সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে কমিশন বাণিজ্য করছে ডাক্তাররা !


1248 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে কমিশন বাণিজ্য করছে ডাক্তাররা !
আগস্ট ২৯, ২০১৭ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক ::
কমিশন বাণিজ্যে ভরে গেছে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল। হাসপাতালের বাহিরে নির্দিষ্ট যায়গা থেকে পরীক্ষা না করালে পরীক্ষার রিপোর্ট ছুড়ে ফেলে দেন কতিপয় চিকিৎসক। হাসপাতাল থেকে পরীক্ষা করালেও সেগুলো দেখা হয়না বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে রোগীর সাথে করা হয় দুব্যবহার। আবার হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক থাকেন প্রাইভেট ক্লিনিকে। রোগীরা ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়েও কাঙ্খিত চিকিৎসকের দেখা পান না। সরকারি চিকিৎসকরা হাসপাতালে সময় কম দিয়ে নিজের চেম্বারে বেশি সময় দিচ্ছেন। আবার অনেকের নিজস্ব হাসপাতালও আছে। এসব ডাক্তার রোগীর চিকিৎসার জন্য তাদের সরকারি হাসপাতালে না পাঠিয়ে নিজের হাসপাতালে এবং বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালেও পাঠান। যেখানে চিকিৎসার খরচ সরকারি হাসপাতালের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, হাসাপাতালের কতিপয় চিকিৎসক সরকারি এ হাসপাতাল থেকে পরীক্ষা করানো জন্য ডায়গনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালের টোকেন দেয়। সেখানে চিকিৎসকরা সীল ও স্বাক্ষর দিয়ে দেদারসে পাঠাচ্ছেন তাদের কমিশনের প্রাইভেট হাসপাতালে। তবে এ বিষয়ে সদর হাসাপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. কামরুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে চিকিৎসকদের সাথে কথা বলবো। তারা যেন এটা আর না করে।

সূত্র জানায়, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল কতিপয় চিকিৎসক প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়গস্টিক সেন্টারের কমিশন বাণিজ্যের ব্যবসা শুরু করেছে। কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে কতিপয় চিকিৎসক কোন বিষয়ে পরীক্ষার প্রয়োজন হলে প্রাইভেট হাসপাতালের স্লিপ ধরিয়ে দিচ্ছে।

রবিবার সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালে ঔষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধি ও দালালদের অভায়রণ্যে পরিণত হয়েছে। দালালরা বিভিন্ন কায়দায় হাসপাতাল থেকে প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগী ভাগিয়ে নিচ্ছে। অন্যদিকে হাসপাতালে আসা রোগীর পদে পদে হয়রানি হচ্ছে। টিকিট কাটা রোগীরা টোকেনে লেখা কক্ষে গেলেও সেখানে ডাক্তার থাকেন না। তারা ব্যস্থ থাকেন ঔষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধির সাথে সাক্ষাত করতে। হাসপাতালে থাকা দালালরা এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা হয়না বলে রোগীকে প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যাচ্ছে। তবে সবচেয়ে বড় অভিযোগ রয়েছে হাসপাতালের পরীক্ষা নিরীক্ষায়।
হাসাপাতালে রোগীদের বাহিরে পরীক্ষা করানোর জন্য বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠাচ্ছে। এসব ডাক্তারদের সাথে প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রয়েছে কমিশনের চুক্তি। পরীক্ষার ধরণ অনুযায়ী রোগীর কাছ থেকে আদায় করা অর্থের ২০-৬০% পর্যন্ত এসব ডাক্তারদের দেওয়া হয়। ফলে তারা হাসপাতালে রোগী দেখলেও ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা বিভিন্ন সরকারি হাসপতালের ডাক্তারদের দেওয়া বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালের টোকেন দিয়ে অভিযোগ করেন।
রবিউল ইসলাম নামে এক রোগী জানান, অনেক ডাক্তার রোগীকে নিজের পরিচিত ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মেডিকেল টেস্ট করার নির্দেশ দেন। সেখানে ডায়াগনস্টিক টেস্ট না করালে অনেক ডাক্তার চিকিৎসা করতে অসম্মতিও জানান। এর কারণ হল, সেই ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে লাভের একটা অংশ পেয়ে থাকেন ডাক্তার নিজে। আর এই লাভের জন্য সামান্য মাথাব্যাথার রোগীকেও সিটিস্ক্যান করার নির্দেশ দিতে পিছপা হন না তারা। একটিবারের জন্য ভাবেন না এর ব্যয়ভার রোগীর পক্ষে বহন করা সম্ভব কি-না। চিকিৎসকের ধর্ম যদি প্রাণ বাঁচানো না হয়ে বাণিজ্য হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের কী হবে? সাধারন রোগীদের প্রশ্ন, এদেশে চিকিৎসা কেন্দ্রগুলো রোগীদের নিয়ে যে বাণিজ্যে মেতে উঠেছে তার শেষ কোথায়?
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতলের আবাসিক কর্মকর্তা ও সিভিল সার্জনের সাথে যোগাযোগের চেস্টা করে বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।