সাতক্ষীরা পৌরসভায় ডাস্টবিনের পঁচা দুর্গন্ধ : স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে লক্ষাধিক মানুষ


793 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা পৌরসভায় ডাস্টবিনের পঁচা দুর্গন্ধ : স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে লক্ষাধিক মানুষ
নভেম্বর ৩, ২০১৮ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

॥ সৈয়দ রফিকুল ইসলাম শাওন ॥

সাতক্ষীরার পুরো পৌরসভা ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে। ডাস্টবিন থেকে নির্গত দূর্গন্ধে স্বাস্থ্য ঝুুঁকিতে রয়েছে দেড় লক্ষাধিক পৌরবাসি। পরিচ্ছন্নকর্মীদের অবহেলা আর পৌর কর্তৃপক্ষের উদাসিনতায় বর্জ্যস্তুপে পরিণত হয়েছে তিলোত্তমা সাতক্ষীরা। অচিরেই নজরদারি না বাড়ালে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে সাতক্ষীরা পৌরসভা।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, পৌর এলাকার ১১০ টি ডাস্টবিন আছে। এসব ডাস্টবিনে প্রতিদিন প্রায় ১৬ টন বর্জ্য জমা হয়। ডাস্টবিনের বর্জ্য পরিস্কার করার জন্য পরিচ্ছন্ন কর্মী রয়েছেন ২১ জন। শহরের ইটাগাছা হাটের মোড় ও পাওয়ার হাউজ সংলগ্ন এলাকায় একটি করে বর্জ্য ট্রান্সফার স্টেশন রয়েছে। এসব বর্জ্য শহরের বাইরে স্তুপ করার জন্য বিনেরপোতায় একটি ডামপিং স্টেশনও রয়েছে ।
তবে বর্জ্য অপসারণে এতসব ব্যবস্থার পরেও ডাস্টবিনগুলো নিয়মিত পরিস্কার করা হয়না বলে অভিযোগ পৌরবাসির। কিছু কিছু ডাস্টবিন হোটেল-রেস্তোরার পাশে অবস্থিত। ডাস্টবিনের মশা-মাছি ও অন্যান্য জীবাণু হোটেল রেস্তোরার ঢাকনাখোলা খাবার পাত্রে বসার চিত্র অহরহদেখা যায়। এসব খাবার খেয়ে পেটের পীড়াসহ নানাবিধ রোগে ভুগছেন রেস্তোরায় খেতে আসা মানুষেরা। এছাড়া ডাস্টবিনের খাবারখেতে শহরের কুকুরগুলোর জটলাও আতঙ্কে রাখে পৌরবাসির। শহরের অধিকাংশ এলাকায় নাকে রুমাল চেপে পথচারীদের পারাপার নিত্যনৈমিত্তিক দৃশ্য।

সাতক্ষীরা শহরের কাঠিয়া এলাকার খায়রুল ইসলাম জানান, তার মেয়ে জুবিলী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। তিনি প্রতিদিন তার মেয়েকে সাইকেলে করে পৌছে দেন। তবে বাসা থেকেবের হওয়া মাত্রই ফুড অফিস মোড়ে অবস্থিত ডাস্টবিনের তীব্র দুর্গন্ধে তিনি তার মেয়েকে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি সামলে আর একটু এগিয়ে বিদ্যালয়ের সামনে পৌছেই পড়েন আরেক বিপাকে। সেখানেও ডাস্টবিনের পচা দুর্গন্ধে বমির উপক্রম হয়। এমনও হয়েছে, পচা দুর্গন্ধের কারণে তার মেয়ে মাঝে মাঝে বিদ্যালয়ে আসতে চায়না।
পৌরসভার বিভিন্ন রাস্তায় স্বাস্থ্যসচেতন মানুষেরা সকালের নির্মল বাতাসে হাটেন। তারা অভিযোগ করে বলেন, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজরোড, সরকারি মহিলা কলেজরোড, ডে নাইট কলেজমোড়,খালধাররোড,বড়বাজার সংলগ্নরোডসহপৌরসভার অধিকাংশ সড়ক বর্জ্যস্তুপের কারণে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
তবে দায়িত্বহীনতার অভিযোগ অস্বীকার করে পৌরসভার তত্ত্বাবধয়াক পরিদর্শক ইদ্রিস আলী বলেন, পরিবহন সংকটে কিছুটা বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম। তিনি আরো জানান,ল্যাম্পপোস্ট না থাকার কারণে সূর্য্য উঠার আগে পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম চালানো সম্ভব হয়না। এছাড়া আরোকিছু ডাম্পিংস্টেশন নির্মাণ করা প্রয়োজন বলে তিনি দাবি করেন।
সার্বিক বিষয়ে পৌর মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতি বলেন, তিলোত্তমা সাতক্ষীরা গড়তে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে পৌরসভাকে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন করতে আমাদের প্রচেষ্টার ঘাটতি নেই। আরো ডাম্পিং স্টেশন তৈরি করার প্রয়োজনিয়তা রয়েছে। তবে স্টেশন তৈরি করতে জায়গা পাওয়া যায়না বলে উল্লেখ করেন এই পৌরপিতা।
##