সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডা.আতিকসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা


391 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের  সাবেক অধ্যক্ষ ডা.আতিকসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
আগস্ট ২৮, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

আসাদুজ্জামান :
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের যন্ত্রপাতি ক্রয়ের নামে পরস্পরের যোগসাজশে ১৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে মডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. এস জেড আতিকসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা সদর থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে দুদক। আসামিদের মধ্যে ৬ জন চিকিৎসক।

বৃহস্পতিবার রাতে দুদকের সহকারী পরিচালক আমিরুল ইসলাম বাদী হয়ে এ মামলা দুটি দায়ের করেন। যার মামলা নং ৫৩ ও ৫৪।

সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি এমদাদ শেখ মামলা দায়েরের বিষয়টি ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বিবরণে জানাগেছে, ১৩ কোটি ৭০ লাখ টাকার মধ্যে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বাবদ ৭ কোটি ৫১ লক্ষ ২১ হাজার ৫০১ টাকা ও  সদর হাসপাতাল বাবদ ৬ কোটি ১৯ লক্ষ ৭৬ হাজার ২৪ টাকা আত্মসাতের পৃথক অভিযোগে সদর থানায় এ মামলা দুটি দায়ের হয়।

মামলা দুটির আসামিরা হলেন, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সাবেক অধ্যক্ষ ও পরিচালক ডা. এস জেড আতিক, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা: রুহুল কুদ্দুস, জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা: নারায়ণ প্রাসাদ সান্যাল, সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা: একেএম জাহাঙ্গীর আলম, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: মারুফ হাসান, জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা: রহিমা খাতুন, মহাখালী ন্যাশনাল ইলেক্ট্রো মেডিকেল ইকুইপমেন্ট মেইন্টেন্যান্স ওয়ার্কশপ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের অ্যাসিসট্যান্ট রিপায়ার হাবিবুর রহমান, সাতক্ষীরা সমাজসেবা অধিদফতরের সমাজ সেবা কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুজ্জামান, সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা একে এম সোহরাব হাসান, কুষ্টিয়া গণপূর্ত উপ-বিভাগ-১ এর হারুন-অর-রশীদ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপ-সচিব আবদুল মালেক এবং সেগুন বাগিচা মার্কেন্টাইল ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের প্রোপাইটার আবদুস সাত্তার। এর আগে দুদকের সভায় সংশ্লিষ্টদের নামে মামলা দায়েরের অনুমোদন দেয়া হয়।

মামলায় দুটিতে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে যন্ত্রপাতি ক্রয়ের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ১২ জনের বিরুদ্ধে মোট ১৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে আরও জানা যায়, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জন্য ভারী যন্ত্রপাতি, ইডিসিএল বহির্ভুত ওষুদপত্র, সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি, গজ ব্যান্ডেজ, কেমিক্যাল সামগ্রী, কিচেন সামগ্রী ও আসবাবপত্র ক্রয়ের লক্ষ্যে উল্লিখিতরা পরস্পস যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বা অবৈধভাবে লাভবান হয়ে বাজার দরের চেয়ে বেশি দামে মূল্য তালিকা তৈরী করেন। সে অনুযায়ী দরপত্র আহবান করা হয় এবং দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি অবৈধভাবে লাভবান হয়ে বাজার দর যাচাই না করেই ঠিকাদার মেসার্স মার্কেন্টাইল ট্রেড ইন্টারন্যাশনালকে প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সরবরাহের জন্য ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। পরে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বিলও উত্তোলন করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি। এবং সেখানেও অবৈধভাবে লাভবান হন সংশ্লিষ্টরা। এই দুর্নীতির মাধ্যমে ৭ কোটি ৫১ লাখ ২১ হাজার ৫০১ টাকা আত্মসাতের বিষয়টি পরবর্তীতে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে আসে।

একই প্রক্রিয়ায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের ভারী মেশিনারিজ সরবরাহের ক্ষেত্রে উল্লিখিতরা পরস্পর যোগসাজশে ৬ কোটি ১৯ লাখ ৭৬ হাজার ২৪ টাকা আত্মসাত করেন। যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে মনে করে দুদক।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক শেখ ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে জানান, বৃহস্পতিবার রাতে মামলা দু’টি রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজননীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. এস জেড আতিক ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে জানান, তিনি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দায়িত্বে থাকাকালীন কোন অনিয়ম দূর্নীতির আশ্রয় নেননি। মামলা দায়েরের কথা তিনি শুনেছেন। তিনি আরো জানান, সুষ্টু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হলে তিনি এ দায় থেকে রেহাই পাবেন বলে বিশ্বাস করেন।