সাতক্ষীরা বিসিকে চিংড়ি ব্যবসায় ধস


123 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা বিসিকে চিংড়ি ব্যবসায় ধস
সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২২ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

ডেস্ক রিপোর্ট ::

লবণাক্ত পানির সংকটে সাতক্ষীরা বিসিকে চিংড়ি ব্যবসায় ধস নেমেছে। উপযুক্ত পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও পার্শ্ববর্তী বেতনা নদী থেকে লবণাক্ত পানি সংগ্রহের সুযোগ না থাকায় সাগর থেকে লবণ পানি পরিবহন করে এনে লোকসানের মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। এতে বাধ্য হয়ে চিংড়ি উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী।

সাতক্ষীরা বিসিকে ৩৩টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিপরীতে মোট ৯৬টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া আছে। যেখানে চালু রয়েছে ২৬টি প্রতিষ্ঠান। লোকসানের মুখে বন্ধ হয়ে গেছে চারটি প্রতিষ্ঠান। বন্ধ হওয়ার পথে রয়েছে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

এদিকে এক সময় চিংড়ির রমরমা ব্যবসা হলেও এখন ব্যবসায় ধস নেমেছে। চারটি চিংড়ির প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তিনটি বন্ধ হয়ে গেছে। নামে টিকে আছে চিংড়ি বাংলা হ্যাচারি। চিংড়ি ব্যবসায় লোকসানে পড়ে বন্ধ হয়ে গেছে বিসমিল্লাহ হ্যাচারি ও সোনারগাঁও হ্যাচারি ও চিশতিয়া হ্যাচারি।

বিসিক শিল্পনগরী সাতক্ষীরা থেকে গড়ে প্রতি বছর ৭৫ কোটি ৪০ লাখ টাকার পণ্য উৎপাদিত হয়। এই শিল্পনগরীতে নতুন করে সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে এগ্রো বেজ ও ভেটেরিনারি ব্যবসা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগে চিংড়ি হ্যাচারির ব্যবসায়ীরা পার্শ্ববর্তী বেতনা নদী থেকে খুব সহজে লবণাক্ত পানি সংগ্রহ করত। তবে বেতনা নদী খনন করায় সেটা এখন সম্ভব হয় না। তাই বাধ্য হয়ে সাগর থেকে পানি পরিবহন করে আনতে হতো। এতে অনেক বেশি খরচ পড়ে যেত। এটাই মূলত লোকসানের কারণ।

চিংড়ি ব্যবসার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ব্যবসায়ীরা নতুন করে এগ্রো বেজ শিল্প ও ভেটেরিনারি ওষুধ কারখানার দিকে ঝুঁকছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি গ্রুপের শিল্প-কারখানা করার প্রক্রিয়া চলছে। তাছাড়া দুটি ভেটেরিনারি ওষুধ কারখানা অল্প সময়ের মধ্যে কার্যক্রম শুরু করবে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম জানান, লবণাক্ত পানির অভাবে চিংড়ি ব্যবসায় ধস নেমেছে। ব্যবসায়ীরা লোকসানে পড়ে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছেন। দুই বছরের বেশি সময় ধরে বিসিক শিল্পনগরী সাতক্ষীরায় বেশ কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিত্যাক্ত হয়ে পড়ে আছে। পরিত্যাক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন করে চালুর কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ওই প্রতিষ্ঠানগুলো সরিয়ে নতুন প্রতিষ্ঠান করার সুযোগ করে দিচ্ছে না।

তিনি আরও জানান, সাতক্ষীরা চিংড়ির জন্য বিখ্যাত হলেও লোকসানে পড়ে চিংড়ি ব্যবসা থেকে মুখ ফিরিয়ে উদ্যোক্তারা এখন কৃষি ও ভেটেরিনারি শিল্পের দিকে ঝুঁকছে। কীটনাশক থেকে শুরু করে গবাদিপশুর ওষুধ কারখানা করার প্রক্রিয়া চলছে।

কামরুল হাসান নামে এক ব্যবসায়ী জানান, সাতক্ষীরা বিসিক শিল্প নগরীতে এক সময় চিংড়ির রমরমা ব্যবসা ছিল। তবে লবণাক্ত পানির সংকটে পড়ে চারটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তিনটি বন্ধ হয়ে গেছে। একটি টিকে আছে, তবে সেটা নামেমাত্র।

তিনি আরও জানান, নতুন করে বেশ কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান করার প্রক্রিয়া চলছে। ব্যবসায়ীরা এখন চিংড়ির দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে এগ্রো বেজ ও ভেটেরিনারি বিজনেসের দিকে ঝুঁকছে।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুঠির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) সাতক্ষীরা জেলা কার্যালয়ের উপ-ব্যবস্থাপক গোলাম সাকলাইন জানান, বিসিক শিল্পনগরী ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুর দিকে দিকে এখানে তেমন শিল্প উদ্যোক্তা পাওয়া যেত না। সে সময়ে বিরানভূমি আকারে পড়েছিল এই শিল্পনগরী। তবে বর্তমানে ৯৬টি শিল্প প্লট ৩৩টি শিল্প ইউনিটের বিপরীতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যার মধ্য ২৬টি শিল্প ইউনিট চালু ও ৭টি শিল্প ইউনিট বিভিন্ন কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো বছরে ৭৫ কোটি ৪০ লাখ টাকার পণ্য উৎপাদন করে।

তিনি জানান, সাতক্ষীরা এক সময় চিংড়ির জন্য বিখ্যাত ছিল। এখানে ব্যবসায়ীরা চিংড়ির পোনা উৎপাদন করতো। তবে লবণাক্ত পানির সংকটসহ অন্য কারণে চিংড়ি ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন উদ্যোক্তারা চিংড়ি থেকে মুখ ফিরিয়ে এগ্রো বেজ ও ভেটেরিনারি বিজনেসের দিকে ঝুঁকছেন।