া থানায় একটি মামলাও হয়েছে। কালিগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাওন আহম্মেদ সোহাগ সাবেক শিবিরকর্মী। দেবহাটা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান সবুজ দুই সন্তানের জনক। তালায় মোটা অংকের টাকা নিয়ে দেওয়া হয়েছে কমিটি। শ্যামনগর উপজেলা কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতির শায়েদ পারভেজ ইমনের বিরুদ্ধে রয়েছে চাঁদাবাজির অভিযোগ। সদর উপলো ছাত্রলীগের সভাপতি শাহিন আলম সাদ্দামের বাবা জামাত নেতা। বোমা তৈরী করতে গিয়ে এক সময় তার এক হাত উড়ে যায়। তিনি হাতকাটা বোমা খলিল নামে পরিচিত। আপন চাচা কয়েকদিন আগে নাশকতা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে জেলে রয়েছে। আরেক চাচা আব্দুল গফফারও নাশকতা মামলা আসামী।
ছাত্রলীগের এই নেতা আরও বলেন, ছাত্রলীগের বিভিন্ন তবে ইউনিটের ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। যার কারণে প্রকৃত ছাত্রলীগ নেতারা একদিকে যেমন পদ বঞ্চিত হচ্ছে অন্যদিকে ছাত্রলীগ তার ঐতিহ্য হারাচ্ছে।
বিভিন্ন ইউনিটের ছাত্রলীগের নেতাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল ইসলাম রেজার সঙ্গে একাধিক বার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন কল রিসিভ করেননি।
তবে সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাদিকুর রহমান বলেন, কিছুদিন পর সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনে ছাত্রলীগকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। ইতোমধ্যে ছাত্রলীগে বিভিন্ন ইউনিটের বিশৃঙ্খলা ও মাদকাসক্তের বিষয়গুলো অবগত হয়েছি। তবে অভিযুক্তরা সকলেই সভাপতির অনুসারী হওয়ায় একা কোন পদক্ষেপ নিতে পারছি না। তাছাড়া আমি এর প্রতিবাদ করায় সভাপতি ও অভিযুক্তরা মিলে সভাপতির নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় কমিটির নিকট ইতোমধ্যে আমার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগও দিয়েছে। আমার বিরুদ্ধে চক্রান্তে নেমেছে তারা। আমার বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ আনা হয়েছে তা ভিত্তিহীন।
সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগে সভাপতি রেজাউল ইসলাম রেজার স্বেচ্ছাচারিতা ও মাদকাসক্তদের সাপোর্ট করার ঘটনার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।