সাতক্ষীরা দিবা-নৈশ কলেজে অধ্যক্ষ পদে ২৫ লাখ টাকা নিয়োগ বানিজ্য !


447 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা দিবা-নৈশ কলেজে অধ্যক্ষ পদে ২৫ লাখ টাকা নিয়োগ বানিজ্য !
আগস্ট ৪, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

বিশেষ প্রতিনিধি :

সাতক্ষীরা দিবা-নৈশ কলেজের অধ্যক্ষ নিয়োগ নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ২৫ লাখ টাকার  বিনিময়ে এ কে এম শফিকুজ্জামান নামের একজন প্রার্থীকে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেয়ার সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে নিয়োগ বোর্ড তাকে সিলেকশন দিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করে পাঠিয়েছেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন পেলেই তিনি অধ্যক্ষপদে যোগদান করবেন বলে জানাগেছে। সাতক্ষীরা জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রের সুপ্রতিষ্ঠিত এই কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগ নিয়ে মোটা অংকের অর্থবানিজ্যের খবরে কলেজের অভিভাবকবৃন্দ  ও সচেতম মহল রিতিমত হতবাক হয়েছেন।
এদিকে, একই নিয়োগ বোর্ডের মাধ্যমে অর্থনীতি ও কৃষি শিক্ষা বিষয়ে দুইজন প্রভাষক  নিয়োগ দেয়ার কথা থাকলেও অধিকাংশ প্রার্থী অর্থবানিজ্যের বিষয়টি আগে থেকেই জানতে পেরে নিয়োগ বোর্ডে অংশ না নিয়ে নীরব প্রতিবাদ জানিয়েছে। নিয়োগবোর্ডে প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রার্থী কলেজে উপস্থিত থাকলেও নিয়োগ পরীক্ষায়  হাজির হননি তারা। বিধায় ওই দুই পদে কাউকে নিয়োগ দিতে পারেনি গঠিত নিয়োগ বোর্ড।
তথ্যানুসন্ধানে জানাগেছে, গত ১৪ জুলাই সাতক্ষীরা দিবা-নৈশ কলেজের অধ্যক্ষ, কৃষি শিক্ষা ও অর্থনীতি বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগের জন্য নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্টিত হয়। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় প্রকাশের পর অধ্যক্ষ পদে ৯ জন, অর্থনীতি বিষয়ে ১১ জন এবং কৃষি শিক্ষা বিষয়ে ৩ জন প্রার্থী আবেদ করেন। গত ১৪ জুলাই কলেজেই এই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ৫ সদস্যের নিয়োগ বোর্ডে উপস্থিত ছিলেন, কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাতক্ষীরা সদর আসনের এমপি মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, কলেজ পরিচালনা পরিষদ সদস্য শেখ নূরুল হক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়রে প্রতিনিধি হিসেবে খুলনা বি এল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের উপাধ্যক্ষ দর্প নারায়ন শাহ , ডিজি প্রতিনিধি হিসেবে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর লিয়াকত পারভেজ ও দিবা-নৈশ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাঙ্গিলাল সরকার।
একাধিক প্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে জানান, নিয়োগ পরীক্ষার আগেই অধ্যক্ষসহ তিন পদে কাদেরকে নিয়োগ দেয়া হবে তা ঠিক করেন কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি । এসব প্রার্থীদের কাছে থেকে অগ্রীম টাকাও নেয়া হয় বলে তাদের অভিযোগ। তারা বলেন, নিয়োগ পরীক্ষার দিন প্রার্থীরা দিবা-নৈশ কলেজে পৌছে মোটা অংকের অর্থবানিজ্যের বিষয়টি জানাতে পেরে তারা নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ না নিয়ে নীরব প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
জানাগেছে, অধ্যক্ষ পদে ৯ জনের মধ্যে মাত্র ৩ জন, অর্থনীতি বিষয়ে ১১ জনের মধ্যে মাত্র ২ জন প্রার্থী নিয়োগ বোডেৃ হাজির হন। কৃষি শিক্ষা পদে ৩ জনের কেউ নিয়োগ বোর্ডে হাজির হননি। নিয়োগ বোর্ডে প্রতিটি বিষয়ে কমপক্ষে ৩ জন প্রার্থী হাজির হওয়ার সরকারি নিয়ম থাকায় অর্থনীতি ও কৃষি শিক্ষা বিষয়ে নিয়োগ দিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বোর্ড। প্রার্থীরা জানান, অধ্যক্ষ পদে যে ৩ জন অংশ নিয়ে নিয়োগ বোর্ডের কোরাম পুরণ করেছেন তারা সবাই প্রার্থী (হাজি কিয়ামদ্দিন কলেজের দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ) এ কে এম শফিকুজ্জামানের সমর্থক। এরা হলেন, দেবহাটার হাজী কিয়ামদ্দিন কলেজের শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান (শফিকুজ্জামানের সহকর্মী )  ও যশোরের ঝিকরগাছার গঙ্গানন্দপুর কলেজের শিক্ষক আবু সাঈদ।
প্রার্থীরা জানান, প্রায় ২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে অধ্যক্ষ পদে দেবহাটার হাজী কিয়ামদ্দিন কলেজের শিক্ষক এ কে এম শফিকুজ্জামানকে সিলেকশন দেয়া হয়েছে। নিয়োগ বোর্ড ও কলেজ পরিচালনা কমিটি ইতোমধ্যে তাকে নিয়োগ দেয়ার জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সুপারিশ করে পাঠিয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন পেলেই তিনি অধ্যক্ষের চেয়ারে বসবেন। নিয়োগ বোর্ডের সুপারিশ নিয়ে এ কে এম শফিকুজ্জামান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে দৌড়ঝাপ করছেন বলে জানাগেছে।
অর্থনীতি বিষয়ের একাধিক প্রার্থী অভিযোগ করে বলেন, নিয়োগ পরীক্ষার আগেই অর্থনীতি বিষয়ে ঝুমারাণী দাশ নামের এক মহিলা প্রার্থীর সাথে মোটা অংকের টাকা চুক্তি করা হয়। তার বাড়ি আশাশুনিতে এবং তার স্বামী একজন ব্যাংকার । তার কাছ থেকে নিয়োগ দেয়ার নামে অগ্রীম টাকাও নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে । কিন্তু এই পদে কোরাম পুরোণ না হওয়ায় তাকে নিয়োগ দিতে পারেনি। প্রার্থীরা নিয়োগ পরীক্ষার দিন কলেজে হাজির হয়ে মোটা অংকের অর্থবানিজ্যের খবর জানতে পারেন। এ সময় অধিকাংশ প্রার্থী একজোট হয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ না নিয়ে অর্থ বানিজ্যের নীরব প্রতিবাদ জানান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা আরো বলেন, কলেজ পরিচালনা কমিটির  সভাপতি ও পতিপয় সদস্য এই নিয়োগ বানিজ্যের সাথে জড়ীত।  বিষয়টি যথাযথ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি তাদের।
এ ব্যাপারে এ কে এম শফিকুজ্জামান ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে জানান, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে তাকে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় গত ৩ আগষ্ট তাকে এপদে নিয়োগের অনুমোদনও দিয়েছেন। তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ৯ জনের মধ্যে যে ৩ জন নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন তাদের মধ্যে সিদ্দিকুর রহমান আমার সহকর্মী। অপর প্রার্থী আবু সাঈদকে আমি চিনিনা। কত টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পেয়েছেন জানতে চাইলে, তিনি কিছু সময় চুপ করে থাকেন, ———-পরে বলেন আমার একটি টাকাও খরচ হয়নি।
নিয়োগ বোর্ডের ডিজি প্রতিনিধি অধ্যক্ষ লিয়াকত পারভেজ ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে জানান, তিন পদের মধ্যে ২টি পদে প্রয়োজনীয় সংখ্যক (৩ জন) প্রার্থী না থাকায় ২টি পদে নিয়োগ পরীক্ষা নেয়া যায়নি। এই ২টি পদে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে পরীক্ষা নেয়া হবে। অধ্যক্ষ পদে ৯ জনের মধ্যে ৩ জন প্রার্থী অংশ নেয়। এপদে কোরাম পুরণ হওয়ায় নিয়মমাফিক পরীক্ষা নিয়ে প্রার্থী সিলেকশন দেয়া হয়েছে। আমার জানামতে কোন অনিয়ম হয়নি। অর্থবানিজ্যের বিষয়টি আমার জানা নেই।
এ ব্যাপারে কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি,সাতক্ষীরা সদর আসনের এমপি মীর মোস্তাক আহমেদের সাথে কথা বলার জন্য মঙ্গলবার সকাল ৯ টার পর থেকে একাধিক বার তার ব্যবহ্নত সেল ফোনে কথা বলার জন্য চেষ্টা করে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। সকাল ১০ টা ২০ মিনিটের সময় পুনরায় তার ফোনে রিং করলে সে-টি খোলা থাকলেও তিনি রিসিভ করেননি। বেলা পৌনে ১১ টায় দ্বিতীয় দফায় রিং করলে তিনি তা ধরেননি (০১৭৪০-৫৬৮০২০ নম্বর থেকে রিং করা হয় )।