সাতক্ষীরা সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রাক্তন ডিডির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ : শো’কজ


321 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রাক্তন ডিডির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ : শো’কজ
আগস্ট ১৭, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নূরুজ্জামান রিকো ও আশরাফুল আলম :
বদলীর পর সাতক্ষীরা সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক শেখ মহসিন আলীর বিরুদ্ধে ঋণ ও প্রতিবন্ধী বৃত্তির লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সমাজসেবা অধিদপ্তর তার বিরুদ্ধে স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্ত করেছে এবং তদন্ত শেষে চলতি মাসের ৮ আগস্ট সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (কার্যক্রম) তার বিরুদ্ধে সাত কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছেন।

ওই নোটিশে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর ছত্রছায়ায় পরিচালিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্টাফ’র সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সমালোচিত সমাজসেবা কর্মকর্তা শেখ মহসিন আলী বর্তমানে নোয়াখালী জেলায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

কারণ দর্শানো নোটিশ সূত্রে জানা যায়, শেখ মহসিন আলী ২০০৭ সাল থেকে ২০১৬ সালের ১০ আগস্ট পর্যন্ত আশাশুনি উপজেলায় কর্মরত ছিলেন। এর মধ্যে শেষ তিন বছর তিনি জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে প্রভাব ভাটিয়ে তিনি অনুমোদনবিহীন ও অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় ২৪ লক্ষ টাকা ঋণ বিতরণ করেছেন।

তার বিরুদ্ধে ৩০টি ব্যাংক হিসাব পরীক্ষান্তে ৩ লক্ষ ১৭ ৪৯০ টাকা আত্মসাতের তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১৪ সালের পর থেকে অনুমোদনবিহীনভাবে বিতরণ করা হয়েছে বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও বিধবা ভাতা। কর্মকালীন সময়ে তিনি প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তির কয়েকশত চেক জালিয়াতির মাধ্যমে নয় লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন।

অভিযোগ, শেখ মহসিন আলী আশাশুনি উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের ভবন লাগায়ো একটি টিনসেড ঘর তৈরী করে ভাড়া দেন এবং ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে তিনি দুই লক্ষ টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেন।

২০১৩ সালে কম্পিউটার ক্রয় খাতে বরাদ্দকৃত পঞ্চাশ হাজার টাকা উত্তোলন করা হলেও কম্পিউটার ক্রয় না করে আত্মসাৎ করেন তিনি।

আশাশুনি এতিম ছেলে মেয়েদের কারিগরী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকাকালীন প্রতিষ্ঠানের সামনের সরকারি জায়গা লিজ দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন কয়েক লক্ষ টাকা। যা সরকারি খাতে জমা দেওয়া হয়নি।

পরে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালীন তিনি লেমিনেটিং পেপার ও লেমিনেটিং মেশিন ক্রয়ের নামে প্রতিবন্ধী সনাক্তজরীপ খাতের লক্ষ লক্ষ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন।

সূত্র জানায়, তিনি সরকারি কর্মকর্তা হয়েও জেলার পোস্ট অফিস মোড়ে ডিএক্সএন নামে একটি এমএলএম ব্যবসা পরিচালনা করছেন এবং বর্তমানে নোয়াখালী জেলায় পোস্টিং হলেও অধিকাংশ সময় সাতক্ষীরাতে থেকে অবৈধ এমএলএম ব্যবসা দেখাশুনা করছেন।

সমাজসেবা কর্মকর্তা শেখ মহসীন আলী স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর ছত্রছায়ায় পরিচালিত বেসরকারী প্রতিষ্ঠান স্টাফ’র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অনিয়মতান্ত্রিকভাবে আশাশুনি উপজেলা থেকে উক্ত প্রতিষ্ঠানের নামে জাতীয় সমাজ কল্যাণ পরিষদ থেকে ২০১০ সালে সরকারি অনুদানও পাইয়ে দেন।

এদিকে, সম্প্রতি তিনি তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এড়াতে ও সাতক্ষীরায় বদলী নিতে দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দেবাশীষ সরদার জানান, শেখ মহসীন আলীর বিরুদ্ধে গত জুন মাসে অধিদপ্তর থেকে একটি টিম তদন্তে এসেছিল। পরে তাকে শো’কজ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে শেখ মহাসিন আলী জানান, তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে তা সঠিক নয়। তাকে হেয়পতিপন্ন করার জন্য অভিযোগ করা হয়েছে । অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত চলছে।