সাতক্ষীরা শহরের ভিতর রাস্তা নয়, এ যেন মরণ ফাঁদ


496 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা শহরের ভিতর রাস্তা নয়, এ যেন মরণ ফাঁদ
আগস্ট ১৪, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক, বিশেষ প্রতিনিধি ॥
সাতক্ষীরা পৌরসভার ভিতর সড়র বিভাগের রাস্তায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন গর্তে পড়ে যাচ্ছে ছোট বড় অসংখ্য যানবাহন। শহরের প্রধান প্রধান সড়কে রাস্তার পিচ উঠে পাথর বেরিয়ে গেলেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না সড়ক ও জনপদ বিভাগ। ফলে প্রতিদিন শহরের রাস্তার কারণে ঘটছে ছোট ছোট দুর্ঘটনা। গর্তে পড়ে মাইক্রো, প্রাইভেট, মটরসাইকেলসহ যাববাহনের ব্যপক ক্ষতি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিজিবি ক্যাম্পের সামনে ভ্যান উল্টে পড়ে যান চলাচল বিঘœ হয়। পথচারিরা বলছে, শহরের ভিতর রাস্তা নয়, এ যেন মণর ফাঁদ।

সূত্র জানায়, খানা-খন্দ,ধুলা-বালি আর জানজটের শহরে পরিণত হয়েছে সাতক্ষীরা জেলা শহর। বিশেষ করে সাতক্ষীরা সিটি কলেজ মোড় থেকে বাঁকাল কোল্ডস্টোর পর্যন্ত  প্রায় ৪ কিলোমিটর সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রাস্তার উপর ভরে গেছে ছোট ছোট অসংখ্য পাথর আর খোয়ার টুকরায়। রাস্তার ছালচামড়া উঠে পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়েছে যে, যানবাহন তো দূরের কথা, প্রধান সড়ক দিয়ে পায়ে হাঁটারও পরিস্থিতি নেই। অথচ প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাজার হাজার পথচারীকে চলতে হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ এই সড়ক দিয়েই। শুধু তাই নয়, সাতক্ষীরা ইটাগাছা হাটের মোড় থেকে বাঁকালস্থ ছফুরননেছা মহিলা কলেজ পর্যন্ত (সাতক্ষীরা-মুন্সগঞ্জ সড়কের) সবচেয়ে ব্যস্ততম এলাকার দু’ধারে রাখা হয়েছে যত্রতত্র কয়েক’শ ট্রাক। এই এলাকায় প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জানজটে নাকাল হয়ে পড়ছে পথচারীরা। কিন্তু দেখার কেউ নেই।
চলতি বর্ষা মৌসুমের আগেই সাতক্ষীরা-মুন্সিগঞ্জ সড়কের জেলা শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে বাঁকাল পর্যন্ত সংস্কার কাজ করা হয়। ব্যায় করা হয় প্রায় অর্ধকোটি টাকা। কিন্তু মাত্র কয়েক দিনের টানা বর্ষনে জেলা শহরের ব্যবস্ততম এই সড়কের ছাল-চামড়া উঠে গেছে। অসংখ্য খানা, খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। অত্যন্ত নিম্মমানের সংস্কার কাজ হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পাথর,খোয়ার টুকরা আর ধুলা,বালিতে ভরে গেছে সমস্ত রাস্তা। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, রাস্তার কাজ রাতে হওয়ায় দুর্নীতি ও অনিয়ম বেশি হয়েছে। যার কারণে কয়েক মাস যেতে না যেতেই রাস্তায় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
বাঁকাল গ্রামের বৃদ্ধ আজিজুর রহমান (৭০) জানালেন, জেলা শহরে চলছি বহুকাল ধরে। কিন্তু এতো ভয়াবহ পরিস্থিতি কখনও দেখিনি। যানবাহন তো দূরের কথা পায়ে হাটারও পরিস্থিতি নেই। তিনি বলেন, জেলা শহরের ছফুরণনেছা মহিলা কলেজ থেকে কামালনগর হাটের মোড় পর্যন্ত মেইন সড়কের দু’ধারে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যেভাবে শত শত  ট্রাক রাখা হচ্ছে তা না দেখলে বর্ণনা করে বুঝানো যাবে না। বাড়ী থেকে সাতক্ষীরা শহরের উদ্দেশ্যে বের হলে জীবন বাঁচিয়ে আবার বাড়িতে ফিরতে পারবো এই নিশ্চয়তা নেই।
ছফুরননেছা মহিলা কলেজের এক মহিলা শিক্ষক জানান, সড়কে খানা,খন্দ,ধুলা, বালির কথা তো বলার অপেক্ষাই রাখেনা। সাদা কাপড় পরে এই সড়ক দিয়ে একবার চলাচল করলে কামালনগর হাটের মোড় থেকে তার কলেজ পর্যস্ত কোয়াটার কিলোমিটর রাস্তা ভ্যানে যেতে সময় লাগার কথা মাত্র ৫ মিটিন। অথচ তার সময় লাগে প্রায় এক ঘন্টা,কোন কোন ক্ষেত্রে দেড় থেকে ২ ঘন্টা। মেইন সড়কের দু’ধারে ট্রাক রাখার কারণে দিনের অধিকাংশ সময় ওই এলাকায় লেগে থাকে দীর্ঘ জানজট।
অন্যদিকে সাতক্ষীরা বিজিবি ক্যাম্পের দুই গেটের মাঝখানের রাস্তার অংশটুকু মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। সেখানে প্রতিদিন কয়েকটি গাড়ি, ভ্যান উল্টে যাচ্ছে। রাস্তার উপর বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য সড়ক ও জনপদ বিভাগে গিয়েও নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তার পিয়ন জানান স্যার মিটিং করছেন পরে কথা বলবেন।