সাতক্ষীরা রায়হানা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যু


465 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা রায়হানা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যু
এপ্রিল ২৯, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের সহকারী রেজিস্টার ডা. আসিফ কওছারের মালিকানাধীন অনুমোদনহীন রায়হানা সার্জিক্যাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অবহেলায় এক নবজাতক পুত্রের মৃত্যু হয়েছে। নিহত নবজাতক সদর উপজেলার ছনকা গ্রামের আসিয়া খাতুন ও ইউনূস চৌদালীর পুত্র। এ ঘটনায় ক্লিনিকের মালিক ডা. আসিফ কাউছার জোর করে রোগীদের ছাড়পত্র দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা করছে।
সূত্র জানায়, সদর উপজেলার ছনকা গ্রামের ইউনূস চৌদালীর স্ত্রী আসিয়া খাতুন গর্ভবতী হলে চিকিৎসকের পরামর্শে থাকে। শুক্রবার সকালে আসিয়ার প্রসব বেদনা শুরু হলে স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে কাথন্দা বাজারে অনুমোদনহীন রায়হানা সার্জিক্যাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করে। সকাল ১০টায় ক্লিনিকে তার প্রচন্ড প্রসব বেদনা হলেও ক্লিনিকে কোন চিকিৎসক ছিলো না। এ সময় সেখানে থাকা নার্স মরিয়ম সুলতানা ও শাহিদা সুলতানা আসিয়ার স্বাভাবিক ভাবে বাচ্ছা প্রসাব করানোর চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে আসিয়া বাচ্ছা প্রসব করলে বাচ্ছা কিছুক্ষণের মধ্যে মারা যায়। এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে সাতক্ষীরা থেকে ক্লিনিকের মালিক সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের সহকারী রেজিস্টার ডা. আসিফ কাউছার ক্লিনিকে পৌঁছান। তিনি সেখানে নব জাতকের মাতাকে কৌশালে ছাড়পত্র দিয়ে ক্লিনিক ত্যাগ করান। এ সময় বিভিন্ন ভাবে তাকে ম্যানেক করার চেষ্টা করেন। ফলে বাধ্য হয়েই অসুস্থ্য শরীরের স্বজনরা আছিয়াকে বাড়িতে নিয়ে যান। নবজাতকের স্বজনরা জানান, ক্লিনিক থাকলেও সেখানে কোন ডাক্তার থাকেন না। আমরা গিয়ে কোন ডাক্তার পায়নি। ফলে ঠিকমত চিকিৎসা হয়নি। তারা আরো জানান, অদক্ষ নার্স ডাক্তার না থাকায় আমাদের বাচ্ছাকে টানা হেচড়া করে মেরে ফেলেছে। তবে নার্স মরিয়ম সুলতানা জানান, বাচ্ছা স্বাভাবিক ভাবে প্রসাব করানো হয়েছে। প্রসবের ১০-১২ মিনিট পরে নবজাতক মারা যায়। তবে ক্লিনিকের মালিক ডা. আসিফ কাউছার জানান, আমি নিজে বিকেলে গিয়ে রোগীদের ছাত্রপত্র দিয়েছি। তারা অভিযোগ করার কথা না। তিনি আরো জানান, সেখানে ২৪ ঘন্টা একজন ডিপ্লোমা নার্স থাকে। তবে ডাক্তার থাকার কথা না। তিনি বলেন, আমাদের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু হয়নি। প্রসব বেদনা ৩/৪ দিন ধরে উঠছিলো। কিন্তু তারা আগে নিয়ে আসেনি। তাই নবজাতক মারা গেছে। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. আরিফুজ্জামান জানান, ক্লিনিকের কোন অনুমোদন নেই। অনুমোদন লাভের আগের কোন ক্লিনিক চালু করতে পারবে না। এ বিষয়ে খোজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।