সাতক্ষীরা শহরের আট পয়েন্টে যানজটে নাকাল শহরবাসী


499 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা শহরের আট পয়েন্টে যানজটে নাকাল শহরবাসী
জুলাই ১৬, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক :
শহরে যানজটে অতিষ্ট হয়ে উঠছে শহরবাসী। কোন কোন সময় যানজট তীব্র আকার ধারণ করছে। আধা  থেকে এক ঘন্টা পর্যন্ত স্থায়ী হচ্ছে যানজট। ফলে রাস্তার দু’ধারে সাইকেল, মটর সাইকেল, ভ্যান, বাস-ট্রাকের দীর্ঘ সারি পড়ে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এমন অবস্থা চলছে। ভূক্ত ভোগীরা জানায়, অবৈধভাবে রাস্তা দখল, রাস্তার উপর গাড়ি পার্কিং, শহরে নছিমন-করিমন চলাচলসহ নানা কারণে শহরে যানজট হচ্ছে। যানজট নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে ট্রাফিক বিভাগ। ফলে দুর্ভোগে পড়েছে শহরবাসী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে শহরের খুলনা রোড মোড়, পাকা পুলের মোড়, নিউ মার্কেট মোড়, হাটের মোড়, সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় মোড়, দিবা-নৈশ্য কলেজ, পলাশপোল স্কুল মোড়, সংগীতা সিনেমা হল মোড়ে শুরু হয় যানজট। কোন যানবাহনে নেই কোন শৃঙ্খলা। থেমে থেমে যানজটে ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর্যন্ত মানুষ যানবাহন নিয়ে আটকে থাকছে। যানজটের কারনে নিউ মার্কেট থেকে পলাশপোল স্কুল পর্যন্ত গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকছে। আর নিউ মার্কেট থেকে হাটের মোড় পর্যন্ত পড়ে যাচ্ছে  লম্বা লাইন। ট্রাফিক বিভাগের পুলিশ যানজট নিয়ন্ত্রণে কাজ করলে মাঝেমধ্যে পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্তনের বাইরে চলে যাচ্ছে। যানজটের কবলে পড়া রসুলপুর গ্রামের আব্দুল ওয়াদুদ জানায়, ঈদের কারনে শহরে হঠাৎ শহরে যানজট বেড়েছে। সকালে নিউ মার্কেট এলাকায় অন্তত ২০ মিনিট আটকে থাকতে হয়। ঈদের কারণে শহরে মানুষের আনাগোনার  সাথে সাথে যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আরো জানান, শহরে  দিনের বেলায় ট্রাক আনলোড করা, রাস্তার দু’ধার অবৈধভাবে দখল করার কারণে যানজট বেড়েছে। অন্যদিকে দিনের বেলায় ঢাকা গামী পরিবহনের কারনেও যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। রসুলপুর গ্রামের আব্দুল আলিম জানান, সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় মোড়, দিবা-নৈশ্য কলেজ মোড়ে যানজট লেগে আছে। সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় মোড়ে ট্রাক চলাচলের কারণে যানজট লেগে থাকে। তিনি আরো জানান, শহরের হাটের মোড়ে সকালে ট্রাকের কারণে হাঁটা যায় না। ট্রাকগুলো হায়ানার মতো মনে হয় গর্জন করতে করতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। অন্যদিকে দিবা-নৈশ্য কলেজ মোড়ে বড় বাজারের বিভিন্ন পিকআপ ও ট্রাকের কারণে যানজট হচ্ছে। তিনি আরো জানান, শহরের ভিতরে পর্যন্ত সংখ্যাক ট্রাফিক পুলিশ দেখা মিলছে না। তাদের শহরের বাহিরে বিভিন্ন মোড়ে অভিযানে দেখা যাচ্ছে। তিনি শহরে বেশি সংখ্যাক ট্রাফিক মোতায়েনের দাবী জানিয়ে বলেন, দিনের বেলায় শহরে ট্রাক প্রবেশ বন্ধ করা, রাস্তার দু’ধারে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হলে শহরে যানজটসহ জন দুর্ভোগ কমবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। বাঁকাল গ্রামের শাহেদ মোস্তফা চৌধুরী জানান, শহরের কয়েকটি পয়েন্টে বৃহস্পতিবার তীব্র যানজট হয়। সকলে হাটের মোড় থেকে মাত্র পৌনে এক কিলোমিটার রাস্তা মটর সাইকেলে যেতে এক ঘন্টা সময় লেগেছে। ফলে কাজের মারাত্বক ক্ষতি হচ্ছে। তিনি আরো জানান, সংগীতা সিনেমা হলের মোড়, নিউ মার্কেট মোড় ও পাকা পুলের মোড়ে সবচেয়ে বেশি জট লাগে। এ সময় দুই পাশে বাস-ট্রাকের কারণে দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। তিনি আরো জানান, দুপুর দেড়টার পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
সাতক্ষীরা ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট মৃত্যুঞ্জয় কুমার জানান, শহরে ঈদের কারণে যানজট একটু বেশি হচ্ছে। ট্রাফিক বিভাগ যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।