সাতক্ষীরা সদর উপজেলাকে বাল্যবিবাহ মুক্ত করার লক্ষ্যে প্রথম আলো বন্ধু সভার সংলাপ


476 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা সদর উপজেলাকে বাল্যবিবাহ মুক্ত করার লক্ষ্যে প্রথম আলো বন্ধু সভার সংলাপ
নভেম্বর ১৩, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

আব্দুর রহমান :
‘থাকলে শিশু লেখাপড়ায়, সফল হবে সে জীবন গড়ায়’ ‘থাকলে শিশু বিদ্যালয়ে হবে না বিয়ে তার বাল্য কালে’ এই দুটি প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরা সদর উপজেলাকে বাল্যবিবাহ মুক্ত করার লক্ষ্যে প্রথম আলো বন্ধু সভার সদস্যদের সাথে অংশীজন সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শুক্রবার বেলা ১১টায় সদর উপজেলা পরিষদের ডিজিটাল কর্ণারে এ সংলাপের আয়োজন করে সদর উপজেলা প্রশাসন। এতে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ্ আব্দুল সাদী। অংশীজন সংলাপে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ্ আব্দুল সাদী বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেয়েশিশুদের ভর্তির হারে বিস্ময়কর সাফল্য থাকলেও বাল্যবিবাহের কারণে মাধ্যমিক পর্যায়ে এসে মেয়েরা ঝরে পড়ছে। আর মাধ্যমিক পেরিয়ে কলেজ পর্যায় ও উচ্চশিক্ষায় সক্রিয় থাকে অতি ক্ষুদ্র অংশ শিক্ষার্থী। আমাদের মনে রাখতে হবে, নারী ও পুরুষের জন্ম পদ্ধতি যেমন একই রকম, তাদের অধিকার আদায়ের পদ্ধতি হবে একই রকম। বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে আইন রয়েছে আমরা তা যথাযথ ভাবে প্রয়োগ করছি। বাল্য বিবাহের ক্ষেত্রে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় শুধুমাত্র জন্ম সনদ ছাড়া আর কোন সনদ গ্রহনযোগ হবেনা। এসময় তিনি আরো বলেন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে সদর উপজেলা যতগুলো মেয়ের বাল্য বিবাহ বন্ধ করা হয়েছে, তারা আর স্কুলে ফিরে আসেনি। আমরা চেষ্টা করবো যেন বাল্য বিবাহের আয়োজন করার আগেই সেটি বন্ধ করা। খুব শীঘ্রই প্রতিটি বিদ্যালয়ে বাল্যবিবাহ রোধে ‘লাল কার্ড’ প্রদান করা হবে। শিক্ষাই প্রথম, বাল্য বিবাহ কে লাল কার্ড প্রদান করার এ আন্দোলন অব্যহত থাকবে। আমি যদি নাও থাকি তাহলে এই আন্দোলন তোমাদের হাতে দিয়ে যাবো। এছাড়া সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে বাল্য বিবাহ রোধমূলক প্রচারণা করার লক্ষে জারী, পটগান ও নাটিকা প্রচার করা হবে। শাহ্ আব্দুল সাদী বলেন, ‘বাল্য বিবাহ’ প্রতিরোধে সদর উপজেলা নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। বাল্য বিবাহ রোধে বিবাহ সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য জানাতে হটলাইন ০১৯৭২ ১৮১৮২১ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। ছেলের বয়স ২১ ও মেয়ের বয়স ১৮ বছরের কম হলে আইন অনুযায়ী তা ‘বাল্যবিয়ে’ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য হবে। বিবাহকারী, বিয়ে পরিচালনাকারি, অভিভাবক, বাল্য বিবাহের সহযোগি এবং বাল্য বিবাহে আমন্ত্রিত অতিথিরাও এই শাস্তির আওতায় থাকবে তবে নারীদের ক্ষেত্রে কারাদন্ড প্রযোজ্য হবে না। বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে তাৎক্ষণিভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে এ ধরনের বিয়ে বন্ধ করে দোষীদের সাজা দেয়ার বিধান রয়েছে।
অংশীজন সংলাপে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলো বন্ধু সভার সদস্য ভৈরব সরকার, আফসানা মিমি, উম্মে তামান্না, রাশিদুল ইসলাম, ইউরিদা আফরিন তানহা, মিরাজ হোসেন, দেবাশিষ বিশ্বাস রাকেশ, শেখ শরিফ হাসান, গোলাম হোসেন রিফাত, দীপ্ত সাহা, এসএম হাবিবুল হাসান, মোঃ রাহাতুল ইসলাম বাপ্পা, সৈয়দ ফয়সাল হাসান রিফাত প্রমুখ।