সাতক্ষীরা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহি কুটির শিল্প


942 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহি কুটির শিল্প
সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৮ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

আবু ছালেক ::
সাতক্ষীরা জেলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী কুটির শিল্প। বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির প্লাষ্টিকের কদর বাড়ায় ও প্রয়োজনীয় পুঁজির অভাবে সাতক্ষীরা জেলা বাঁশ ও বেতের তৈরি কুটির শিল্পের কারিগরদের মাঝে নেমে এসেছে দুর্দিনের ছায়া। কিন্তু কালের বিবর্তনের কারণে ব্যবহারিক জীবনে অতি প্রয়োজনীয় বাঁশ ও বেতের তৈরি কুটির শিল্প আজ হারিয়ে যাচ্ছে। সভ্যতার অগ্রযাত্রায় কুটির শিল্প সামগ্রীর চাহিদা কমতে থাকা, বাঁশ ও বেতের দাম বেড়ে যাওয়া, ঋণের ভার আর দাদনে যে তাদের কাঁধে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জানা যায়, বাঁশ ও বেত শিল্পের সঙ্গে জড়িত শত শত পরিবার বর্তমানে চরম দুর্দিনের মধ্যে দিন যাপন করছে। সাতক্ষীরার শত শত পরিবার দীর্ঘদিন যাবৎ বাঁশ ও বেত শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে তারা নানা সমস্যায় জর্জরিত। প্রয়োজনীয় ঋণ, পুঁজি, মজুরি কম থাকার কারণে বিভিন্ন গ্রাম থেকে প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী বাঁশ ও বেত শিল্প ক্রমান্বয়ে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত শত শত শ্রমিক আজ প্রায় বেকারত্ব জীবনযাপন করছে। এসব শ্রমিক বংশানুক্রমে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত।
গ্রামের ঘরে এখন আর এগুলো আগের মত চোখে পড়ে না। অথচ একদিন গ্রাম ছাড়া বাঁশ-বেতের জিনিস কিংবা এসব ছাড়া গ্রাম কল্পনা করাও কঠিন ছিল। যেখানে বসতি সেখানেই বাঁশ, বেতের তৈরির জিনিস পত্র কিন্তু আজ তা আমাদের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য থেকে মুছে যাচ্ছে। এই গ্রাম বাংলার কুটির শিল্প নিয়ে কবি সাহিত্যিক রচনা করেছেন কবিতা গল্প। বাউলরা গেয়েছেন গান। আগে গ্রামের প্রায় বাড়িতেই বাঁশ, বেত দিয়ে তৈরি করা হতো হরেক রকমের সরন্জাম। জীবিকা অর্জনের মাধ্যম ও ছিল বাঁশ, বেত।এক সময় সাতক্ষীরা জেলার বাঁশের ব্যাপক চাষ করা হত। সামান্য যত্ন আর বিনা খরচে গড়ে ওঠত বাঁশের বাগান। আর পুকুর পাশে জন্ম নিতো বেত। কিন্তু আজ কালের বিবর্তনে সেই বাঁশ ও বেত বাগান বিলীন হতে চলেছে। তবুও থেমে নেই কারিগররা। নারী-পুরুষ নির্বেশেষে প্রতিদিন গৃহস্থলী সামগ্রী তৈরীর কাজে ব্যাস্ত তারা। জেলায় বেশ কয়েকটি গ্রামে শত শত কারিগর বাশেঁর তৈরী গৃহস্থলী সামগ্রী তৈরী করে জীবিকা নির্বাহ করছে। দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে বাঁশ শিল্পের সাথে জড়িত রয়েছেন তারা।
সাতক্ষীরা জেলার সদরের ফিংড়ী ইউনিয়নের দক্ষীন ফিংড়ী গ্রামে দাশ পাড়াই নারী -পুরুষ তাদের নিপুণ হাতে তৈরি কুলা, চাটাই, হাঁস-মুরগির খাঁচা, সাজি, ঢাকনা, চালনি, পালা, খাঁচা, মোড়া বেতের ধামা, পাতিল, চেয়ার, টেবিল, দোলনা, খারাই, পাখা, বই রাখার র‌্যাক, ঘুনি, ডালা, ঝুড়ি ইত্যাদি মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় শিল্পসামগ্রী জেলার চাহিদা মিটিয়ে পাশ্ববর্তী জেলা ও বাজার গুলোতে বিক্রি করে। কুঠির শিল্প কারিগররা জানান, পুর্ব পুরুষ থেকে এ পেশায় জড়িত রয়েছেন তারা। আগে এক একটি বাঁশ কিনতে হতো ৫০ থেকে ১২০ টাকা দরে। আর এখন প্রতিটি বাঁশ কিনতে হচ্ছে ২০০ থেকে ৩৫০ টাকায়।এক সময় গ্রামীন বাজারে বাঁশের তৈরী পন্যের বেশ চাহিদা থাকলেও বর্তমানে প্লাষ্টিক পন্যের কারনে এ শিল্প এখন বিলুপ্তির পথে। সেই সাথে বাঁশের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় তারা সমস্যায় ভুগছেন, ছেলে-মেয়ে নিয়ে কষ্টে দিনাতিপাত সহ তাদের চরম দুর্দিন যাচ্ছে এখন। তারা আরো জানায়, প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাব, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং প্লাস্টিক সামগ্রীর অতি ব্যবহারে এখন এই অঞ্চলের বাঁশ ও বেত শিল্প প্রায় বিলুপ্তির পথে। ফলে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা এক প্রকার বাধ্য হয়ে তাদের পৈতৃক পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে।
কারিগরদের দাবী সরকারি পৃষ্ঠ পোষকতা, সহজ শর্তে ঋনের সুবিধা পেলে পুনরায় উজ্জীবিত হবে এ শিল্প । বাঁশ শিল্প কেন্দ্রিক সরকারি বেসরকারি উদ্যেগ গ্রহনে ভাগ্য বদল হতে পারে এ অঞ্চলের কারিগরদের ।প্রতি শনিবার ও প্রতি মঙ্গলবার ব্যাংদহা হাটে এখনও বিক্রয় হচ্ছে কুটির শিল্পের জিনিষ পত্র তা আবার চাহিদা তুলনায় অনেক কম,ঐতিহ্যবাহি এ শিল্পকে বাচাতে হলে এগিয়ে আসতে হবে সমাজসেবক সহ উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে।