সাতক্ষীরা পৌরসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সপ্ন-লোকের টিকিট কে পাচ্ছেন ?


414 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা পৌরসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সপ্ন-লোকের টিকিট কে পাচ্ছেন ?
নভেম্বর ১, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

বিশেষ প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরা পৌরসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সপ্ন-লোকের টিকিট কে পাচ্ছেন তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। বৃহৎ এই দলের সমর্থন নিয়ে আগামী নির্বাচনে লড়তে ইতিমধ্যে মাঠে নেমেছেন ৪ প্রার্থী। এরা হলেন, সাতক্ষীরা পৌর সভার সাবেক মেয়র প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা শেখ আশরাফুল হক, জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি ছাইফুল করিম সাবু, সাতক্ষীরা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো: আবু সায়ীদ ও সাধারণ সম্পাদক মো: সাহাদাৎ হোসেন। এছাড়া সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক , সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো: নজরুল ইসলাম নির্বাচনী মাঠে না নামলেও গুঞ্জন রয়েছে তিনিই হয়তো শেষমেশ আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হচ্ছেন। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, নজরুল ইসলাম দলীয় প্রার্থী হলে সব হিসেব-নিকেশ পাল্টে যাবে।

তথ্যানুসন্ধানে জানাগেছে, আগামী ডিসেম্বরে সারা দেশে প্রথম দফায় যেসব পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তার মধ্যে সাতক্ষীরা ও কলারোয়া পৌরসভা রয়েছে। শিঘ্রই নির্বাচন কমিশন পৌরসভা নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণা করবে।

সাতক্ষীরা পৌরসভা নির্বাচনে লড়তে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী আগে থেকেই মাঠে নেমেছেন।এদের মধ্যে  সাতক্ষীরা পৌরসভার সাবেক মেয়র শেখ আশরাফুল হক গত নির্বাচনে পরাজিত হন। এবারও তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে প্রায় দুই মাস আগে থেকেই প্রচার-প্রচারনায় নেমেছেন। পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তিনি জানান দিয়েছেন, বয়েসের ভারে তিনি এখনও ন্যুয়ে পড়েননি। ৮০ উদ্ধ বয়েসের এই মানুষটি প্রবল সাহস নিয়ে বীরদর্পে সামনের দিকে বেশ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিদিন ভোরে তাকে পৌরসভার বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষের সাথে কুশল বিনিময় করতে দেখা যাচ্ছে। দলীয় প্রতীক পেতে লবিং-গ্রুপিং এর তেমন কোন ধার ধারছেন না মানুষটি।  আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক না পেলেও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন বলে ঘোষণা দিয়েই মাঠে রয়েছেন।

সাতক্ষীরা জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি, জেলা বাস-মিনি বাস মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি ছাইফুল করিম সাবু মেয়র পদে দলীয় প্রতীক পেতে মাঠে নেমেছেন। তিনি গত সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা সদর আসনের এমপি প্রার্থী ছিলেন। এই শ্রমিক নেতা আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে এখনও গণসংযোগে না নামলেও পত্রিকায় ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি প্রার্থী হবেন। দলীয় প্রতীক পেতে ছাইফুল করিম সাবু আওয়ামী লীগের উচ্চ মহলে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। তার ঘনিষ্টজনেরা বলছেন, আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে তিনি জোরেসোরে নির্বাচনী মাঠে নামবেন। ইতিমধ্যে পোষ্টার ছাপার কাজ শেষ। পৌরবাসী যে কোন দিন ঘুম থেকে উঠেই দেখতে পাবেন ছাইফুল করিম সাবুর পোষ্টারিং। তার সমর্থকরা সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সাতক্ষীরা পৌর নির্বাচনে যে কয়জন প্রার্থী প্রচার-প্রচারনায় মাঠে নেমেছেন তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রার্থী হচ্ছেন, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক,  সাবেক ছাত্র নেতা মো: সাহাদাৎ হোসেন। ব্যানার, পোষ্টার আর পৌরসভার বিভিন্ন প্রবেশমুখে প্রচারণামূলক গেট নির্মাণ করে তিনি যেভাবে মাঠে নেমেছেন তাতে মানুষের নজর এখন তার দিকেই। বিভিন্ন দল ও মতের যেসব প্রার্থী বর্তমানে মেয়র পদে মাঠে রয়েছেন তারমধ্যে প্রচারণায় সবার শর্ষে বললে ভূল হবে না। সাবেক এই ছাত্রনেতা আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রতীক পেতে বেশ আশাবাদী। কারো থেকে  পিছিয়ে নেই লবিং-গ্রুপিং এ।প্রতিদিন পৌরসভার এক প্রাপ্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত চষে বেড়াচ্ছে সাহাদাৎ হোসেন। ইতিমধ্যে তিনি পৌর সভার বেশ আলোচিত প্রার্থী হিসেবে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন।

সাতক্ষীরা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো: আবু সায়ীদ প্রচারণায় নেমেছেন আরও তিন মাস আগে থেকে। তিনি পৌরসভার বিভিন্ন প্রান্তে সভা-সমাবেশ করছেন। ভোটারদের মন জয় করার জন্য তিনি আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিটি এলাকায় পেষ্টারিং করেছেন। প্রতিদিন কোন না কোন এলাকায় একাধিক পথসভায় অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে তাকে। নির্বাচিত হতে পারলে কিভাবে সাতক্ষীরা পৌরসভাকে সাজাবেন তা তার বক্তব্যে তুলে ধরছেন। পৌরসভাকে দুর্নীতিমুক্ত করতে অঙ্গীকার ব্যক্ত করছেন নানা ভবে। আশা করছেন, তৃর্ণমূলের সমর্থন নিয়ে তিনিই আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রতিক ছিনিয়ে আনতে সমর্থ হবেন।

———————————-
পাল্টে যেতে পারে সব হিসেব-নিকেশ !
———————————-
সাতক্ষীরা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে লড়তে আগে থেকেই মঠে নেমেছেন উপরোক্ত ৪ প্রার্থী । সবাই চেষ্টা করছেন দলীয় প্রতীক ছিনিয়ে আনতে। মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরেই ঘেষণা করা হবে নির্বাচনী সিডিউল। এর পর দলীয় প্রার্থী নির্বাচনের পালা শুরু। চাতক পাখির মতো অনেকেই বসে আছেন, কে হচ্ছেন আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী তা দেখার জন্য। এনিয়ে রয়েছে নানা প্রচার-প্রচারণা,জল্পনা-কল্পনা। দিন যতোই ঘনিয়ে আসছে , ততোই ভারী হচ্ছে গুঞ্জনের পালা।

আওয়ামী লীগের তৃর্ণমূল নেতা-কর্মী-সমার্থকরা মনে করছেন, আগামী পৌর নির্বাচনে তাদের জয় নিশ্চিত করতে হলে একক প্রার্থী দেওয়ার কোন বিকল্প নেই। সেক্ষেত্রে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো: নজরুল ইসলাম প্রার্থী হলে সব হিসেব-নিকেশ পাল্টে যাবে বলে মনে করেন তারা। বিধায় আওয়ামী লীগের একটি প্রভাবশালী মহল তাকে প্রার্থী করার জন্য বেশ তৎপর। কিন্তু জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো: নজরুল ইসলাম ওই মহলের প্রস্তাবে এখনও হ্যাঁ বা না কোনটাই বলেলনি।

সাতক্ষীরা জেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে বলেন, আমরা চেষ্টা করছি সব বিরোধ নিরসন করে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী দিতে। সেক্ষেত্রে নজরুল ইসলাম প্রার্থী হলে বিষয়টি সহজ হবে। তাকে ইতিমধ্যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তিনি কয়েক দিন সময় চেয়েছেন। কিন্তু ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত তিনি হ্যাঁ বা না কোন টাই বলেনি।

সূত্র জানায়, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা সদর আসন থেকে দলীয় প্রার্থী হতে ইচ্ছুক জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো: নজরুল ইসলাম। তিনি বিগত একাধিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। কিন্তু জয়লাব করতে পারেনি। পৌরসভার মেয়র পদে থেকে যদি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে কোন ধরণের বাঁধার সৃষ্টি না হয় তাহলে মো: নজরুল ইসলাম হবেন সাতক্ষীরা পৌরসভার মেয়র প্রার্থী। এ ধরণের একটি আভাসও তার কাছ থেকে পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমের সাথে রোববার সকালে বেশ খোলামেলা কথা হয় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো: নজরুল ইসলামের। তিনি জানান, প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে আমি আগ্রহী নই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দলের তৃর্ণমূল থেকে শুরু করে নীতিনির্ধারণী মহল যদি চান আমাকে পৌরসভার প্রার্থী করতে, সেক্ষেত্রে আমার কিছুই করার থাকবে না। হয়তো প্রার্থী হতে হবে। তবে সেক্ষেত্রে নীতিনির্ধারণী মহলের কাছে আমারও কিছু বলার বা চাওয়ার থাকবে। সেই চাওয়াটা কি জানতে চাইলে, তিনি বলেন রাজনীতিবীদদের একটি লক্ষ্য থাকে। আমারও সে-টি রয়েছে। সবাই তো চায় ———–।