সাতক্ষীরা শহরে ৪ কারণে লেগেই আছে যানজট : ঘটছে দূর্ঘটনা


564 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা শহরে ৪ কারণে লেগেই আছে যানজট : ঘটছে দূর্ঘটনা
জানুয়ারি ১৬, ২০১৯ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

*উচ্ছেদ অভিযানই পারে ভোগান্তি কমাতে

॥ নাজমুল হক ॥
ব্যবসায়ীদের ফুটপথ দখল, ফুটপথ না থাকায় যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং ও অনুমোদনহী যানবাহন আর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা অভাবে সাতক্ষীরা পৌর শহরে প্রতিনিয়ত যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। শহরের বিভিন্ন সড়কের পাশে দোকানদাররা বাড়িয়ে ২/৩ হাত দখল করে রেখেছে। সাতক্ষীরা পৌরসভার আয়তন ৮০১৮ একরে মানুষের বসবাস দেড় লক্ষ। জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও বৃদ্ধি পায়নি পৌরসভার আয়তন। বৃদ্ধি পায়নি রাস্তা। ফলে স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি যাত্রী ও সাধারণ পথচারীরা পড়ছেন চরম ভোগান্তির মধ্যে। যানজটের কারণে ঘটছে ছোট বড় সড়ক দুর্ঘটনার সাথে প্রাণহানির ঘটনা। মানুষের চরম ভোগান্তি দূর করতে সংশ্লিষ্টরা দোকানের সামনে ফুটপথ দখলকারীদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান দাবী করেছেন। তবে প্রশাসনের সাম্প্রতিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে শহরবাসী।
সরেজমিনে সাতক্ষীরা পৌর শহর ঘুরে দেখা যায়, সাতক্ষীরা শহরের বাঁঙ্গালের মোড়, ইটেগাছা হাটের মোড় সঙ্গীতার মোড়, নিউ মার্কেট মোড়, পাকাপুলের মোড়, কদমতলা, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, খুলনা রোড মোড়, সদর হাসপাতালের সামনে ও সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের সামনের সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিনিয়ত যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। সড়কে কোন ফুটপথ না থাকায় যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং করা হচ্ছে। সড়কের দুই ধার দখল করে দাঁড়িয়ে রয়েছে বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস ও অন্যান্য পরিবহন। বাসে যাত্রী উঠা নামার জন্য এক স্থানে প্রায় ৫ থেকে ১০ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকে। এতে করে যানজটের সৃষ্টি হয়। জোরে জোরে বাজানো হচ্ছে ক্ষতিকর হাইড্রলিক হর্ণ। শহরের মধ্য দিয়ে দ্রুত গতিতে চলছে ২০ টন মাল ভর্তি ট্রাক। রাস্তার দু’ধার দখল করে চলছে বিভিন্ন ধরনের পণ্যের বিকিকিনি করছে। আবার প্রত্যেক রাস্তার দুই পাশের দোকানদার বিভিন্ন সাইন বোড দিয়ে প্রচার চালাচ্ছে। রাস্তা দখল করে পন্যের পসরা সাজিয়ে রেখেছে। ফলে যানজটের কারণে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে সাধারণ পথচারীদের। ফুটপথ না থাকায় যানজটের কারণে রাস্তা দিয়ে চলাচল ও পারাপার হতে পারছে না স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। এছাড়া বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালনোর কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। স্থানীয় প্রশাসনের অব্যবস্থাপনার কারণে শহরে এই অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। রাস্তার দুপাশে গাড়ি পার্কিং, চা, পান, ফুল ও ফলের দোকানের উপস্থিতি। যত্রতত্র পার্কিং, ফুটপাত দখলের কারণে রাস্তার প্রস্থও ছোট হয়ে আসছে। রাস্তার ওপর বিভিন্ন বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে অবৈধ পার্কিংয়ের ঘটনা বেশি ঘটছে। সাতক্ষীরায় কদমতলা ব্রীজ থেকে শুরু করে সিটি কলেজ মোড় ঘুরতেই রাস্তার গা ঘেসে চার দোকান, সার্কিট হাউস মোড় কাঁচা বাজার চা পানের দোকান ভ্যান বালি খোয়া রাস্তার পাশে রেখে বিক্রি করার কারণে সব সময় যানজট লেগে থাকে। পুলিশ লাইন গেট থেকে শুরু করে বাস টার্মিনাল, খুলনা রোড মোড় পর্যন্ত রাস্তার দুপাশে বাস ট্রাক বেবিটেক্সি, ভ্যান এমন ভাবে পার্কিং করা থাকে মানুষের চলাচলের সমস্য সৃষ্টি হয় যা অনেক সময় সড়ক দুর্ঘটনা ও ঘটে। পলাশপোল স্কুেলর সামনে পার্টেসর দোকানগুলি প্রায় রাস্তার জায়গা দখল করে রেখেছে। রক্্িরসিনেমা হলের নীচে ভাজা বিক্রি, লাবনী মার্কেটের সামনে নীচের দোকানগুলি মালপত্র এমন ভাবে রাস্তার ফুটপথ দখল করে সাজিয়ে রাখে। দোকানের সাইনবোর্ড দিয়ে ফুটপথ বন্ধ করে রাখে। যে কারণে সাধারণ মানুষের পথ চলতে অসুবিধা হয় এবং রাস্তা পাশে জায়গা না থাকায় দীর্ঘ সময় যানজট সৃষ্টি হয় নিউমার্কেট আলাউদ্দিন চত্বর। সঙ্গীতা, তুফান কোং পশু হাসপাতাল মোড়ে ১১টি ঢাকাগামি পরিবহনের কাউন্টার আছে। তাদের নির্দিষ্ট টার্মিনাল না থাকায় রাস্তার পাশে দাড়িয়ে যাত্রী উঠা নামানোর কাজ করতে হয়। হাটের মোড়ে থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসের সামনে, বাস, ট্রাক, ভ্যান চা, পান, সিগারেট, ছোট বড় দলীয় অফিস, পানি উন্নবোর্ডের পাচিলের গাদিয়ে মাইক্রোস্টান্ড, বাঁশ মার্কেট কটসিটের দোকান গড়ে উঠেছে। এভাবে সড়ক জনপদ, গণপূর্ত, বাংগালের মোড়, কুকরালি মোড়, বাকাল কোল্ডষ্টোর পর্যন্ত একই অবস্থা। ইটাগাছা হাটের মোড় পার হয়ে বুশরা হাসপাতালের সামনে রাস্তার উপর বাশের হাট গড়ে তোলা হয়েছে। কোথাও কোথাও রাস্তার উপর বালি ও খোয়া রেখে তা বিক্রি করা হয়। কেউ কেউ আবার রাস্তার উপর বসে ওল্ডিংয়ের কাজ করে। আর রাস্তার উপর গাড়ি না ধুলে তো গাড়ি যেনো পরিস্কারই হয় না।
সূত্র আরো জানায়, বিগত তত্বাবধায়ক সরকারের সময় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় শহরের দুই ধারের দোকানের দখল করা রাস্তার সীমানা উদ্ধার করা হয়। সেটা বহুদিন চললেও কালের বিবতনে হারিয়ে যায়। পুরানো চেহারায় উঠে এসেছে শহরের চিত্র। স্থানীয় জানান, শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আগের থেকে ভালো হলেও কিছু যায়গায় থাকে না। কিছু চিহ্নিত এলাকায় তাদের তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। তবে এই শীতের দিনেও সকাল ৬টায় থেকে ৮/৯ টা পযন্ত শহরতলীর তালতলা, বাকাল, লাবসা পলিটেকনিকের পাশে তাদের অবস্থান থাকে। সেখানে কোন জট না থাকলেও শীতের ঐ সকালে উক্ত স্থানে একজন কনস্টেবল দিয়ে একজন সাজেন্টের থাকা নিয়ে মানুষের মুখরোচক কিছু গল্প আছে।