সাতক্ষীরা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে লড়তে মাঠে নেমেছে সাত প্রার্থী


1128 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে লড়তে মাঠে নেমেছে সাত প্রার্থী
সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

বিশেষ প্রতিনিধি :
আসন্ন সাতক্ষীরা পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে একাধিক মেয়র প্রার্থী মাঠে নেমেছেন। ইতিমধ্যে সাত মেয়র প্রার্থী প্রচার-প্রচারণা নিয়ে বেশ ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছে পোষন করে তারা নানা ভাবে পৌরবাসীকে জানান দিচ্ছেন যে, আগামী পৌরসভা নির্বাচনে তারা মেয়র প্রার্থী হতে ইচ্ছুক।  কেউবা পত্র-পত্রিকা, কেউবা ফেষ্টুনের মাধ্যমে আবার  কেউবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে নিজেদেরকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষনা দিয়েছেন।

তথ্যানুসন্ধানে জানাগেছে, আগামী পৌরসভা নির্বাচনে বর্তমান পৌর মেয়র আলহাজ্ব এম এ জলিল, সাবেক মেয়র শেখ আশরাফুল হক, জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি সাইফুল করিম সাবু, জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শেখ আজহার হোসেন, সাতক্ষীরা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো: আবু সায়ীদ, সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি নাসিম ফারুক খান মিঠু ও সাতক্ষীরা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন মেয়র পদে লড়বেন।এসব প্রার্থীরা ইতিমধ্যে গণসংযোগ শুরু করেছেন।

একাধিক সূত্র থেকে জানাগেছে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সাতক্ষীরা পৌরসভা নির্বাচনের তারিখ ঘোষনা হতে পারে। নির্বাচন কমিশন পৌর নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। ওই নির্বাচনে লড়তে মেয়র প্রার্থীদের পাশাপাশি একাধিক কাউন্সিলর প্রার্থীও মাঠে নেমেছে।

মেয়র প্রার্থী হতে ইচ্ছুকদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় :
—————————————-
আলহাজ্ব এম এ জলিল :
বর্তমান সাতক্ষীরা পৌর সভার মেয়র। এর আগে তিনি একাধিক বার সাতক্ষীরা পৌরসভার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি। দীর্ঘ দিন যাবত তিনি বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। আগামী পৌরসভা নির্বাচনে তিনি আবারও মেয়র পদে লড়তে চান বলে জানাগেছে।

শেখ আশরাফুল হক :
সাতক্ষীরা পৌরসভার নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আশরাফুল হক।তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি। দীর্ঘদিন যাবত তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। বেশ কিছুদিন আগে থেকে তিনি স্থানীয় একাধিক পত্রিকায় ঘোষনা দিয়েছেন তিনি এখনও সুস্থ্য আছেন। আগামী পৌরসভা নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। বয়েসে বৃদ্ধ হলেও একজন তরুণের মতো তিনি প্রতিদিন পৌরসভার একপ্রাপ্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত ছুটতে শুরু করেছেন।

সাইফুল করিম সাবু :
সাইফুল করিম সাবু ছাত্র জীবনে ছাত্র ইউনিয়ন করতেন। পরবর্তীতে তিনি ভাসানী ন্যাপের সাথে যুক্ত হন। ১৯৯৬ সালের ১১ ফেব্রুয়ারী তিনি সাতক্ষীরা জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতির দায়িত্ব পান। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাতক্ষীরা সদর আসনে প্রতিদ্বন্দিতা করেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাতক্ষীরা জেলা বাস মিনি বাস মালিক সমিতির সভাপতি ছিলেন। আগামী পৌরসভা নির্বাচনে তিনি মেয়র প্রার্থী হওয়ার জন্য ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছেন।

শেখ আজহার হোসেন :
শেখ আজহার হোসেন ছাত্র জীবনে ছাত্র ইউনিয়ন করতেন। পরবর্তীতে তিনি বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন, ভাসানী ন্যাপ, ইউনাইটেড পিপল্স পার্টির সাথে যুক্ত হন। ১৯৮৪ সাল থেকে তিনি জাতীয় পার্টির রাজনীতি শুরু করেণ। ২০১২ সাল থেকে অদ্যবধি তিনি জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সাতক্ষীরার একজন ব্যবসায়ী নেতা হিসেবে সুপরিচিত তিনি। সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্সের চার বার নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন। বিগত পৌরসভা নির্বাচনে তিনি মেয়রপদে প্রতিদ্বন্দিতা করেন।আগামী নির্বাচনে তিনি আবারও মেয়র পদে লড়বেন। বেশ আগে থেকেই মাঠ পর্যায় কাজ শুরু করেছেন।

মো: আবু সায়ীদ :
মো: আবু সায়ীদ ছাত্র জীবন থেকেই ছাত্রলীগ করতেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্য্যসেন হলের ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দেন তিনি। কর্মজীবনে তিনি দীর্ঘ সময় ঢাকা প্রবাসী ছিলেন। কিন্তু ২০০৮ সালের মে মাসে পুন:রায় সাতক্ষীরাতে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার উদ্দেশ্যে ফিরে আসেন। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো: নজরুল ইসলামের পক্ষে প্রচার সেলের মূল দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০০৯ সালে উপজেলা নির্বাচনে একই ভাবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো: নজরুল ইসলামের পক্ষে ব্যাপক প্রচার প্রচারণায় অংশ নেন। সর্বশেষ গত বছর ২১ ডিসেম্বর সাতক্ষীরা পৌর আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন। রেডক্রিসেন্টের সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন। তিনি আগামী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য ইতিমধ্যে প্রচারে নেমেছেন। বিভিন্ন এলাকায় সভা-সমাবেশ করছেন।

নাসিম ফারুক খান মিঠু :
নাসিম ফারুক খান মিঠু মূলত এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় তৎকালীন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম ফারুকের হাত ধরে রাজনীতিতে আসেন। ১৯৯১ সালে তিনি জেলা যুবদলের সহ-সম্পাদক দায়িত্ব পান। ২০০৪ সালে তিনি জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। দীর্ঘদিন যাবত তিনি জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সালে সাতক্ষীরা জেলা যুবদলের যে কমিটি গঠন করা হয় সেই কমিটিতে তাকে বাদ দিয়ে আয়নুল ইসলাম নান্টাকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এর পর থেকে তিনি যুবদলের রাজনীতি থেকে নিজেকে অনেকখানি গুটিয়ে নিতে শুরু করেন। ২০১৩ সালে সাতক্ষীরা জেলা যুবদলের কাউন্সিল নির্বাচনকে ঘিরে জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে সাতক্ষীরা জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি ভিপি আমান নিহত হন। এ ঘটনার পর থেকে মিঠু খানকে আর রাজনৈতিক কোন কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা যায়নি।
পরবর্তীতে তিনি সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি পদে নির্বাচন করে জয়ীলাভ করেন। এর পর টানা দুই বার তিনি সাতক্ষীরা চেম্বারের নির্বাচনে জয়ী হন। আগামী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে লড়তে তিনি ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার প্রচারণা শুরু করেছেন। সম্প্রতি সাতক্ষীরা একটি বাগান বাড়িতে তিনি সমাবেশ করে নিজেকে মেয়র প্রার্থী ঘোষনা দেন।

মো: শাহাদাৎ হোসেন :
শাহাদাৎ হোসেন ছাত্র জীবন থেকে ছাত্রলীগ করতেন। এর পরে যুবলীগ এবং পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত হন।সর্বশেষ গতবছর  ২১ ডিসেম্বর সাতক্ষীরা পৌর আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের মাধ্যমে তিনি সাতক্ষীরা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। আগামী পৌরসভা নির্বাচনে তিনি মেয়র পদে লড়বেন বলে জানাগেছে। ইতমধ্যে প্রচার প্রচারণায়ও নেমেছেন তিনি।