সাতক্ষীরা পৌরসভাসহ তিন উপজেলায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্ধি : প্রায় ৫ হাজার কাঁচা ঘর ক্ষতিগ্রস্ত


388 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা পৌরসভাসহ তিন উপজেলায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্ধি : প্রায় ৫ হাজার কাঁচা ঘর ক্ষতিগ্রস্ত
জুলাই ৩০, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক :
জলাবদ্ধতায় সাতক্ষীরা পৌরসভাসহ তিনটি উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। গত কয়েকদিনে টানা বর্ষনে সাতক্ষীরা পৌরসভা, সাতক্ষীরা সদর, তালা ও কলারোয়া উপজেলায় ২০৩ টি ঘর সম্পূর্ণ ও ৪ হাজার ৯৪৮টি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আক্রান্ত পানিবন্দী পরিবারের মধ্যে ২৩ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দুর্গত মানুষের জন্য জরুরী ভিত্তিতে ২০০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ চেয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানাগেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অপরিকল্পিত চিংড়ি ঘেরের কারণে পানি নিষ্কাশিত না হওয়ায় জেলার সবগুলো উপজেলায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। জলাবদ্ধতায় জেলায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয় তালা উপজেলা। তালা উপজেলা সদর, জালালপুর, ইসলামকাটি, তেতুঁলিয়া, মাগুরা, খেশরা, সরুলিয়া, ধানদিয়া, খলিলনগর ইউনিয়নের ৩০ থেকে ৪০ টি গ্রামে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। জালালপুর ইউনিয়নে কানাইদিয়া ও ধানদিয়া ইউনিয়নের সারসা গ্রামের বেশ কিছু পরিবার বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে।
কলারোয়া উপজেলার দেয়াড়া ও জয়নগর ইউনিয়নের বেশকিছু পরিবার পার্শবর্তী মাদ্রাসায় আশ্রয় নিয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন অফিসের দাবী, তালা উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের ২৬শ পরিবারের ২৭ হাজার ৫০০ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এই উপজেলায় ২০০টি ঘর সম্পূর্ণ ও ২ হাজার ৪০০ ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। অন্যদিকে ২২টি স্কুল, ২৫টি মসজিদ, মন্দির ২৮ কিলোমিটার রাস্তা পানির নিচে আছে। এ উপজেলায় ১০ মেট্রিক টন জিআর চাল বরাদ্দ করা হয়েছে।
কলারোয়া উপজেলায় শুধুমাত্র দেয়াড়া ও জয়নগর ইউনিয়নের ১ হাজার ৩৫০জন জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। দুই ইউনিয়নে ৩২টি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, জিআর চাল বরাদ্দ করা হয়েছে ৪ মেট্রিক টন।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বল্লী, লাবসা ও ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নে ৭ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তিন ইউনিয়নে ৩টি বাড়ি সম্পূর্ণ ও ৪১টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এ তিন ইউনিয়নে ৬ মেট্রিক টন চাল বরাদ্ধ করা হয়েছে।
অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ দেখানো হয়েছে সাতক্ষীরা পৌরসভা। পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে ৬২ হাজার ৫০০ মানুষ ও ২ হাজার ৪৭৫ টি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে পৌরসভার মেয়র এম এ জলিল স্বাক্ষরিত এক পত্রে জানা গেছে। তবে পৌরসভার ক্ষতিগ্রস্থের রিপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন তুলে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুস সাত্তার খান ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে জানান, সাতক্ষীরা পৌর মেয়র ও  তিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্ষতিগ্রস্থের এসব তালিকা প্রেরণ করেছে। তিনি আরো বলেন, আমাদের কাছে পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা রয়েছে। যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা প্রস্তুত আছি।