সাতক্ষীরা সদর ইউএনও’র হস্তক্ষেপে মেধাবী ৩ ছাত্রীর বাল্য বিবাহ বন্ধ


1211 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা সদর ইউএনও’র হস্তক্ষেপে মেধাবী ৩ ছাত্রীর বাল্য বিবাহ বন্ধ
আগস্ট ১২, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

আব্দুর রহমান :
বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও মানব সম্পদ উন্নয়নের স্বার্থে এদেশে নারী-পুরুষের আইন সম্মত বিবাহের বয়স ১৮ ও ২১ বছর হলেও প্রতিদিনই ঘটছে বাল্য বিবাহের ঘটনা। বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে স্কুল পড়ুয়া শিশুরাই বেশী বাল্য বিবাহের শিকার হয়। ফলে বেশীরভাগ মেয়েদের শিক্ষা জীবন শিশু বয়সে শেষ হয়ে যাচ্ছে। মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার শুরু থেকেই বাল্য বিবাহ ও অন্যান্য আর্থ-সামাজিক কারণে কন্যাশিশুরা ঝরে পড়ছে। মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা জীবন সফলভাবে শেষ করার আগেই দেশের বেশীরভাগ কন্যা শিশুরা বাল্য বিবাহের ফাঁদে পড়ে শিক্ষা জীবনের ইতি টানতে বাধ্য হচ্ছে। ঠিক এমন সময় সাতক্ষীরা সদর উপজেলা প্রশাসন যখন ‘শিক্ষাই প্রথম ॥ বাল্য বিবাহকে লাল কার্ড’ দেখিয়ে চলেছে ঠিক তখনই সদর উপজেলার আয়োজন করা হয়েছিল ৩টি বাল্য বিবাহের।

77777777
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার শাহ্ আব্দুল সাদীর হস্তক্ষেপে বন্ধ হলো তিনটি বাল্য বিবাহের কার্যক্রম। শুক্রবার দুপুরে গোপন সংবাদ ও ফেসবুকে বাল্য বিবাহের প্রস্তুতির অভিযোগ পেয়ে তিনি এ ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন।
ভ্রাম্যমান আদালতে সাতক্ষীরা পৌর সভার কামালনগর সরকারি গোরস্থান সংলগ্ন কামালনগর উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণিতে পড়–য়া মেধাবী ছাত্রী, সদরের ফিংড়ি ইউনিয়নের এল্লাচর এলাকার সাতক্ষীরা ডে নাইট কলেজের একাদশ শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী ও সদরের  আলিপুর ইউনিয়নের  মাহমুদপুর এলাকায় এক ছাত্রীর বাল্য বিবাহ বন্ধ করা হয়। এ সময় একই নামে ২টি জাল জন্মসনদ উদ্ধার করা হয়। ভ্রাম্যমান আদালতে শ্যামনগরের ভেটখালী এলাকা থেকে বাল্য বিবাহ করতে আসা বর হাসানুজ্জামান কে ২ হাজার টাকা, বরের বাবা মোক্তার হোসেন ২হাজার টাকা, পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের কাজী সাইদুজ্জামনের সহকারি আবুল কাশেমের ছেলে কাজী আব্দুল্লাহকে ২হাজার টাকা, মেয়ের ভাই বাবলু কে ২ হাজার টাকা ও দুলাভাই লাবসা ইউনিয়নের কৈখালী গ্রামের মৃত জসিম উদ্দিন সরদারের ছেলে মো. মুজিবর সরদারকে ২হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ১৮ বছর বয়স পুর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিবাহ দিবে না মর্মে মোচলেকা প্রদান করেন।
এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ্ আবদুল সাদী সাংবাদিক আব্দুর রহমানকে বলেন, “আমরা খবর পেয়ে ৩টি বাল্যবিয়ের চেষ্টা বন্ধ করেছি। এখন দেখার বিষয় মেয়েটির শিক্ষাজীবন রক্ষা পায় কি না। আমরা সেই চেষ্টাই করছি। আমরা এটাও চেষ্টা করছি তাকে যেনো অন্যত্র নিয়ে ১৮ বছর না হওয়ার আগে গোপনে বিয়ে দেয়া না হয়। তাকে বাল্যবিয়ের ঝুঁঁকিতে থাকা মেয়ে হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।’ শাহ্ আবদুল সাদী আরো বলেন, ‘আসুন আমরা আমাদের মেয়ে শিশুদের শিক্ষা প্রাপ্তি নিশ্চিত করি। তাদের অপরিণত বয়সে বিয়ের দেয়ার চেষ্টা না করি। শিক্ষার মাধ্যমে আমরা যেনো তাদের জীবন গড়তে সহায়তা করতে পারি।”