সাতক্ষীরা বি,আর,টি,এ অফিসে ঘুষ ছাড়া মোটর রেজিস্ট্রেশনের কাগজ জমা হচ্ছেনা ! দালাল চক্র সক্রিয়


1007 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা বি,আর,টি,এ অফিসে ঘুষ ছাড়া মোটর রেজিস্ট্রেশনের কাগজ জমা হচ্ছেনা ! দালাল চক্র সক্রিয়
সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক  :
টাকা ছাড়া কোন কাজ হচ্ছে না সাতক্ষীরা বিআরটিএ অফিসে। মটর সাইকেলের রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্সের কাগজ জমা দিতে গিয়ে অফিসের নির্ধারিত দালালদের মাধ্যমে না দিলে দফায় দফায় হয়রানি করা হচ্ছে। কাগজপত্র নিয়ে সাতক্ষীরা বিআরটিএ অফিসের সহকারী পরিচালক তানভীর আহমেদ পাঠিয়ে দিচ্ছে অফিস সহকারী আমিনুরের কাছে। আর অফিস সহকারী  পাঠিয়ে দিচ্ছে মোটরসাইকেল বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের কাছে। আর সেখানে রয়েছে বিআরটিএ কর্মকর্তা ও অফিস সহকারীর নিয়োগকৃত এক শ্রেণীর  দালাল। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে মাত্র ১০০ গজ দূরে অবস্থিত বিআটিএ অফিসের সামনে চিহ্নিত একটি দালাল চক্র অফিস চলাকালীন সময়ে মানুষের সাথে এভাবে প্রতারণা করলেও যেনো দেখার কেউ নেই।

জেলার লাইসেন্স করতে আসা একাধিক ব্যক্তি জানান, প্রত্যেক রেজিস্ট্রেশনে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা না দিলে ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার পরেও কাগজ জমা নিচ্ছে না। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের অফিস থেকে মাত্র ১০০ গজ দূরে বিআরটিএ অফিসের নিয়োগ করা দালালদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ এমন হয়রানি হলেও কার্যকর কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে না বলে ভূক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি পুলিশের মহাপরির্দশকের ঘোষণা ও রাস্তায় রেজিস্ট্রেশন বিহীন মটর সাইকেল আটকের কারণে মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশনের হিড়িক পড়ে যায়। সাতক্ষীরা জেলার ৭টি উপজেলা ছাড়াও পাশ্ববর্তী খুলনার পাইকগাছা, কেশবপুর, যশোরের শার্শা উপজেলাসহ বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাতক্ষীরা বিআরটিএ অফিসে রেজিস্ট্রেশনের জন্য আসছে মটর সাইকেল মালিকরা। কিন্তু মটর সাইকেল রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স করাতে পদে পদে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষ। অফিসে এসে ফরম পূরণ থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত দালালদের মাধ্যমে না করলে তাদের কাগজপত্র জমা হচ্ছে না। যারা দালালদের মাধ্যমে যারা কাগজপত্র না করছে তাদের দিনের পরে দিন হয়রানি করা হচ্ছে।

সূত্র আরো জানায়, অফিসের প্রধান কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিন) তানভীর আহমেদ, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক নাসির উদ্দিন, অফিস সহকারী আমিনুল ইসলাম, অফিস সহায়ক সাইফুল ইসলামের প্রত্যক্ষ ছত্রছায়ায় গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী দালাল চক্র। অফিসে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন করাতে ব্যক্তিদের ফরম পূরণের জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হয় বিশেষ কিছু ব্যক্তির কাছে। সেখান থেকে ফরম পূরণ করে আনলে সকল কাগজপত্র পরীক্ষা করে অফিস সহকারী আমিনুল ইসলাম ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার জন্য পাঠায়। টাকা জমা দেওয়ার পরে প্রদত্ত কাগজপত্রের সাথে অফিসের মটরযান পরিদর্শক আবু জামাল পরীক্ষা করে ওই কাগজে স্বাক্ষর করেন। এর পরেই শুরু হয় সেবা গ্রহীতাদের হয়রানি। ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার পরে কাগজ বিআরটিএ অফিস জমা নেওয়ার বিধান থাকলেও তাদের পাঠিয়ে দেওয়া হয় বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের কাছে। অফিস থেকে বলা হচ্ছে তাদের মাধ্যমে ছাড়া কোন কাগজ জমা নেওয়া হবে না। এরপর শুরু হয় অফিস সহকারী আমিনুল ইসলামের সামনে সার্বক্ষণিক (অফিস স্টাফের মতো) বসে থাকা শরীফের নেতৃত্বে গড়ে উঠা ডজন খানেক দালালেও দৌরাত্ম। তারা প্রত্যেক মটর সাইকেলের জন্য দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা নিয়ে অফিস কর্মকর্তাকে ১২’শ থেকে ১৫’শ টাকা পর্যন্ত দিচ্ছে। আর এই টাকা না পেলে কোন কাগজ ছুয়েও দেখছে না অফিসের কর্মর্কর্তারা।

মঙ্গলবার বিকেলে ও বুধবার সকালে সাতক্ষীরা বিআরটিএ অফিসে গিয়ে দেখা যায়, অফিসকে ঘিরে ছোট জটলা তৈরি হয়েছে। কিছু মানুষ কাগজ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। অফিসের স্টাফ নাসির উদ্দিন বিভিন্ন অজুহাতে কাগজগুলো ফিরিয়ে দিচ্ছে। অফিস সহকারী আমিনুল ইসলামের সামনে অফিস স্টাফের মতো বসে আছে মাথায় পাগড়ি পরা দালাল চক্রের প্রধান শরীফ। অফিস সহকারী  দালাল ও বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ছাড়া কোন কাগজ জমা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ।

দেবহাটার টাউনশ্রীপুর গ্রামের রেজাউল ইসলাম জানান, গত দুই দিন ধরে আমি বিআরটিএ অফিসে ওয়ালটন ৮০ সিসি মটর সাইকেলের রেজিস্ট্রেশন করতে আসছি। অফিসের অনুগত লোকের মাধ্যমে ছাড়া কোন কাগজপত্র জমা নেয়নি। আমিনুলের কাছে গেলে তার সামনে বসে থাকা এক দাড়িওয়ালা-পাগড়ি পরা ব্যক্তিকে দেখিয়ে দেয়। ওই ব্যক্তি অফিস সহকারী নাসির উদ্দীনের নিকট জমা দিতে বলে । কিন্তু নাসির উদ্দিন বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ছাড়া কাগজ জমা নেবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়। পরে সহকারী পরিচালককে একজন মানবাধিকার কর্মীর পরিচয় দেওয়ার পরে আমিনুল তা জমা নেন। তিনি আরো জানান, ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার পরেও তারা টিআর চালান নেই, পুনরায় টিআর চালান জমা নিতে হবে, বিক্রেতার মাধ্যমে দিতে হবে বলে বসিয়ে রেখেছে। তবে অফিসের সামনে অবস্থিত দালালদের ২ হাজার টাকা থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত দিলে সকল কাগজ সাথে সাথে বৈধ হচ্ছে।

আশাশুনি উপজেলার বাকড়া গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান জানান, ২০১১ সালে কেনা ডায়াং ৮০ সিসি মটর সাইকেলের রেজিস্ট্রেশন করতে আসেছি। রোববার ব্যাংকে টাকা জমাও দিয়েছি। তখন তারা সকল কাগজপত্র দেখেছে। টিআর চালানও দেওয়া আছে। পরিদর্শক মটর সাইকেল পরিদর্শন করে কাগজে সাক্ষরও করেছে। কিন্তু আমি নিজে দিতে গেলে অফিস সহকারী আমিনুল ইসলাম সহকারী পরিচালক তানভীর আহমেদ এর কাছে পাঠিয়ে দেন। সহকারী পরিচালক তানভীর আহমেদ পুনরায় টিআর চালান দিতে বলেন। টিআর চালান দেখালে তিনি (তানভীর) জানান, ‘ভেনাস অটো চালান ফাঁকি দিয়েছে’। তারা একটি চালানে ১০ হাজার টাকা দিয়েছে। এটা চলবে না। কাস্টমসে সত্যায়িত করতে হবে। নতুবা ভেনাসের মাধ্যমে আসতে হবে’। এ সময় ভেনাসে গেলে দায়িত্বপ্রাপ্ত মশিউর রহমান জানান, সহকারী পরিচালক প্রমাণ দিতে পারবে না সরকারের টাকা ফাঁকি দিয়েছি। তবে আমাদের মাধ্যমে নিতে গেলে কিছু তো খরচ হবে। তিনি আরো বলেন, দালালদের মাধ্যমে না গেলে তারা কাগজ জমা নিবে না। তার চেয়ে ২ হাজার টাকা দেন সব ঠিক হয়ে যাবে।