সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে দুঃস্থদের মাঝে সাবেক এসপি’র শীতবস্ত্র বিতরণ


382 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে দুঃস্থদের মাঝে সাবেক এসপি’র শীতবস্ত্র বিতরণ
নভেম্বর ১৫, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার :

‘সাতক্ষীরা আমার দ্বিতীয় জন্ম স্থান, এখানেই যেনো আমার চিরনিদ্রা হয়’ আবেগে আপ্লুত হয়ে এমন অভিব্যক্তি প্রকাশের পর সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সম্প্রসারিত ভবন উদ্বোধনকালে সাতক্ষীরার সাবেক পুলিশ সুপার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির বলেন, গনমাধ্যমকর্মীদের জন্য এই ভবনটি অনেক কাজে আসবে।

সাতক্ষীরার সাংবাদিকদের এক সাথে বসে কাজ করার যথেষ্ট জায়গা ছিলনা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আমি প্রীত, আমি ধন্য, তাদের জন্য এমন একটি ভবনে বসার সুযোগ করে দিতে পেরে।

মঙ্গলবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সম্প্রসারিত ভবন নিউজ রুম উদ্বোধন করতে গিয়ে সাতক্ষীরায় কর্মকালীন স্মৃতিচারনে আবেগ আপ্লুত হয়ে ওঠেন তিনি বলেন, সাতক্ষীরার সাংবাদিকদের সাথে একই লক্ষ্যে কাজ করতে গিয়ে পাস্পরিক যে সহায়তা পেয়েছি তা কোনোদিন ভুলবার নয়।

এ সময় সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন, বিশিষ্ট সমাজসেবক ডা. আবুল কালাম বাবলা, প্রেসক্লাব সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ও সাধারন সম্পাদক এম কামরুজ্জামানসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য ২০১৪ ও ২০১৫ সালে অধ্যাপক আবু আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান উ্জ্বল সভাপতি ও সম্পাদকের দায়িত্বে থাকাকালে সে সময়কার এসপি হিসাবে চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির পৌরসভার এই পরিত্যক্ত ভবনটি

প্রেসক্লাবের অনুকূলে দেওয়ার পক্ষে জোরালো ভূমিকা রাখেন। এরপর সেটি নির্মান সংস্কার করে ব্যবহারোপযোগী করা হয়। সেটি এখন নিউজ রুম।

আমি সাতক্ষীরার ভোটার  গভীর সুন্দরবনের দুবলার চরে অনুষ্ঠিত রাসমেলায় যোগদান শেষে মনের টানে আবারও সাতক্ষীরায় ফিরে এসেছি উল্লেখ করে সাতক্ষীরার সদ্য বিদায়ী এসপি চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির বলেন সমাজের দুঃস্থ অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের হাতে শীতবস্ত্র তুলে দিতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি।

তিনি বলেন আমাদের সমাজে এমন অগনিত দরিদ্র ও অসহায় মানুষ রয়েছেন যাদের গরম কাপড় কেনার সামর্থ কম। তারা যাতে শীতে কষ্ট না পান সেজন্য তাদের হাতে শীতবস্ত্র তুলে দিতে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।

দৈনিক মানবকন্ঠ ও সেতুবন্ধন আয়োজিত শীতবস্ত্র বিতরন উপলক্ষে এদিন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব চত্বরে আয়োজন করা হয় এক অনুষ্ঠানের। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির বলেন আমি আমার কর্মকালে এই

জেলার মানুষের মনের চাহিদা পূরনের চেষ্টা করেছি। তাদের মনে দাগ কেটে থাকা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের ভীতি দুর করার চেষ্টা করেছি। তিনি বলেন আগরদাঁড়ির সাধারন মানুষ মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী খালেক মন্ডলের কাছে জিম্মি ছিল।

তাদেরকে এই অপশক্তির জিম্মি দশা থেকে মুক্ত করার প্রয়াস পেয়ে নিজ দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি। সন্ত্রাস জঙ্গিত্ব ও সাম্প্রদায়িকতা যাতে সাতক্ষীরার মানুষের বুকে থাবা বসাতে না পারে সেজন্য সচেষ্ট হয়েছি।

সন্ত্রাস নয়, জঙ্গিবাদ নয় মানব মনকে বাঙ্গালির চিরায়ত লোক সংস্কৃতির দিকে নিয়ে আলোকিত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে দায়িত্ব পালন করেছি বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন আমি সাতক্ষীরার ভোটার। আমি সাতক্ষীরার মানুষ। আমি বিচ্ছিন্ন কেউ নই।

প্রেসক্লাব সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে ও দৈনিক মানবকন্ঠ প্রতিনিধি অসীম চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিশেষ অতিথি পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন, প্রেসক্লাবের

সাবেক সভাপতি অধ্যাপক আবু আহমেদ সাবে সভাপতি সুভাষ চৌধুরী, প্রথম আলোর কল্যাণ ব্যানার্জি , বিশিষ্ট সমাজসেবক ও জেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির আহবায়ক ডা. আবুল কালাম বাবলা ও প্রেসক্লাবের সাধারনসম্পাদক এম কামরুজ্জামান।

এ সময় চৌধুরী মঞ্জুরুল কবিরের সহধর্মিনী বেগম নুরজাহান মঞ্জুর, পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেনের সহধর্মিনী মেহের নিগার আলতাফও বক্তব্য রাখেন ।

প্রধান অতিথি চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির বলেন, আমি যখন যোগদান করেছি তখন সাংবাদিকদের মাঝে বিভাজন দেখেছি। এ অবস্থা আমাকে পীড়া দিয়েছিল। তিনি বলেন তখন থেকে আমার প্রচেষ্টা ছিল কিভাবে সাংবাদিকদের

মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা যায়। আমি সাতক্ষীরা ত্যাগ করার আগে তাদের মধ্যে ঐক্য দেখে যেতে চাই জানিয়ে তিনি বলেন সকলের সহযোগিতায় তা সম্ভব হয়েছিল। তিনমাস পর সাতক্ষীরায় এসে সাংবাদিকদের এই

মিলনমেলা দেখে আমি খুশী হয়েছি’ মন্তব্য করে তিনি বলেন ‘ অনৈক্য অনাসৃষ্টির মুল।ঐক্য সাংবাদিকদের পেশার উৎকর্ষ সাধনে সহায়ক বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন সাতক্ষীরার মানুষ শান্তিপ্রিয়। কিন্তু কিছু সংখ্যক

লোক তাদের মাঝে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের কলংক লেপন করেছে বলে মন্তব্য করেন তিন্ িতিনি বলেন, আমার জন্মস্থান রাজবাড়ি। আর আমার দ্বিতীয় জন্মস্থান সাতক্ষীরা। আমার যদি স্বাভাবিক মৃত্যু হয় তাহলে আমি

যেনো এই সাতক্ষীরায় চিরনিদ্রা যেতে পারি আবেগে আপ্লুত হয়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারছিলেন না তিনি। আমাকে রংপুরের অতিরিক্ত ডিআইজি বলে আমাকে সাতক্ষীরার মাটি ও মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন না করার আহবান

জানিয়ে তিনি বলেন আমি সাতক্ষীরায় ছিলাম এবং সাতক্ষীরায় আছি। আমি আপনাদেরই লোক বলে উল্লেখ করেন তিনি। চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির আরও বলেন আজ যে সেতুবন্ধন রচিত হলো তা যেনো চিরস্থায়ী হয়। তিনি

সাতক্ষীরাবাসীকে তার কর্মস্থল রংপুরে আমন্ত্রন জানান। চৌধুরী মঞ্জুরুল কবিরকে লড়াকু এসপি এবং সাতক্ষীরাকে বাংলাদেশের মডেল জেলা ও শান্তির জেলা হিসাবে আলোচিত হবার কাজে মুখ্যভূমিকা পালনকারী

হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়। এ সময় বক্তাদের মুখে তিনি নানাভাবে প্রশংসিত হন। অনুষ্ঠাপনে তাকেসহ অতিথিদের হাতে প্রতাপনগরে তৈরি শিংসহ কাঠের মৃগয়া মস্তক ও মোষের শিংয়ের লাঠি উপহার হিসাবে তুলে দেন প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন।

অনুষ্ঠানে সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন বলেন আমি এই জেলার মানুষ যাতে রাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারেন সেই চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন আমার পূর্বসুরী চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির আমার প্রেরণা

আমার উৎসাহ। তিনি বলেন জনগনের কল্যাণে তিনি যে পথে কাজ করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন আমিও সেই পথে এগিয়ে যেতে সকলের সহযোগিতা চাই বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সহ পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা, সুধিজন ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন ।
এরপর সন্ধায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সাতক্ষীরার কণ্ঠ শিল্পীরা সংগিত পরিবেশন করেন।
##