সাতক্ষীরা জেলা পরিষদে ৫ কোটি টাকার টেন্ডার ঘাপলা । ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে জেলা পরিষদের রঘব-বোয়ালরা


346 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা জেলা পরিষদে ৫ কোটি টাকার টেন্ডার ঘাপলা । ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে জেলা পরিষদের রঘব-বোয়ালরা
আগস্ট ১৮, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

বিশেষ প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষের যোগসাজসে কোন উর্দ্ধদর বা লেস ছাড়াই সমদরে পাতানো লটারির মধ্যদিয়ে প্রায় ৫ কোটি টাকার কাজ ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছে সাতক্ষীরার ঠিকাদাররা। ফলে ৪৬ গ্রুপের কাজে প্রায় সাত হাজার সিডিউল বিক্রি হলেও জমা পড়েছে মাত্র দেড়’শ সিডিউল। পাতানো লাটারীর মাধ্যমে শর্ত সাপেক্ষে কাজ দেয়ার জন্য অগ্রিম ৫% কমিশন হিসেবে নগদ ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ। পাতানো লটারীর মাধ্যমে সমদরে কাজ দেয়ায় সরকারকে অর্ধ কোটি টাকা গচ্চা দিতে হবে বলে জানাগেছে। মঙ্গলবার দুপুরে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের ৪৬ গ্রুপের কাজ ভাগাভাগির মধ্য দিয়ে পাতানো লটারির খেলা সমাপ্তি ঘটেছে।
সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুর রহমানের কাছে পাতানো লটারির বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে বলেন, সবই তো বোঝেন——–। আসলে আমার কিছুই করার নেই। এখানে কি হয় সবই তো আপনাদের জানা রয়েছে। আর ঠিকাদাররা বাইরে থেকে যদি সমঝোতা করে তাহলে আমাদের কিছুই করার থাকে না। ৪৬ গ্রুপ কাজে প্রায় ৭ হাজার সিডিউল বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, সিডিউল জমা দেয়ার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কয়টি সিডিউল  জমা পড়েছে তা এখনও গননা করা হয়নি। তবে প্রতিটি গ্রুপে গড়ে ৩ টা করে জমা পড়তে পারে বলে আমার  ধারণা। ওই কর্মকর্তার হিসাব মতে  ৪৬ গ্রুজ কাজে সিডিউল জমা পড়ার কথা মাত্র ১৩৮টি।
প্রাপ্ত তথ্যে জানাগেছে, সম্প্রতি সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ জেলার বিভিন্ন স্থানে উন্নয়ন কাজের জন্য প্রায় ৫ কোটি টাকার দরপত্র আহবান করে। ১৭ আগস্ট বিকাল ৫ টা পর্যন্ত সিডিউল বিক্রির শেষ সময় ছিল। এসব সিডিউল ড্রপিং এর শেষ সময় ছিল  ১৮ আগষ্ট মঙ্গলবার দুপুর ২ টা পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ে প্রায় ৭ হাজার সিডিউলের মধ্যে মাত্র  দেড়’শ সিডিউল জমা পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে। সর্বমোট  ৪৬ গ্রুপ কাজে মাত্র দেড়’শ  সিডিউল জমা পড়ার বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এদিকে ৫ কোটি টাকার কাজে কোন যোগসাজস ছাড়াই দরপত্র ড্রপিং হলে প্রত্যেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পাওয়ার জন্য অন্তত: ৫% লেস দিয়েই কাজ প্রাপ্তির প্রত্যাশা করতো। এতে সরকার গড়ে ৫০ লাখ টাকার গচ্চ থেকে রক্ষা পেত। কিন্তু সেটি না করে কর্তৃপক্ষের যোগসাজসে ৫% কমিশন হিসেবে নগদ ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে সমদরে অর্থাৎ সরকারে দেয়া মূল্যই কাজে লাগিয়েছে ঠিকাদাররা। জেলা পরিষদের একাধিক ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ঠিকাদাররা জানান, সাতক্ষীরা ডিসি অফিস ও এলজিইডি অফিসে সিডিউল বিক্রির কথা থাকলেও সেখানে জেলা পরিষদ কোন মানি রিসিড পাঠায়নি। ফলে ডিসি অফিস ও এলজিইডি অফিস থেকে কোন সিডিউল বিক্রি করা সম্ভব হয়নি।
সূত্রমতে জনৈক ঠিকাদার শামসুজ্জামান টুকু ও মোস্তাফিজুর রহমান লিটু পাতানো লটারীর মূল সমন্বয়কারীর ভূমিকা পালন করেছে। তাদের নের্তৃত্বেই ১৭ আগষ্ট রাতে ঠিকাদারদের মধ্যে সমঝোতা হয়। পাতানো লটারীর সকল কারিকুল্যাম সম্পন্ন করেছেন টুকু ও লিটু। আর এদের সাথে যুক্ত হয়েছে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের কয়েক জন রাঘব-বোয়াল।

এ ব্যাপারে ঠিকাদার টুকু ও লিটুর সাথে যোগাযোগ করে তাদেরকে পাওয়া যায়নি।