প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ভোমরা স্থল বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের ডাকা ধর্মঘট ৫ ঘন্টা পর প্রত্যাহার


341 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
প্রশাসনের  হস্তক্ষেপে ভোমরা স্থল বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের ডাকা ধর্মঘট ৫ ঘন্টা পর প্রত্যাহার
অক্টোবর ২৭, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক :
শ্রমিক-কর্মচারী ধর্মঘাটের কারণে ৫ ঘন্টা বন্ধ থাকার পরে আবারও সচল হয়েছে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থল বন্দর। মঙ্গলবার সকালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর সদস্যরা বন্দরের জিয়ো পয়েন্টে দুই কর্মচারীকে মারপিট করার ঘটনার প্রতিবাদে কর্মচারী ধর্মঘাটের ডাক দেয় ভোমরা বন্দর শ্রমিক কর্মচারী এসোসিয়েশন। ফলে সকাল সাড়ে ১১ টায় বন্ধ হয়ে যায় বন্দরের আমদানী-রপ্তানি।

ভেমরা বন্দর কর্মচারী এসোসিয়েশনের নেতারা জানায়, বিনা কারণে বিজিবি’র সদস্যদের মারপিঠ করে। বিজিবি’র স্থানীয় কোম্পানী কমান্ডার সরোয়ার হোসেন মারপিঠের ঘটনা সঠিক নয় দাবী করে জানান, ধর্মঘাট তারা ইচ্ছে করে ডেকেছে। তবে বিকেলে জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসানের হস্তক্ষেপে ৫ ঘন্টা পরে ধর্মঘাট প্রত্যাহার করে আন্দোলনরত শ্রমিকরা।

ভোমরা সিএন্ডএফ কর্মচারী এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আলম মিলন জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় স্থানীয় বিজিবি’র সদস্যরা তাদের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা আসবে বলে ভারত থেকে পণ্যবাহী ট্রাক আসা বন্ধ করে দেয়। পরে সকাল সাড়ে ১০টায় ৩৮ বিজিবির উপ অধিনায়ক মেজর মোজাম্মেল হক পরিদর্শনে এসে সেঁজুতি এন্টারপ্রাইজের পণ্য স্যানিং করান। এ সময় ভারতের সীমান্তে দাঁড়ানো একটি ফলের ট্রাক বন্দরের কর্মচারী গোলাম রসুলকে আনার জন্য বলেন। কিন্তু ছাড়পত্র না থাকায় গোলাম রসুল আনতে অস্বীকৃতি জানালে বিজিবিরা তাকে শারিরীকভাবে ঐ কর্মকর্তার সামনে লাঞ্চিত করে। এ সময় ঘটনার প্রতিবাদ করলে কর্মচারী আব্দুস সবুরকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখে। পরে সিএন্ডএফ এর কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে তাকে ছেড়ে দেয় বিজিবি। এ ঘটনায় কর্মচারীরা বিজিবি সদস্যদের বিচারের দাবীতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘাট আহবান করে। বিজিবি’র ভোমরা কোম্পানী কমান্ডার সরোয়ার হোসেন জানান, বিজিবি কারোর উপর কোন হামলা করে নি। এ ধরণের কোন ঘটনা এখানে ঘটেনি। কর্মচারীরা নিজেরা ধর্মঘাট ডেকেছে। প্রয়োজনে তারাই আবার ধর্মঘাট তুলে নেবে।

৩৮ বিজিবি’র উপ অধিনায়ক উপ-অধিনায়ক মেজর মোজাম্মেল হক জানান, পন্য স্কেলিংয়ের সময় বিজিবি’র নোট নেয়ার নির্দেশনা ছিল। সে মোতাবেক সেঁজুতি এন্টারপ্রাইজের পন্য স্কেলিংয়ের সময় বিজিবি নোট নিচ্ছিল। এ সময় আব্দুস সবুর ও গোলাম রসুল নোট নেয়ার কারন জিজ্ঞাসা করে বিজিবি’র সাথে দুর্ব্যাবহার করে। এতে বিজিবি’র সাথে তাদের বচসা হয়। তবে লাঞ্চিত করার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

স্কেলিংয়ের সময় বিজিবি’র উপস্থিতি ও পণ্যে পরিমাপের নোট নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ভোমরা স্থল বন্দর শুল্ক স্টেশনের সহকারী কমিশনার শরীফ আল আমিন জানান, পণ্য পরিমাপের সময় বিজিবিকে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা দেয়ার বিষয়টি তার জানা নেই।

ভোমরা সিএন্ডএফ এসোসিয়েশনের আহবায়ক নাছিম ফারুক খান মিঠু জানান, বন্দরের কার্যক্রম কয়েকঘন্টা বন্ধ থাকায় উভয় পার্শে ট্রাকের সারি দাঁড়ানো ছিলো। ভোমরা সিএন্ডএফ এসোসিয়েশনের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম রাতে জানান, বিজিবির সাথে একটি ঘটনায় কর্মচারীরা ধর্মঘাট করেছিলো। বিকেলে জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসানের আশ্বাসে ধর্মঘাট প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, জেলা প্রশাসক আগামীতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ট্যাক্সফোর্সের সভায় ভোমরা সিএন্ডএফ এসোসিয়েশন, কর্মচারী এসোসিয়েশন, কাস্টমস ও বিজিবি নেতৃবৃন্দদের নিয়ে আলোচনা করবে। সেখানে বিষয়টি নিয়ে আলোচানা করার আশ্বাস দেওয়ায় শ্রমিকরা বিকেল সাড়ে ৪টায় ধর্মঘাট প্রত্যাহার করে। ফলে বিকেল থেকে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।