সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে শোক দিবসের আলোচনা : বঙ্গবন্ধু শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি, জাতির মুক্তি সনদ


724 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা  প্রেসক্লাবে শোক দিবসের আলোচনা : বঙ্গবন্ধু শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি, জাতির মুক্তি সনদ
আগস্ট ১৪, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নূরুজ্জামান রিকো :
‘বাংলাদেশ মানে শেখ মুজিব। শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি মানে শেখ মুজিব। তাকে হত্যার মধ্যদিয়ে ঘাতকরা  মুক্তিযুদ্ধের  চেতনা বিনাশ এবং বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করার ব্যর্থ চেষ্টা করেছিল। শোকাবহ সেই কালোদিন ১৫ আগস্টের পরেই দেশে জন্ম নিয়েছে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মৌলবাদ। যা আজও জাতিকে ভোগাচ্ছে।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের ৪১ তম শাহাদাত বার্ষিকীর প্রাক্কালে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব আয়োজিত শোকসভায় এ কথা বলেন সাংবাদিকরা।
বঙ্গবন্ধুই বাঙ্গালি জাতির মুক্তির সনদ, তিনিই জাতিকে মুক্তির পথ দেখিয়েছেন মন্তব্য করে তারা বলেন বঙ্গবন্ধু ছিলেন গনতন্ত্রের মানসপুত্র। জাতির আকাংখা আর রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে তিনি বাঙ্গালি জাতিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ঔপনিবেশিক শাসন আর শোষনের নাগপাশ থেকে জাতিকে মুক্ত করেছেন। তিনি বাংলা  ভাষা, বাঙ্গালি জাতি আর বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে সম্মানসূচক জায়গায় পৌছে দিয়েছেন। অথচ ১৫ আগস্ট একদল ঘাতক তাঁকে সপরিবারে হত্যা করে দেশকে বিপথে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। জাতি সেই সব বেঈমানদের ক্ষমা করতে পারেনা মন্তব্য করে বক্তারা আরও বলেন বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের বিচার হয়েছে। অনেকটা বাস্তবায়ন হয়েছে। অন্যদের মৃত্যুদন্ডের রায় বাস্তবায়ন দেখতে চায় জাতি। কারণ ঘাতকদের বিচারের মধ্য দিয়েই জাতি কলংকমুক্ত হতে পারে। একই সাথে তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাস্তবায়নেরও তাগিদ দেন।
সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ আরও বলেন আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে শুরু করে বারবার মামলা ও কারাবরনের শিকার বঙ্গবন্ধু কোনোভাবেই পাকিস্তানি হায়েনাদের কাছে আত্মসমর্পন করেন নি। তারা তাকে পাকিস্তানি কারাগারে ঢুকিয়ে সেখানে কবর খনন করে জানিয়েছিল তাকে এখানে কবর দেওয়া হবে। এতো ভীতি সৃষ্টির পরও বঙ্গবন্ধু এতোটুকু টলেন নি, বরং উঁচু কন্ঠে বলেছেন আমি বাঙ্গালি, আমি   আত্ম সমর্পন করতে শিখিনি। সেদিন বঙ্গবন্ধুর সাহসিকতা, তার দৃঢ়তা এবং বাঙ্গালি জাতির ওপর তার মমত্ববোধ এভাবেই ফুটিয়ে তুলেছিলেন। আর সেই পাকিস্তানিরা তাকে হত্যার দুঃসাহস দেখাতে না পারলেও এদেশীয় বিশ্বাসঘাতকরা তাকে সপরিবারে হত্যার ধৃষ্টতা দেখিয়েছে।
রোববার দুপুর ১২টায় শোক দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু তার কীর্তি মহানের মধ্যে চিরঞ্জীব হয়ে থাকবেন। বাংলাদেশ, বাঙ্গালি,স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ এই চার শব্দ যতবার উচ্চারিত হবে, যতোবার লিখিত হবে ততবারই উচ্চকন্ঠে উচ্চারিত হবে বঙ্গবন্ধুর নাম। সেদিন তিনি যদি জাতির মুক্তির সনদের কথা না বলতেন তাহলে বাঙ্গালি জাতির ভবিষ্যত হয়ে থাকতো অন্ধকার। শুধু বাঙ্গালি জাতি নয় বিশ্বের সব মুক্তিকামী মানুষ, গনতন্ত্র প্রিয় মানুষ বঙ্গবন্ধুকে তাদের  অবিসংবাদিত নেতা হিসাবে সম্মানিত করেছেন, আগামিতেও করবেন। শোক দিবসে জাতির জনকের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের পাশাপাশি তার আদর্শ অনুসরন করে জাতিকে এগিয়ে যেতে হবে বলে উল্লেখ করেন তারা।
প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সভাপতি আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এম কামরুজ্জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত  আলোচনা সভায় অংশ নেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সুভাষ চৌধুরী, সিনিয়র সাংবাদিক অরুণ ব্যানার্জী, প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবদুল ওয়াজেদ কচি, কল্যাণ ব্যানার্জি, সাবেক সাধরণ সম্পাদক আবদুল বারী, মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল, কার্য নির্বাহী সদস্য সেলিম রেজা মুকুল, অসীম বরণ চক্রবর্তী, শামীম পারভেজ, আবু তালেব মোল্লা, শহীদুল ইসলাম, আব্দুল জলিল প্রমুখ।
বক্তারা ১৫ আগস্টের শোককে শক্তিতে পরিণত করে জাতিকে এগিয়ে নেওয়ার আহবান জানান। আলোচনা সভায় প্রেসক্লাবের সদস্যসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক ও সাতক্ষীরা জেলা ফটো সাংবাদিক এ্যাসোসিয়নের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বঙ্গবন্ধুসহ  ও সকল  শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা  পালন করা হয়।