সাতক্ষীরা পৌর সভায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট


351 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা পৌর সভায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট
এপ্রিল ২৬, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

আব্দুর রহমান :
সাতক্ষীরা পৌর এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। পৌর সভার ৮হাজার ৫শ ২৩ জন গ্রাহকদের জন্য ২টি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান এবং ৫টি গভীর নলকুপের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হয়। পৌর সভার এই যৎসামান্য পানি ব্যবস্থাপনায় সঠিক ভাবে পানি পাচ্ছেনা গ্রাহকরা। পানি সরবরাহ কর্তৃপক্ষ পৌরবাসীর পানি সমস্যার ভোগান্তির তোয়াক্কা না করে শহরের অদূরে টাকার বিনিময়ে ইঞ্জিন ভ্যানে করে আশাশুনি, বুধহাটা ধুলিহর, দেবহাটা, তালাসহ বিভিন্ন এলাকায় ড্রাম ও ব্যারেল ভর্তি করে পানি সরবরাহ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে প্রতিদিন নতুন নতুন বাড়িঘর নির্মাণের কারণে গ্রাহক সংখ্যা বাড়ছে। বহুতল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আবাসিক ভবন, মার্কেট, আবাসিক হোটেল-রেস্তোঁরা, সরকারি অফিস-আদালত, ব্যাংক ও বীমা অফিস গড়ে উঠায় বৃদ্ধি পেয়েছে পানির চাহিদা। এছাড়া শহরের রাজারবাগান, পুরাতন সাতক্ষীরা, কামালনগর, রসুলপুর, সিটি কলেজ এলাকাসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় পানির সংযোগ থাকলে পানি পাচ্ছেনা পৌরবাসী। পানি না পেয়ে গ্রাহকরা স্বেচ্ছায় পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার আবেদন করছে। এরপরেও জনপ্রতিনিধিরা দায় এড়ানোর জন্য নাম মাত্র নতুন পানির সংযোগ দিচ্ছে। ফলে পানি না পেয়ে বিপাকে পড়ছে পৌরবাসী। সাতক্ষীরা পৌরসভা একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হওয়া সত্বেও পানি সরবরাহের অব্যবস্থাপনার কারণে পৌরবাসী সুপেয় পানি পাচ্ছেনা। পানির পাইপ ড্রেনেজ ব্যবস্থার সাথে সংযুক্ত থাকার কারণে কোথাও কোথাও পাইপ লাইট ফেটে বা ছিদ্র হয়ে ময়লা পানি সরবরাহ হচ্ছে। পৌরবাসী যে পানি পাচ্ছে তা অতি নি¤œ মানের। সরবরাহ পানিতে প্রতিনিয়ত স্যাঁতলা, কালো কালো ময়লা, গুড়া কেচো, পোঁকা ও লোনা পানি পাচ্ছে গ্রাহকরা।
পানি সরবরাহ অফিসের সহকারী প্রকৌশলী সেলিম সরোয়ার বলেন, সাতক্ষীরা পৌরসভার ৮হাজার ৫শ ২৩ জন গ্রাহকদের জন্য দৈনিক পানির চাহিদা ১কোটি ২৫লক্ষ লিটার। কিন্তু সরবরাহ করা হচ্ছে  ১কোটি লিটার। পানি সরবরাহের খাতে প্রতি মাসে প্রায় ১৪লক্ষ টাকা ব্যয় হয় কিন্তু পানির বিল থেকে উত্তোলন হয় ৯-১০ লক্ষ টাকা। এছাড়া পানির বিল বকেয়া আছে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা। পানি সরবরাহ কর্তৃপক্ষ পৌর মেয়রকে নতুন পানি সংযোগ না বাড়ানোর তাগিদ দিলেও প্রতিনিয়ত নতুন সংযোগের অনুমোদন দিচ্ছেন পৌর মেয়র। এর ফলে পানি সরবরাহে হিমশিম খাচ্ছে পানি সরবরাহ কর্তৃপক্ষ।
এ ব্যাপারে পৌর মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতি বলেন, পৌরবাসীর সুপেয় পানির চাহিদা পুরণের ক্ষেত্রে দুটি পাওয়ার ট্রিটমেন্ট প্লান রয়েছে তা পর্যাপ্ত নয়। দুটি পাওয়ার ট্রিটমেন্ট প্লানের মাধ্যামে চাহিদা মোতাবেক পানি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছেনা। খরা মৌসুমে পানির লেযার নিচে নেমে যাওয়ায় পর্যাপ্ত পানি উত্তোলন করা সম্ভব হচ্ছে না। শহরের অদুরে পানি সরবরাহের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগে এটা হতো। আমি আসার পর থেকে এটা সম্পূর্ণরুপে বন্ধ করে দিয়েছি এবং অবৈধভাবে মেইন লাইন থেকে মটর লাগিয়ে পানি উত্তোলন ও অবৈধ পানির লাইন বন্ধ করে দিয়েছি। এছাড়া নতুন করে পানির সংযোগ প্রদানের ব্যাপারে অনেক ক্ষেত্রে অনুমোদন দিতে হচ্ছে। সেক্ষেত্রে খড়া মৌসুমের পরে লাইন দেওয়ার জন্য বলা হচ্ছে। দ্রুত পানির সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করছি।