সাতক্ষীরা পৌরসভার ডাস্টবিন অব্যবস্থাপনায় পরিবেশ দূষণ !


546 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা পৌরসভার ডাস্টবিন অব্যবস্থাপনায় পরিবেশ দূষণ !
অক্টোবর ১৫, ২০১৮ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

*স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে দেড় লক্ষাধিক মানুষ

॥ আসাদুজ্জামান সরদার ॥

সাতক্ষীরা পৌরসভার ডাস্টবিন অব্যবস্থাপনার কারণে তীব্র পঁচা-দুগর্ন্ধে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। ফলে স্বাস্থ্যঝুকিতে পড়ছে পৌর এলাকার বসবাসকারী প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ। পৌর এলাকার সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ, ডে নাইট কলেজসহ বিভিন্ন এলাকায় ডাস্টবিন বাতাস দূষিত হয়ে পড়েছে। পঁচা দুর্গন্ধের কারণে স্কুল ও কলেজের কয়েক হাজার ছাত্র-ছাত্রী, তাদের অভিভাবক ও পথচারিরা চরম বিপাকে পড়েছে। ওই ডাস্টবিনের সামনে দিয়ে তারা মুখ চেপে কোন রকমে চলাচল করে। বিশেষ করে শিশু শিক্ষার্থীরা চরম স্বাস্থ্য ঝুকির মধ্যে পড়েছে বলে বিশেষজ্ঞ মহলের অভিমত। পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, পৌর এলাকার প্রায় দেড় লক্ষ মানুষের জন্য ১১০টি ডাস্টবিন আছে। কিন্তু বাস্তবে আছে মাত্র ৬০ থেকে ৭০টি। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন কাজে আছে মাত্র ২১ জন পরিচ্ছন্ন কর্মী। শহরের ইটাগাছা হাটের মোড় ও পাওয়ার হাউজ সংলগ্ন এলাকার একটি করে ট্রান্সফার স্টেশন আছে। প্রতিদিন ১৬ টন বর্জ্য শহরের উপকণ্ঠে একমাত্র ডামপিং স্টেশন নিয়ে যাওয়া হয়। তারপরও যানবাহন স্বল্পতার কারণে সঠিক সময়ে বর্জ্য অপসারণ করতে পারছে না পৌর কর্তৃপক্ষ। সরেজমিনে শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের মেইন গেট থেকে ১শ’ গজ দুরে, সরকারি মহিলা কলেজের উত্তর পাশে শহীদ আব্দুর রাজ্জাকের কবর সংলগ্ন ও ডে নাইট কলেজের পশ্চিমপাশে সাতক্ষীরা পৌরসভার একটি করে ডাস্টবিন ছিলো কিন্তু বর্তমানে তার অস্তিত্ব নেই। ইটাগাছা হাটের মোড় এলাকায় সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জ সড়কের উপর আবর্জনার স্তুপ, সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে আবাসিক এলাকায়ও একই দশা। শুধু এসব এলাকায় নয়, পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডে অব্যবস্থাপনার মধ্যদিয়ে চলছে বর্জ্য অপসারণের কাজ। ডাস্টবিনের চার পাশ ঘেরার নিয়ম থাকলেও অধিংকাশ জায়গায় কোন ঘেরা দেওয়া নেই। মানুষের চলাচলের রাস্তায় খোলা ডাস্টবিন ময়লা আবর্জনার ছড়াছড়িতে দুর্গন্ধে মানুষ অতিষ্ঠ। প্রতিরাতে পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে যাবতীয় ময়লা-আবর্জনা, বর্জ্য ওই ডাস্টবিনেই ফেলা হচ্ছে। ফলে পঁচা দুর্গন্ধের কারণে ওই এলাকায় চলাচল রীতিমতো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সকালে স্কুল কলেজের কয়েক হাজার শিক্ষার্থীরা দুর্গন্ধের কারণে ওই এলাকা দিয়ে চলাচল করতে পারছে না। এসব এলাকার যে কেউ এসে কান ধরুক আর নাই ধুরুক নাক হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরে চলাচল করা লাগে। ফলে এসব শিশু শিক্ষার্থীরা চরম স্বাস্থ্য ঝুকিতে পড়েছে। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে পৌর কর্তৃপক্ষ উদাসীন হওয়া এসব ডাস্টবিনের কারণে শুধু স্কুলগামী শতশত শিক্ষার্থী নয়, অভিভাবক এবং পথচারিরাও বিপাকে পড়েছে। সরকারি মহিলা কলেজ এলাকার একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, কলেজের পিছনের ডাস্টবিনের অব্যবস্থাপনার কারণে চলাচল দুস্কর হয়ে পড়েছে।

শহরের সরকারি এলাকার আব্দুল করিম জানান, সাতক্ষীরা পৌরসভার দায়িত্ব প্রতিদিন সূর্য উঠার আগেই ডাস্টবিনের এসব ময়লা-আবর্জনা সরিয়ে ফেলার কথা থাকলেও। কিন্তু পৌরসভার পরিচ্ছন্নকর্মীরা তা করছে না। তারা সকাল ৮টার পরে ছাড়া ময়লা সরাতে আসছে না। ফলে সকালের বাতাস দ্রুত দূষিত হচ্ছে। এলাকার বাতাস ভারী হয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ ওই এলাকা দিয়ে চলাচল করতে পারছে না। এলাকার ব্যবসায়ীরা পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে ভ্রাম্যমাণ ডাস্টবিন স্থাপনের দাবি জানান তিনি।

সাতক্ষীরা নাগরিক আন্দোলন মঞ্চের আহবায়ক এড. ফাহিমুল হক কিসলু বলেন, জনগণের জনসচেতনতার অভাব কর্তৃপক্ষের অবহেলা, চরম অব্যবস্থাপনা ও উদাসীনতার কারণে শহরের বিভিন্ন সড়কের উপর ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এতে করে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। ফলে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীসহ পৌর এলাকায় বসবাসরত প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে আছে। সাতক্ষীরা পৌর সভার পরিচ্ছন্ন পরিদর্শক ইদ্রিস আলী বলেন, সাধারণ মানুষের কিছুটা গাফিলতি আছে। সে কারণে তার ডাস্টবিন ব্যবহার না করে রাস্তায় বর্জ্য ফেলছে এতে করে পরিবেশ দুষণ হচ্ছে। এছাড়া অনেক প্রভাবশালী বাড়ি তৈরীর সময় ডাস্টবিন গুড়িয়ে দেয়। এতে করে পৌর এলাকার ডাস্টবিনের সংখ্যা কমে গেছে। তবে কেউ জায়গা দিলে আমরা ডাস্টবিন তৈরী করে দেব।

সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান সহকারী প্রশান্ত ব্যানার্জী বলেন, আমাদের যে পরিমাণ যানবাহন থাকার কথা সে পরিমাণ যানবাহন নেই। যা আছে তা লক্কড় ঝক্কড় হয়ে গেছে। সে কারণে বর্জ্য অপসারণ করতে করতে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে যায়। এছাড়া আইলা ও সিডরের পরে উপকূলীয় এলাকার মানুষ কাজের সন্ধানে পৌর এলাকার বসবাস শুরু করায় চাপ বেড়েছে।

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আ. ন. ম গাউসার রেজা বলেন, ময়লা আর্বজনা বাতাস দুষণ করে ও পানি নিস্কাশনের সমস্যা হয়। জীবাণু ছড়ায়, বায়ু ও মাটি দুষণ করে। ময়লা আর্বজনা যত্রতত্র পড়লে পানি দূষণ করে। এর মাধ্যমে রোগ জীবাণু ছড়ায়। বর্জ্য যে কোন এলাকার জন্য দৃষ্টি হানিকর। এছাড়া হাসপাতাল বর্জ্য পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতিকর।

সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা. তওহীদুর রহমান বলেন, ডাস্টবিনের ময়লা আর্বজনার পচা দুর্গন্ধে ছোয়াছে রোগ, ফুসফুস রোগাক্রান্ত হতে পারে। যাদের নাকে এই দুগন্ধ যাবে, তারাই স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়বে। ডাস্টবিন অব্যবস্থাপনার কারণে পৌর এলাকার অধিকাংশ মানুষ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে আছে।

সাতক্ষীরার পৌর মেয়র তাসকিন আহমেদ চিশতি জানান,এ বিষয়ে আমি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।