সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে সেবার নামে চলছে ক্লিনিক রমরমা ব্যবসা


318 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে সেবার নামে চলছে ক্লিনিক রমরমা ব্যবসা
সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৭ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

আব্দুর রহিম ::

চিকিৎসকের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর খবর ইদানিং খুব বেশি ঘটছে। পত্রিকা খুললেই এই দুঃসংবাদটি চোখে পড়ে । যেখানে সরকার মাতৃমৃত্যু এবং শিশুমৃত্যু রোধ করার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। সেই সময়ে কিছু অসাধু ডাক্তার ও নার্স যোগসাজোসে সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে নিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করে গরীব অসহায় প্রসূতি রোগীদের জিম্মি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা যা খুবই বেদনা দায়ক।

চিকিৎসকের অবহেলা, ভুল চিকিৎসায় জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে সাতক্ষীরায় প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে ১৯ জন। চিকিৎসকের অবহেলায় ও ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু হয়েছে ১৮ টি নবজাতক। দেখা গেছে বেশির ভাগ মৃত্যু হয়েছে বেসরকারী বা প্রাইভেট ক্লিনিকে। সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার রোগীকে সেবা দেওয়ার নামে বেশি অবহেলা করে বলে রোগীরা তাদের প্রাইভেট ক্লিনিকে যেতে বাধ্য হন। আমরা দেখছি সরকারি হাসপাতাল এখনো প্রসূতি সেবায় অনেক ভূমিকা রাখলেও কিছু অসাধু ডাক্তার, নার্স ও পোষা দালালের খপ্পরে পড়ে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে রোগী যেতে বাধ্য হয়।

ফলে মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর যে খবর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে তা বেশির ভাগ প্রাইভেট হাসপাতালে ঘটেছে। প্রাইভেট হাসপাতাল গুলি তাদের ব্যবসার জন্য রোগীদের ভাল চিকিৎসা সেবা দেবার নাম করে ভুলিয়ে ক্লিনিকে নিয়ে অপচিকিৎসা দিয়ে, অবহেলা করে এবং ভুল চিকিৎসা দিয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে ।

সহশ্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে এই মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু রোধ করা অবশ্যই প্রয়োজন। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের গাইনী কনসালট্যান্ট ও সার্জন ডা. এহেছেন আরার বিরুদ্ধে সরকারি হাসপাতালের প্রসূতি রোগীদের ভাগিয়ে নিয়ে তার নিজস্ব সানজানা নার্সিং হোম এন্ড ক্লিনিকে রোগীর পরিবারকে জিম্মি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। সম্প্রতি শহরের রসুলপুর এলাকার রজব আলীর স্ত্রী প্রসব বেদনা উঠলে সাতক্ষীরা সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়।

তার প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগীর চাপে ঐ রোগীর দ্রুত অপারেশনের এক পর্যায়ে ঐ রোগীর পেটে গজ ব্যান্ডেজ রেখে সেলাই করে দেন। পরবর্তীতে সমস্যা দেখা দিলে আলট্রাসোনো করে দেখা যায় ঐ রোগীর পেটে গজ ব্যান্ডেজ পচন ধরেছে। অসহায় রোগীর অবস্থা খারাপ হলে শহরের ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতালে ভর্তি করে।

পরবর্তীতে রোগীর অবস্থা আরো খারাপ হলে খুলনা মেডিকেল হাসপালে ভর্তি করে রোগীর পরিবার। অপরদিকে ৬ সেপ্টেম্বর শহরের সুলতানপুর এলাকার তরকারি ব্যবসায়ী নুর ইসলামের স্ত্রী নাজমা বেগম সদর হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে ভর্তি হতে গেলে গাইনী বিভাগের কিছু অসাধু ডাক্তার নার্স ও সদর হাসপাতালের গাইনী কনসালট্যান্ট ও সার্জন ডা. এহেছেন আরার পোষা দালাল ঐ রোগীর পরিবারের হাতে একটি কার্ড ধরিয়ে দেয়। সদর হাসপাতালে সিজার হবেনা।

সানজানা নার্সিং হোম এন্ড ক্লিনিকে নিয়ে যাও। সেখানে রোগী ভর্তি করলে প্রথমে ৫০০ টাকা ও পরে দালালেরা ২০০ টাকা নেয় এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নীরিক্ষার নাম করে ২ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। সদর হাসপাতালের গাইনী কনসালট্যান্ট ও সার্জন ডা. এহেছেন আরা তার প্রাইভেট ক্লিনিকে সিজারের জন্য ১২ হাজার টাকা লাগবে বলে জানিয়ে দেয়।

ঐ গরীব অসহায় রোগীর পক্ষে ১২ হাজার টাকা দেওয়া খুবই কষ্ট সাধ্য হয়ে দাড়ায়। এক পর্যায়ে ভিটাবাড়ির জমি বিক্রি করে ১০ হাজার টাকা দিতে রাজি হয় রোগীর পরিবার। তখন গাইনী ডাক্তার সাফ জানিয়ে দেয় ১২ হাজার টাকাই তাকে দিতে হবে। মুমূর্ষু অবস্থায় রোগীকে ফিরিয়ে আনা হয়। বিষয়টি সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা. তওহীদুর রহমানকে জানালে তিনি বলেন, রোগীকে আমার কাছে পাঠান আমি শুনে-বুঝে ব্যবস্থা নেব।

এব্যাপারে সিভিল সার্জন ডা. তওহীদুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালের কোন ডাক্তার নিজস্ব ক্লিনিক চালাতে পারেনা। উনি হয়তো অন্যনামে সানজানা নার্সিং হোম এন্ড ক্লিনিকটি চালাচ্ছেন।

এব্যাপারে ভুক্তভোগী রোগী ও সচেতন মহলের দাবী সরকারি হাসপাতালের কোন ডাক্তারের প্রইভেট ক্লিনিক চালাতে পারবেনা এবং তারা যদি এভাবে প্রাইভেট ক্লিনিক চালায় তবে সরকারি হাসপাতালের সেবা ব্যহত হবে।
##