সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসককে বঙ্গমাতার জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে বই উপহার দিলেন নওরোজ কিতাবিস্তান


2973 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসককে বঙ্গমাতার জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে বই উপহার দিলেন নওরোজ কিতাবিস্তান
আগস্ট ৯, ২০২০ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

আবু ছালেক ::

শনিবার সন্ধায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসককে বঙ্গমাতার জন্ম বার্ষিকি উপলক্ষে বই উপহার দিলেন নওরোজ কিতাবিস্তান লাইব্রেরি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিনী, বঙ্গ মাতা ফজিলাতুন্নেছার জন্ম বার্ষিকি উপলক্ষে, বাংলাদেশের স্হপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে, যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির লেখা মামির জন্ম বার্ষিকি তে” গীতারায়” বই টি সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামালকে উপহার দিলেন ঢাকা বাংলা বাজারের নওরোজ কিতাবিস্তানের সত্বাধিকারি,বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সাতক্ষীরা জেলা শাখার আহবায়ক কমিটির সদস্য মনজুর খান চৌধুরি চন্দন। বই পড়ুন জ্ঞান অর্জন করুন,
পবিত্র কোরআনের সর্বপ্রথম যে বাণী হযরত মুহাম্মদ (সা.) শুনতে পেয়েছিলেন তাতে আছে ‘আল্লামা বিল কলমি’ অর্থাৎ আল্লাহ মানুষকে জ্ঞান দান করেছেন, ‘কলমের মাধ্যমে’। আর কলমের আশ্রয় তো পুস্তকে। পবিত্র কোরআনে আরও বলা হয়েছে, ‘পড় তোমার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। নবী করিম (সা.) এক হাদিসে উল্লেখ করেছেন, ‘ঘণ্টাখানেকের জ্ঞান সাধনা সমগ্র রজনীর ইবাদত অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ’। এখানে জ্ঞান সাধনা বলতে মূলত বই পড়ার ওপর সর্বাধিক তাগিদ দেয়া হয়েছে। সনাতন ধর্মের কঠোপনিষদের ৪ নং শ্লোকে লেখা হয়েছে ‘দুরমেতে বিপরীতে বিষূচী অবিদ্যা যা চ বিদ্যেতি জ্ঞাতা’ অর্থাৎ-বিদ্যা বলতে এখানে জ্ঞানকে বুঝানো হয়েছে। যে জ্ঞান মানুষের চরম লক্ষ্য। আর এই চরম লক্ষ্যে পৌঁছাতে গেলে বিদ্যা শিক্ষা অর্থাৎ বইয়ের কোনো বিকল্প নেই। অন্যদিকে বাইবেল শব্দের অর্থই হলো ‘বই’।
আল্লামা শেখ সা’দী বলেন, ‘জ্ঞানের জন্য তুমি মোমের মতো গলে যাও। কারণ জ্ঞান ছাড়া তুমি খোদাকে চিনতে পারবে না।’ বারট্রান্ড রাসেল বলেছেন, ‘সংসারে জ্বালা-যন্ত্রণা এড়ানোর প্রধান উপায় হচ্ছে, মনের ভেতর আপন ভুবন সৃষ্টি করে নেওয়া এবং বিপদকালে তার ভেতর ডুব দেওয়া। যে যত বেশি ভুবন সৃষ্টি করতে পারে, ভবযন্ত্রণা এড়ানোর ক্ষমতা তার ততই বেশি হয়।’
আসলে চেতনার বিপ্লবে বইয়ের কোনো বিকল্প নেই। একজন সৃষ্টিশীল মানুষ পৃথিবীতে বইয়ের বিকল্প কিছুই চিন্তা করতে পারেন না। সমাজ বদলাতে হলে বই পড়ার বিকল্প নেই। বই মানুষের জীবন সঙ্গী। বই অবসরের প্রিয় বন্ধু। বই পাঠ মানুষকে সত্য পথে চলতে, মানবতার কল্যাণে অনুপ্রাণিত করে। বই সুখের সময় মানুষের পাশে থাকে। দুঃখের সময় মনোবল বাড়াতে সাহায্য করে। যে লোকটি বইকে নিত্যদিনের সঙ্গী বানিয়েছে, সেই লোকটি সমাজের অন্য ১০ জন মানুষ চেয়ে ভিন্ন। তার মন-মনন আলাদা। চিন্তাচেতনা ভিন্ন। সহিষ্ণুতা আর বিশ্বাসের ধরনটাও আলাদা। ইচ্ছা করলেই বিবেক বিক্রি করে তিনি নষ্ট পথে ধাবিত হতে পারেন না। এক কথায় যিনি জ্ঞানী তিনি কখনই সমাজ বিপর্যয়ী কাজে অংশ নিতে পারেন না। একজন পাঠক মাত্রই জ্ঞানের সাধক।
আদিকাল থেকে তাই বইয়ের প্রতি এত কদর, এত ভালোবাসা। এক সময় লাইব্রেরিগুলোতে পাঠকের উপচেপড়া ভিড় লেগে থাকত। যদিও এখন অধিকাংশ লাইব্রেরি পাঠকশূন্য। প্রযুক্তির কারণে বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ সাইটের মোহ আর অনলাইনে পাঠ সামগ্রীর প্রাচুর্যে পাঠক এখন কিছুটা বইবিমুখ। কিন্তু পাঠক হ্রাসের ভিন্ন কারণও রয়েছে। আর্থিক দৈন্যতা, মেধার যথার্থই মূল্যায়ন না করা, জ্ঞানী-গুণীর প্রতি শ্রদ্ধা না করা। মানুষের বদ্ধমূল ধারণা পুঁজিবাদী এই সমাজ ব্যবস্থায় বই পড়ে কী হবে? অধিকাংশই জ্ঞান অর্জনের চেয়ে অর্থ রোজগারে থাকেন অভ্যস্ত। তাই বই পড়া থেকে অনেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। পুঁজিবাদী এই সমাজ ব্যবস্থায় অনেকে শিল্পপতি, আঙ্গুল ফুলে হঠাৎ ধনী হয়েছেন। তাদের ধারণা বই পড়ে কী হবে? পৃথিবী তো টাকার গোলাম। টাকার কাছে হেরে যাচ্ছে মেধা-মনন আর সততা। টাকা হলে এই যুগে হাতের কাছে সব মেলে।
এক সময়ে সব পেশার মানুষ কম-বেশি বইয়ের ভুবনে ডুবুরির মতো ডুবে থাকতেন। যান্ত্রিক সভ্যতার এই যুগে এখন তেমন কেউ আর বই পড়তে চান না। বিশেষ করে রাজনীতিকরা প্রচুর বই পড়তেন। বড় রাজনীতিক হতেন। দলের তাত্ত্বিক নেতা হিসেবে পরিচিত হতেন। সারা পৃথিবীর খোঁজখবর রাখতেন। জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করতেন। প্রত্যেক রাজনীতিকের ব্যক্তিগত একটি লাইব্রেরি ছিল। ছিল তাদের চমৎকার সংগ্রহশালা। তারা রাজনীতি করতেন, পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতেন। আর দিন-রাতের নির্ধারিত একটি নির্দিষ্ট সময়ে পড়াশোনা করতেন। নানা বিষয়ে গবেষণা করতেন।
আইনজীবীরা সমাজের এক একজন সম্মানিত ব্যক্তি। এক সময় এই বিজ্ঞ আইনজীবীরা সকাল-সন্ধ্যা বই পড়তেন। আইনের নিত্য নতুন বই সংগ্রহ করতেন। দেশ-বিদেশের আইনের জার্নাল পড়তেন। শিক্ষক মানুষ গড়ার কারিগর। সমাজের সবচেয়ে একজন সম্মানিত ব্যক্তি। তারা এক সময় বই পড়তেন। কোথায় হারিয়ে গেল সেই আদর্শ? কোথায় আজ সেই আদর্শ সুুশিক্ষক? তারা এক সময় সৃষ্টিশীল বই লিখতেন।বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের লাইব্রেরিতে বিভিন্ন ধরনের ৮৫ হাজারের বেশি বই আছে। বই পড়ে মানুষ জ্ঞানী হয়, তার মধ্যে প্রকৃত মনুষ্য গুণাবলী তৈরি হয়। তাই আবেগ নয়, প্রচলিত সামাজিক অবস্থান থেকে আপনি যতই বিমুখ হন না কেন প্রতিদিন আপনাকে কিছু সময়ের জন্য হলেও বই পড়তে হবে। এ ব্যাপারে প্রতিদিন কিছু সময় বরাদ্দ করতে হবে। মনে রাখবেন, একটি সৃষ্টিশীল পৃথিবী বিনির্মাণে বইয়ের বিকল্প কিছুই নেই। সৈয়দ মুজতবা আলী একটি উধাহরন দিয়ে বোঝাইয়াছেন , ‘ধনীরা বলে, পয়সা কামানো দুনিয়াতে সবচেয়ে কঠিন কর্ম। কিন্তু জ্ঞানীরা বলেন, না জ্ঞানার্জন সবচেয়ে শক্ত কাজ। এখন প্রশ্ন কার দাবিটা ঠিক, ধনীর না জ্ঞানীর? আমি নিজে জ্ঞানের সন্ধানে ফিরি, কাজেই আমার পক্ষে নিরপেক্ষ হওয়া কঠিন। তবে একটা জিনিস আমি লক্ষ্য করেছি, সেইটে আমি বিচক্ষণ জনের চক্ষুগোচর করতে চাই। ধনীর মেহনতের ফল হলো টাকা। সে ফল যদি কেউ জ্ঞানীর হাতে তুলে দেয়, তবে তিনি সেটা পরামানন্দে কাজে লাগান এবং শুধু তাই নয়, অধিকাংশ সময়ে দেখা যায়, জ্ঞানীরা পয়সা পেলে খরচ করতে পারেন ধনীদের চেয়ে অনেক ভালো পথে, উত্তম পদ্ধতিতে। পক্ষান্তরে, জ্ঞানচর্চার ফল সঞ্চিত থাকে পুস্তকরাজিতে এবং সে ফল ধনীদের হাতে গায়ে পড়ে তুলে ধরলেও তারা তার ব্যবহার করতে জানে না।বই পড়তে পারে না’। অতএব প্রমাণ হলো জ্ঞানার্জন ধনার্জনের চেয়ে মহত্তর। আসলে ধন সাময়িক মাত্র। এই পৃথিবীতে প্রকৃত জ্ঞানী-গুণীরা চিরদিন অমর হয়ে থাকবেন এবং আছেন।
তাই আসুন প্রতিদিন একটি করে সৃজনশীল বই পড়ি। ফিরে যাই জ্ঞানের ভুবনে। গড়ে তুলি জ্ঞানভিত্তিক একটি সমাজ ব্যবস্থা। সবাই মিলে পাড়ায় পাড়ায় একটি করে লাইব্রেরি গড়ে তুলি। পাঠ্যাভাসে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করি। জ্ঞানের মশাল প্রজ্বলিত করার দৃঢ় প্রত্যয়ে-‘এসো বই পড়ি-দেশ গড়ি’। এই স্লোগানকে সামনে রেখে বইকে আমৃত্যু সাথী করে রাখি। প্রিয়জনকে উপহার হিসেবে একটি বই প্রদান করি। জ্ঞান-বিজ্ঞানে উন্নত জাতিই পৃথিবীতে আজ শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে। মনে রাখতে হবে, বইবিমুখ জাতি কখনো জ্ঞান-বিজ্ঞানে উন্নতি সাধন করতে পারে না। জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা ছাড়া একটি সমাজ স্থায়ী হতে পারে না। বই না পড়লে একটি দেশে জ্ঞানী-গুণীর সমাবেশ ঘটে না। আর একটি দেশে গুণী না থাকলে দেশও সঠিক পথে চলে না। বই পড়ে নিজে জ্ঞান অর্জন করি, অন্যদের উৎসাহিত করি,আসুুন আমরা সবাই আজ থেকে সফত করি, বই পড়ব জ্ঞান অর্জন করব এটাই হোক আমাদের অঙ্গিকার।