সাতক্ষীরা রেঞ্জে বাড়ছে পর্যটক : বড় আকর্ষণ সুন্দরবন


652 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা রেঞ্জে বাড়ছে পর্যটক : বড় আকর্ষণ সুন্দরবন
জানুয়ারি ৩০, ২০১৬ জাতীয় ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক :
পর্যটনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ সুন্দরবন। তবে বিভিন্ন কারণে সুন্দরবনও হারাতে বসেছে তার নিজস্বতা। বন এলাকা সংকুচিত হয়ে পড়ছে। মূল আকর্ষণ রয়েল বেঙ্গল টাইগার আর হরিণের সংখ্যাও কমছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব ছাড়াও, কিছু অসাধু মানুষের কারণে এই ম্যানগ্রোভ বন হারাতে বসেছে তার সৌন্দর্য্য, বিপন্ন হয়ে পড়েছে এর প্রাণীকূল আর বৃক্ষরাজী। শত বাধা উপেক্ষা করে বিশ্বেও সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ এ বনে বাড়ছে পর্যটকের সংখ্যা। বনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে বাড়ছে রাজস্ব আদায়। তবে বনে ঢুকতে পর্যটকরা পদে পদে হয়রানি হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। তবে এ বিষয়ে বনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক তৌফিকুল ইসলামের ফোনে যোগাযোগ করলে বন্ধ পাওয়া যায়।

images
সূত্র জানায়, বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের সৌন্দর্য্যরে রাশি ছড়িয়ে আছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশাল এলাকাজুড়ে। ম্যানগ্রোভ বন, চিত্র হরিণ আর বিশ্বখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার সুন্দরবনের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলেও গভীর বন আর গাড় সবুজের এ সমারোহে চোখ খুললেই দেখা মিলবে বিভিন্ন জীবজন্তু, পাখ-পাখালি আর কীট-পতঙ্গের সঙ্গে গোলপাতা, গাছ-গাছালি ও নানা উদ্ভিদের প্রাণ বৈচিত্র্য। বঙ্গোপসাগর পথকে ছুটে আসা জলভেজা লবণাক্ত বাতাসে এ সৌন্দর্যে আছে ভয় মেশানো এক শিহরণ। প্রাকৃতির এক অকৃপণ সৃষ্টি।

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশাল এলাকাজুড়ে সুন্দরবনের অবস্থান। দুই’শ বছর আগে মূল সুন্দরবনের বিস্তৃতি ছিল প্রায় ১৬ হাজার ৭০০ বর্গকিলোমিটার। তবে সংকুচিত হতে হতে বর্তমানে আয়তন এসে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ হাজার বর্গকিলোমিটারে। সুন্দরবনের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ পড়েছে বাংলাদেশে আর বাকিটা ভারতে। এ হিসেবে সুন্দরবনের বাংলাদেশের অংশ প্রায় ৫ হাজার ৮০০ বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে চার হাজার একশ বর্গকিলোমিটার স্থলভাগ ও এক হাজার ৭০০ বর্গ কিলোমিটার জলাভূমি।

imagesasssssssssss
সূত্র আরো জানায়, বিশ্ব জুড়ে সুন্দরবনের খ্যাতি রয়েল বেঙ্গল টাইগার আর চিত্রল হরিণের জন্য। তবে এখানে বানর, কুমির, হাঙ্গর, ডলফিন, অজগর ও বনমোরগ ছাড়াও রয়েছে কয়েকশ প্রজাতির প্রাণী, পাখি, সরীসৃপ ও দুইশ’রও বেশি প্রজাতির মাছ। এসব বন্য প্রাণী ও সুন্দরবনের নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখতে দেশ-বিদেশের পর্যটকরা ছুটে আসেন। সুন্দরবনের নাম স্বার্থক করতেই রয়েছে সারি সারি সুন্দরী গাছ। এছাড়াও রয়েছে গরান, গেওয়া, কেওরা ধুন্দল, গোলপাতাসহ প্রায় তিনশ প্রজাতির বৃক্ষ। বন বিভাগের সূত্র জানায়, ২০১৩ সালে সুন্দরবনের চারটি রেঞ্জে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে পর্যটক আসেন এক লাখ ৫৫ হাজার ৩১৭ জন। ২০১৪ সালে এক লাখ ৫৪০ জন। আর ২০১৫ সালে এক লাখ ৮১৭ জন।
সম্প্রতি বনে বেড়াতে যাওয়া কামালনগরের আব্দুর রহিম জানান, অসংখ্য নদী আর খাল জালের মতো জড়িয়ে আছে সুন্দরবনকে। এগুলো সুন্দরবনকে আকর্ষণ করে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বনে ঢুকতে পদে পদে হয়রানি হতে হয়। মুন্সিগঞ্জ থেকে নৌকা নিতে হলে ইচ্ছামত ভাড়া আদায় করে তারা। অন্যদিকে গভীর বনে প্রবেশে পাস সংগ্রহে ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে।

imagessa

সম্প্রতি ঘুরে আসা কয়েকজন পর্যটক জানান, বনের ভিতর পর্যাপ্ত নিরাপত্তা পাওয়া যায় না। অজানা শঙ্কা নিয়ে বনের মধ্যে প্রবেশ করতে হয়। তিনি আরো জানানা, বনের সাতক্ষীরা অংশে কয়েকটি স্থানে নামার যায়গা থাকলেও সেখানে হাঁটার স্থান নেই। আবার উঁচু কোন ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা নেই। ফলে উঁচু থেকে বনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য দেখার কোন সুযোগ নেই। তিনি সাতক্ষীরা অংশে বনের মধ্যে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, যাতয়াত ব্যবস্থা সহজলভ্য ও ওয়াচ টাওয়ার নির্মান করার দাবী জানান।