সাতক্ষীরা শহরের রাস্তায় বড় বড় গর্ত : এসব দেখবে কে ?


1411 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা শহরের রাস্তায় বড় বড় গর্ত : এসব দেখবে কে ?
আগস্ট ৭, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

এস এম সেলিম :
সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপদ বিভাগের শহরের কয়েকটি সড়কে খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টির পানিতে ডোবায় পরিনত হচ্ছে। অনেক স্থানে পিচ-ইট উঠে মাটি বের হয়ে গেছে। মিলবাজারের বিজিবি ক্যাম্পের সামনে ৫ বছরের স্থায়িত্বের রাস্তায় নতুন পিচ দেওয়ার ৫ মাসের মধ্যে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সওজের ঐ রাস্তার দায়িত্বে নিয়োজিত প্রকৌশলীর সাথে সখ্যতা করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার নি¤œ মানের সামগ্রী ব্যবহার করে রাস্তা নির্মাণ করায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। তবে নির্বাহী প্রকৌশলী মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, রাস্তার দুই ধারে সব সময় পানি জমে থাকায় দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। তবে ভুক্তভোগীরা বলেন, রাস্তায় দীর্ঘ দিন খানা খন্দক সৃষ্টি হলেও সংস্কার জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভা পর্যন্ত সীমাবন্ধ থাকে। রাস্তায় মানুষের দুর্ভোগে কোন পরিবর্তন হয় না।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাতক্ষীরা শহরের সড়ক ও জনপদ অত্যন্ত নাজুক অবস্থা। শহরের সড়ক ও জনপদের আওতাধীন খুলনা রোড মোড়, জজকোর্টের সামনে, চায়না বাংলা শপিং সেন্টারের সামনে, সঙ্গীতা মোড়, বাঙ্গালের মোড়, সিএমবি মসজিদের সামনের রাস্তাগুলোয় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক স্থানে রাস্তার পিট, ইট খোয়া উঠে মাটি বের হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেও সৃষ্ট গর্তের উপর পানি জমে থাকে।

শহরের কামালনগর এলাকার আব্দুল আলিম জানান, রাস্তা যখনই একটু খারাপ হচ্ছে তখনই এলজিইডির লোকজন এসে কিছু চার নম্বর ইট, বালু ও পাথর দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে দায় সারা কাজ করে যাচ্ছে। পিচের রাস্তায় দিচ্ছে আস্ত ইট। ফলে মানুষের দুর্ভোগ আরো বাড়ছে। তিনি আরো বলেন, রাস্তা দীর্ঘ দিন চললেও যেন ঐ রাস্তা দিয়ে প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধিরা কেউ যায় না। এ বিষয়ে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় বার বার কথা উঠলেও কোন কাজ হয় না।

শহরে দীর্ঘদিনের ভ্যান চালক  রহিম বক্স জানান, আমরা তো সারা জীবন  রাস্তায় ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। রাস্তার পিচ ঢালাই যখনই উঠে যায় সেই সময় সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের লোকজন গাড়ী নিয়ে এসে যেনতেন করে রাস্তায় ইট, বালু, দিয়ে কোনো রকম দায় এড়িয়ে যায়। তিনি দ্রুত রাস্তা সংস্কারের দাবীও জানান।

এব্যাপারে পৌর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনিছ খান চৌধুরী বকুল বলেন,  সড়ক ও জনপদ বিভাগের লোকজন বেশ কিছু দিন আগে এসে সামান্য বালু, পাথর দিয়ে সংস্কার করে গেছে। তা খুবই অল্পদিনের মধ্যে আবার যা তাই হয়ে গেছে। যখন এই  রাস্তা দিয়ে ভোমরা স্থল বন্দর থেকে লোড বোঝাই গাড়ী নিয়ে যায় তখন রাস্তা কাপে। তিনি আরও বলেন, রাস্তা অতি দ্রুত খারাপ হওয়ার আরোও একটি কারন হলো রাস্তার দুই পাশে বৃষ্টি হলেই পানি জমে থাকে। যা সরবরাহ করার মতো কোনো ব্যবস্থা নেই।

সূত্র আরো জানায়, সাতক্ষীরা-খুলনা রোডের মির্জাপুর পর্যন্ত রাস্তা তৈরি করা হয়। কিন্তু গত ৪ মাস পূর্বে মিলবাজারস্থ বিজিবি’র দুই ফটকের মধ্যে সংস্কার করা হয়। সেখানে নতুন পিচ দেওয়া হলেও ঐ রাস্তার সবচেয়ে খারাপ হয়েছে দুই ফটকের মধ্যের রাস্তা।

অভিযোগ উঠেছে, ঐ রাস্তার সংস্কারের দায়িত্বে থাকা প্রকৌলশীর সাথে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার দফারফার মাধ্যমে নি¤œ মানের সামগ্রী ব্যবহার করে রাস্তা সংস্কার করেছে। ফলে ৫ বছরের স্থায়িত্বের রাস্তা ৫ মাসের মধ্যেই নস্ট হলো। সংশ্লিষ্টরা তদন্ত করে ঐ ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান।

সড়ক ও জনপদ অদিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোয়াজ্জেম হোসেন ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে জানান, সাতক্ষীরা লাবনী মোড় থেকে মুন্সিগঞ্জ পর্যন্ত মোট ৬৫ কিলোমিটার রাস্তাটি সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের আওতায় এবং খুলন রোড থেকে চুকনগর পর্যন্ত রাস্তাটিও সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের অধীনে। এই রাস্তাগুলো কখনও একবারে বরাদ্ধ হয়নি। যখনই রাস্তাটির খারাপ হয়েছে তখনই আমরা সংস্কার করার চেষ্টা করেছি। সাতক্ষীরা-খুলনা সড়কের বিজিবি ক্যাম্পের সামনের রাস্তার ব্যাপারে তিনি বলেন, আমরা অতি সম্প্রতি এই সড়কের ২০ কিলোমিটার রাস্তা করেছি এর মধ্যে মাত্র ২’শ মিটার রাস্তাটি খুব দ্রুত খারাপ হয়ে গেছে। তার কারন হিসাবে তিনি বলেন, রাস্তার দুই ধারে সব সময় পানি জমে থাকে। এছাড়াও এ রাস্তা দিয়ে ভোমরা বন্দর থেকে ৫০ টন ওজনের লোড নিয়ে গাড়ী দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে। অথচ আমাদের রাস্তার ধারন ক্ষমতা ২০ টনের বেশি নয়। নতুন রাস্তাটির বিষয় তিনি বলেন, সার্কিট হাউজ মোড় থেকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ পর্যন্ত রাস্তাটি আগামী মাসেই টেন্ডার হবে। তারপরেই কাজ শুরু করার পরিকল্পনা আছে।