সাতক্ষীরা সদর ইউএনও’র হস্তক্ষেপে বন্ধ হলো মেধাবী ছাত্রী’র বাল্য বিবাহ


697 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা সদর ইউএনও’র হস্তক্ষেপে বন্ধ হলো মেধাবী ছাত্রী’র বাল্য বিবাহ
মে ৯, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

আব্দুর রহমান :
বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও মানব সম্পদ উন্নয়নের স্বার্থে এদেশে নারী-পুরুষের আইন সম্মত বিবাহের বয়স ১৮ ও ২১ বছর হলেও প্রতিদিনই ঘটছে বাল্য বিবাহের ঘটনা। বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে স্কুল পড়ুয়া শিশুরাই বেশী বাল্য বিবাহের শিকার হয়। ফলে বেশীরভাগ মেয়েদের শিক্ষা জীবন শিশু বয়সে শেষ হয়ে যাচ্ছে। মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার শুরু থেকেই বাল্য বিবাহ ও অন্যান্য আর্থ-সামাজিক কারণে কন্যাশিশুরা ঝরে পড়ছে। মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা জীবন সফলভাবে শেষ করার আগেই দেশের বেশীরভাগ কন্যা শিশুরা বাল্য বিবাহের ফাঁদে পড়ে শিক্ষা জীবনের ইতি টানতে বাধ্য হচ্ছে। ঠিক এমন সময় সাতক্ষীরা সদর উপজেলা প্রশাসন যখন ‘শিক্ষাই প্রথম ॥ বাল্য বিবাহকে লাল কার্ড’ দেখিয়ে চলেছে ঠিক তখনই সদর উপজেলার বাঁকালে আয়োজন করা হয়েছিল আরো একটি বাল্য বিবাহের ।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ্ আবদুল সাদী’র হস্তক্ষেপে এ বাল্য বিবাহ থেকে রক্ষা পেলো বাঁকাল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণিতে পড়–য়া এক মেধাবী ছাত্রী। রোববার রাতে সদর উপজেলার বাঁকাল বাড়–ইপাড়া গ্রামে এ স্কুল ছাত্রীর বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ্ আবদুল সাদী ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন। ভ্রাম্যমান আদালতে যশোরের ঝিকরগাছা থেকে বাল্য বিবাহ করতে আসা বর নুরুল ইসলাম মিঠু, বরের পিতা আব্দুল কাদের, শহরের পলাশপোল এলাকার কাজী মাওলানা আমিনুল ইসলাম ও কনের মাতা মারিয়া বেগমকেকে বাল্য বিবাহের আয়োজন করার অপরাধে ১ হাজার টাকা করে জরিমানা ও বাল্য বিবাহ না করানোর অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়।
এব্যপারে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ্ আবদুল সাদী বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে মেয়েটির বাল্য বিয়ের চেষ্টা বন্ধ করেছি। এখন দেখার বিষয় মেয়েটির শিক্ষা জীবন রক্ষা পায় কি না। আমরা সেই চেষ্টাই করছি। আমরা এটাও চেষ্টা করছি তাকে যেন অন্যত্র নিয়ে ১৮ বছর না হওয়ার আগে গোপনে বিয়ে দেয়া না হয়। তাকে বাল্যবিয়ের ঝুকিতে থাকা মেয়ে হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আসুন আমরা আমাদের মেয়ে শিশুদের শিক্ষা প্রাপ্তি নিশ্চিত করি। তাদের অপরিণত বয়সে বিয়ের দেয়ার চেষ্টা না করি। শিক্ষার মাধ্যমে আমরা যেন তাদের জীবন গড়তে সহায়তা করতে পারি।