সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ আমান-উল্লাহ-আল-হাদির নির্দেশে গোপনে সরকারি গাছ কর্তন !


798 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ আমান-উল্লাহ-আল-হাদির নির্দেশে গোপনে সরকারি গাছ কর্তন !
অক্টোবর ৩, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

আব্দুর রহমান মিন্টু :
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ আমান-উল্লাহ-আল-হাদির নির্দেশে গোপনে সরকারি গাছ কর্তন করা হয়েছে। কোনো প্রকার টেন্ডার ছাড়াই প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকার গাছ শুক্রবার কলেজ বন্ধের দিনে সুযোগ বুঝে কর্তন করে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরকারি কলেজের একাধিক শিক্ষক-কর্মচারির অভিযোগ, কলেজ উপাধ্যক্ষ আমান-উল্লাহ-হাদি দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকে সরকারি কোন ধরনের নিময়-কানুন তোয়াক্কা না করে একের পর এক সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়ম করে যাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে তাকে দেখে নেওয়ার হুমকী দেন ওই শিক্ষক। সরকারি কলেজের যাবতীয় টেন্ডার নামে-বেনামে তিনি নিয়ন্ত্রন করে আসছেন। বিশেষ করে কলেজের বিজ্ঞানাগারের জন্য প্রতিবছর প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা সরকারি বরাদ্দ আসে। এসব টাকার নামমাত্র জিনিসপত্র কিনে বাকী টাকা লোপাট করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আর এসব টাকা হরিলুটের জন্য উপাধ্যক্ষের নেতৃত্বে রয়েছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিগেট। তার অনুসারী কয়েক জন শিক্ষক ওই সিন্ডিগেটের সক্রিয় সদস্য। সূত্র আরও জানায়, এনিয়ে কলেজ অধ্যক্ষকেও তিনি তোয়াক্কা করেন না। এর আগেও তিনি একাধিক বার সরকারি কলেজের গাছ গোপনে আতাত করে বিক্রি করে তা পকেস্থ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

গাছ কর্তনকারী শ্রমিকরা জানায়, কলেজের উপাধ্যক্ষ আমান-উল্লাহ-আল-হাদি স্যারের নির্দেশে গাছ কাটছি। তিনি কলেজের এক পিয়নের মাধ্যমে আমাদের কাছ থেকে আট হাজার টাকা নিয়েছেন। সে পিয়নকে গাছের ডাল দিতে হবে এবং বড় অংশগুলো আমরা নিতে পারবো। তাই গাছ কাটছি।

 

SAM_2068-copy
প্রত্যক্ষদর্শিরা জানায়, সুদুরডাঙ্গী এলাকার আশরাফ আলীর নিকট থেকে গোপনে কলেজের উপাধ্যক্ষ টাকা নিয়ে শুক্রবার এ গাছ কেটে নিয়েছেন। এর আগেও বন্ধের সময় কলেজের অনেক ছোট-বড় গাছ কেটে নিয়েছেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে ছেলেদের কমন রুমের পাশ থেকে একটি কাঠাল কাছ কেটে মাটি দিয়ে ঢেকে দিয়েছেন। আবারও একটি বড় বাবলা গাছ কর্তন করা হল। প্রতিনিয়ত এভাবে গোপনে কলেজের উপাধ্যক্ষ আমান-উল্লাহ-আল-হাদি গাছ কেটে কেটে বিক্রয় করেছেন। তোয়াক্কা করছেন না কোন আইন। তিনি সরকারি কলেজের সম্পত্তি নিজের মনে করে নিজের মতো করেই তা তছরুপ করে চলেছেন।

কলেজের অধ্যক্ষ লিয়াকত পারভেজ  গাছ কেটে নেওয়ার পর তা জানতে পারেন। কলেজ অধ্যক্ষকে এড়িয়ে গোপনে এসব গাছ বিক্রয় করা হয়। এর সাথে কলেজের কয়েক জন পিয়ন জড়িত রয়েছে বলেও জানা গেছে।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ আমান-উল্লাহ-আল-হাদি বলেন, প্রয়োজন মনে করেছি তাই গাছ কেটেছি। তবে এ বিষয়ে আমি কোনো কথা বলতে চাই না।

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর লিয়াকত পারভেজ জানান, আমি তিন দিন ছুটিতে ছিলাম। শুনেছি একটি বাবলা গাছ কেটে তা বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। গাছটি উপড়ে পড়ে ছিল। আজ  (শনিবার ) কলেজে গিয়ে বিষয়টি খোঁজ-খবর নিয়ে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।