সাতক্ষীরা পৌরসভায় পুনরায় নির্বাচন চাইলেন আ.লীগের প্রার্থী সাহাদাৎ : সদর থানার ওসির বহিষ্কার দাবি


417 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা পৌরসভায় পুনরায় নির্বাচন চাইলেন আ.লীগের প্রার্থী সাহাদাৎ : সদর থানার ওসির বহিষ্কার দাবি
ডিসেম্বর ৩১, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

বিশেষ প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরা পৌর নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের পরাজিত প্রার্থী সাহাদৎ হোসেন।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদ শেখকে বহিষ্কার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি এমদাদ শেখকে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী ও রাজাকার মাওলানা দেলোয়ার হুসাইন সাঈদীর নিকট আত্মীয়। বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাসকীন আহমেদ চিশতীর কাছ থেকে মোটা অংকের সুবিধা নিয়ে ওসি এমদাদ শেখ নৌকা প্রতিকের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ধানের শীষের পক্ষে তিনি নির্বাচনের আগে থেকেই কাজ করছেন। আওয়ামী লীগের কর্মীদেরকে তিনি নানা ভাবে হয়রানি করেছেন।

একই সাথে তিনি নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করার অভিযোগ এনে সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনসুর আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ, সদর উপজেলা সভাপতি এসএম শওকত হোসেন, পৌর সভাপতি আবু সায়ীদকে দল থেকে বহিস্কারের দাবি করেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনসুর আহমেদ ও সদর থানার ওসি এমদাদুল হক শেখ ২৯ ডিসেম্বর রাত দেড়টায় গাড়িতে করে ৩১টি কেন্দ্রে গিয়ে নৌকা প্রতীককে হারাতে ধানের শীষ, লাঙ্গল ও নারিকেল গাছ প্রতীকে ভোট কাটে।

ভোটের আগের রাতে সদর থানার ওসি বিএনপির প্রার্থী তাসকিন আহমেদ চিশতি বাড়িতে গিয়ে মোটা অংকের টাকা নেয়।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনসুর আহমেদ জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাসিম ফারুক খান মিঠুর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তারপক্ষে কাজ করেছে।

একইভাবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম ছিল নিস্ত্রীয়। সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ, সদর উপজেলা সভাপতি এসএম শওকত হোসেন ও পৌর সভাপতি আবু সায়ীদ প্রকাশ্যে লাঙ্গলে ভোট চেয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও মানবতাবিরোধী অপরাধী দেলওয়ার হোসেন সাঈদীর নিকটাত্মীয় এমদাদুল হক শেখ বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছ থেকে কয়েক কোটি টানা নিয়ে নৌকা প্রতীককে হারিয়েছে।

তিনি বলেন, ভোট কেন্দ্রগুলোতে নৌকা ব্যাচধারীদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ছাত্রলীগের রাজু নামের এক কর্মীকে গুলি করে হত্যা করতে চেয়েছে পুলিশ। কিন্তু ভোট চলাকালে পুলিশের উপস্থিতিতে কেন্দ্রের সামনে ধানের শীষের মিছিল হলেও পুলিশ নিশ্চুপ ছিল।

আমি নিশ্চিত, প্রশাসনিক ও দলীয় ক্যু করে আমাকে, আমার নৌকা প্রতীককে হারানো হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমাকে আমার কেন্দ্রে হারাতে তিনটি ব্যালট বাক্স ছিনতাই হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাতক্ষীরা পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটির নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে সাতক্ষীরা পৌরসভায়  পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানিয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করায় সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনসুর আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ, সদর উপজেলা সভাপতি এসএম শওকত হোসেন, পৌর সভাপতি আবু সায়ীদ ও সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক শেখকে বহিষ্কার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
##