সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে শিক্ষক সংকট। চরম বিপাকে শিক্ষার্থীরা


476 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে শিক্ষক সংকট। চরম বিপাকে শিক্ষার্থীরা
আগস্ট ৩০, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক :
শিক্ষক সংকটে বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম। দীর্ঘ দিন ধরে এ অবস্থা চললেও নতুন কোন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না। ফলে চরম বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। কলেজের ৪র্থ বর্ষের লেখাপড়া প্রায় শেষ হতে চললেও শিক্ষার্থীরা এখনও দেখা পায়নি অধ্যাপক পদমর্যাদার কোন শিক্ষককে। এনিয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা চরম হতাশায় দিনাতিপাত করছে।

বর্তমানে ৭৭টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছে মাত্র ৩২ জন। ফলে ৪৫ জন শিক্ষকের পদ রয়েছে শুন্য। কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকে কোন অধ্যাপককে পদায়ন না দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা পরিপূর্ণ জ্ঞান অর্জনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

অন্যদিকে কর্মচারী সংকটেও ভেঙ্গে পড়েছে কলেজের প্রশাসনিক কার্যক্রম। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে বার বার চিঠি দিয়ে শিক্ষক সংকটের বিষয়ে অবহিত করা হলেও কোন সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ সূত্র জানায়, ২০১১ সালের ১৬ অক্টোবর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে অফিসিয়াল কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১২ সালের ২০১১-২০১২ সেশনে প্রথম ব্যাচের ৫২জন শিক্ষার্থী ওরিয়েন্টেশন ক্লাসের মাধ্যেমে কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে।

বর্তমানে ২০৮ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। ২০১২ সালের ২০ জুলাই জেলা শহরের প্রাণ কেন্দ্র থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জ সড়কের বাঁকাল এলাকায় কলেজের নিজস্ব ভবনে শুরু হয় সকল কার্যক্রম। শুরু থেকেই শিক্ষক সংকটের বোঝা মাথায় নিয়ে চলে কলেজের চিকিৎসা শিক্ষা কার্যক্রম।

সূত্র আরো জানায়, কলেজে ১২টি বিভাগে অধ্যক্ষসহ ৭৭টি মঞ্জুরিকৃত পদ আছে। কলেজের ১৫টি একাডেমিক বিভাগ আছে। বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে অধ্যাপকের ১২টি পদে কলেজে কখনও কোন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। সহযোগী অধ্যাপকের ২০ পদের মধ্যে শুন্য আছে ১৩টি, সহকারী অধ্যাপকের ২১টি পদের মধ্যে শুন্য আছে ১২টি এবং প্রভাষক পদে খালি আছে ৮টি।

কর্মচারীদের ফার্মাসিস্ট (গ্রাজুয়েট) একটি পদের ১টি, মেডিকেল টেকনিশিয়ান (ল্যাব) ৪টি পদের ৪টিসহ বিভিন্ন পদের আরো ৭টি পদে নেই কোন শিক্ষক। মাইক্রো বায়োলজি ও কমিউনিটি মেডিসিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পোষ্টে কোন শিক্ষক নেই। ফলে এ দুই বিষয়ে ক্লাস হয়না বললেই চলে।

সূত্র আরো জানায়, অধ্যপকের পদায়ন না থাকায় সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপকদেরকে বিভাগীয় প্রধানের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করে মেডিকেল কলেজের একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, তীব্র প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা দিয়ে একজন শিক্ষার্থী মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পায়। মেডিকেলের শিক্ষার্থীদের প্রত্যেকে ভালো শিক্ষা গ্রহন প্রয়োজন। শিক্ষার ঘাটতি থাকলে ব্যবহারিক জীবনে সফল হওয়া কঠিন। কিন্তু শিক্ষক সংকটের কারণে এখানে আমাদের শিক্ষার ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে।

কলেজের ৪র্থ বর্ষের একজন শিক্ষার্থী বলেন, মেডিকেল শেষ হতে চলেছে অথচ আমরা আজো কোন অধ্যাপকের সাক্ষাত পায়নি। ফলে আমাদের সারা জীবনের শিক্ষার কিছুটা হলেও অর্পূণ থেকে যাচ্ছে। আমরা কোন অধ্যাপকের সান্নিধ্য না পাওয়ার যে ঘাটতি থাকবে তা পূরণ হবে না। তারা আরো বলেন, অধ্যাপক স্যারেদের জ্ঞান, প্রজ্ঞা অনেক বেশি। সুতরাং শিক্ষক সংকটের কারণে তাদের কাছ থেকে জ্ঞান আহরণ করতে পারছি না।
শিক্ষার্থীরা আরো জানান, কলেজে শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি কর্মচারীদের পদ শুন্য রয়েছে। তাদের পদ শিক্ষা সম্পর্কিত টেকনিক্যাল হওয়ায় আমাদের শিক্ষায় ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।

মেডিকেল কলেজের সূত্র আরো জানায়, শুরু থেকেই মেডিকেল কলেজে শিক্ষক সংকট ছিলো। বর্তমানে যে শিক্ষকগণ কর্মরত আছেন তাদের ডেপুটেশনে এখানে পদায়ন দেওয়া হয়েছে। স্থায়ীভাবে কাউকে পদায়ন দেওয়া হয়নি।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ কাজী হাবিবুর রহমান ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে জানান, শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়কে জানানো হয়েছে। একাধিক দফায় চিঠিও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শিক্ষক সংকট কাটেনি।
তিনি জানান, কয়েকদিন আগেও চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে দ্রুত কয়েক জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানাগেছে।