সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল সার্জারী ওয়ার্ড সিলগালা


850 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল সার্জারী ওয়ার্ড সিলগালা
এপ্রিল ২৪, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক :
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের সার্জারী ওয়ার্ড সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। সার্জারী ওয়ার্ডে ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ায় বৃহস্পতিবার বন্ধ করে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বিকল্প ব্যবস্থা চালু না করায় দুর্ভোগে পড়েছে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাধারণ রোগীরা। হাসপাতাল কর্র্র্তৃপক্ষ সার্জারীর কোন রোগীকে ভর্তি করছে না বলে অভিযোগ করেন ভূক্তভোগীরা। সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন উৎপল কুমার দেবনাথ জানায়, ওয়ার্ডটি ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ায় চিকিৎসা বিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী তিন দিনের জন্য দরজা-জানালা বন্ধ করে সিলগালা করা হয়েছে। তিন দিন পরে তা খুলে দেওয়া হবে।

সূত্র জানায়, জেলার সরকারি চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসাপাতল প্রতিষ্ঠিত হয়। ১০০ শয্যার হাসাপাতালে প্রতিদিন জেলার পাশাপাশি খুলনা ও যশোর জেলার একাংশের রোগীরা ভর্তি হয়। বুধবার সার্জারীর এক রোগীর শরীর থেকে ওয়ার্ডে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়ে মেডিসিন দিয়ে ওয়ার্ড সিলগালা করে দেয়। ফলে ওয়ার্ডের সকল রোগীকে স্থানান্তরিত করা হয়। এ সময় হাসপাতালে সকল দরজা-জানালা বন্ধ করে দেওয়া হয়। পূর্ব ঘোষনা ছাড়াই সিলগালা করায় দুর থেকে আসা রোগীরা হাসপাতালে আসলেও চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

শুক্রবার রাতে হাসপাতালে দুর্ঘটনার শিকার হওয়া গাভা গ্রামের গহর আলী সরদার ও তাদের স্বজনরা জানান, হাসপাতালে সার্জারী রোগীদের কোন চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে না। জরুরী বিভাগে দীর্ঘ দিন থেকে গড়ে উঠা দালাল চক্র এই সুযোগে রোগী বিভিন্ন ক্লিনিকে ভাগিয়ে নিচ্ছে।

তিনি আরো জানান, আমি মাথায় আঘাত পেলে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টায় ভর্তির জন্য হাসপাতালে যায়। জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত ডাক্তার না থাকায় চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়নি। আমার লোকজন গাড়ি থেকে নামানোর পরে পাশের কক্ষে অবস্থান নেওয়া ডা. পরিমল কুমার আমাকে না দেখে কর্তব্যরত ওয়ার্ড বয়ের কথা শুনে আমাকে খুলনা ২৫০ শয্যার হাসপাতালে ভর্তির জন্য রেফার্ড করে। আমাকে জরুরী বিভাগে নেওয়া হলেও কোন ডাক্তার বা ব্রাদার আমার গায়ে হাত দিয়েও দেখিনি। আমি ব্যাথার যন্ত্রনায় কাতরালেও তারা আমাকে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা পর্যন্ত দেয়নি। ফলে আমার স্বজনরা আমাকে উপান্তু না পেয়ে শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করে।

সূত্র আরো জানায়, শনিবার জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সার্জারীর রোগীদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। হাসাপাতালে সার্জারীর রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না অজুহাতে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়েছে বিভিন্ন ক্লিনিকে গড়ে উঠা দালাল চক্র। তারা রোগীদের ভাগিয়ে নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করছে। আর জরুরী বিভাগ থেকে বেশি ক্ষত রোগীদের খুলনা, যশোরে পাঠানো হচ্ছে বলে ভূক্তভোগীরা অভিযোগ করেছে।

ভূক্তভোগীরা আরো জানান, ওয়ার্ড সিলগালা করার বিষয়ে ফলাও করে প্রচার হলে রোগীরা হয়রানির শিকার হতো না।
এ বিষয়ে সিভিল সার্জন উৎপল কুমার দেবনাথ জানায়, চিকিৎসা বিজ্ঞানের নিয়ম মেনে ওয়ার্ড সিলগালা করা হয়েছে। তবে জরুরী বিভাগ মনে করলে রোগীকে ভর্তি করতে পারবে। ওয়ার্ড সোমবার থেকে চালু হবে।