সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে অপারেশন করতে গিয়ে হাত ভাঙ্গা রোগীর মৃত্যু


1547 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে অপারেশন করতে গিয়ে হাত ভাঙ্গা রোগীর মৃত্যু
সেপ্টেম্বর ১, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক :
এবার হাত ভাঙ্গা রোগীর প্রাণ নিলো সদর হাসপাতালের তিন চিকিৎসক। দীর্ঘ চার মাস পরে দুই দফা হাত ভাঙ্গার অপারেশনের পরে মারা যায় আশাশুনি উপজেলার শালখালি গ্রামের সোহেল উদ্দীনের ছেলে রবিউল ইসলাম (৩০)। সোমবার দ্বিতীয় দফা অপারেশনের পরে প্রচন্ড অসুস্থ্য হলে তাকে তড়িঘড়ি করে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেওয়া হয়। খুলনায় ২৫০ শয্যায় স্বজনরা নিলে আধা ঘন্টার মধ্যে সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. ফরহাদ জামিল জানান, অপারেশনের পরে লাঞ্চে পানি জমে কিন্তু সেটি নিয়ন্ত্রণে না আসায় পরে তার মৃত্যু হতে পারে।

নিহতের বন্ধু ওজিহার রহমান জানান, গত চার মাস আগে ইঞ্জিন ভ্যান থেকে পড়ে তার বন্ধু রবিউল ইসলামের বাম হাত ভেঙ্গে যায়। এ সময় তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সদর হাসপাতাল থেকে তার হাতের প্লাস্টার ও এক দফা অপারেশন করে। কিন্তু হাতের হাড় জোড়া না লাগায় হাসপাতালের চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক ১৫/১৬ দিন অন্তর ডাক্তার দেখাতে হতো। সর্বশেষ গত ১৫ দিন পূর্বে চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে তার পরিবার।

গত সোমবার হাসপাতালে বাম হাত অপারেশনের দিন ধার্য্য ছিলো। সে মোতাবেক সদর হাসপাতালের ডা. ওয়ালিদের নেতৃত্বে ডা. আলমগীর কবীর অপারেশন করেন। অন্যদিকে সদর হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট এ্যানেস্থেসিয়া ডা. আসাদুজ্জামান রোগীকে অবাশ করেন। সকাল সাড়ে ১০টায় অপারেশন শুরু হয়ে দুপুর সাড়ে ১২টায় শেষ হয়। অপারেশন শেষ হলেও রোগীর জ্ঞান ফেরেনি। তবে বিকেলে কয়েকবার সে চোখ খুলে বলে তিনি জানান।
নিহতের ছোট ভাই রফিকুল ইসলাম বলেন, অপারেশনের পরে রোগীর অবস্থা আরো খারাপ হয়। ডাক্তাররা এ সময় রোগীর প্রতি অতিরিক্ত যতœ দেখিয়ে বিকেল সাড়ে ৪টায় রোগীকে রিলিজ দেয়। এ সময় ডাক্তার দ্রুত খুলনার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরামর্শ প্রদান করেন। রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার পর পরই তিনি মারা যান।

নিহতের ভাই অভিযোগ করে বলেন, সদর হাসপাতালের তিন ডাক্তার আমার ভাইকে মেরে ফেলেছে। হাত ভাঙ্গা রোগীর হাত জোড়া লাগাতে গিয়ে মৃত্যু হয় আমি জীবনে প্রথম দেখলাম। অজ্ঞান করা ডাক্তার আসাদুজ্জামানের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ।

একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, রোগীকে অজ্ঞান করার সময় মাত্রাতিরিক্ত ঔষধ প্রয়োগ করায় তার জ্ঞান আসে নি। ফলে তার মৃত্যু হয়। যখন তার অবস্থা খুব খারাপ তখন তাকে বাহিরে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরামর্শ প্রদান করেন। রোগী মৃত্যুর পরে রোগীর স্বজনরা রোগীকে নিয়ে রাতে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। সেখানে কয়েকজন ডাক্তার ও দালাল তাদের দ্রুত বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. ফরহাদ জামিল জানান, রোগী মৃত্যুর খবর শুনেছি। তবে আমার কাছে কেই লিখিত অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ না করলে কোন ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। তিনি আরো বলেন, রোগীর অপরারেশনের পরে প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। আমাদের এখানে আইসিইউ না থাকায় সমস্যা হচ্ছিল। তার অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাদের রিলিজ দিয়ে ২৫০ শয্যা হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তার মৃত্যু হয়।

প্রসঙ্গত, গত ৯ আগস্ট শহরের সংগ্রাম হাসপাতালে সদর হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট এ্যানেস্থেসিয়া ডা. আসাদুজ্জামান ও ডা. রুহুল কুদ্দুসের অবহেলায় রোগী মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সিভিল সার্ভিস অফিসের পক্ষ থেকে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।