সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ !


779 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ !
জুলাই ৩, ২০১৯ শিক্ষা সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার :
সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজে কম্পিউটার সামগ্রী, অন্যান্য মনোহারি সামগ্রী, ক্রীড়া সামগ্রী, কম্পিউটার মেরামত ও সংস্কার, রাসায়নিক দ্রব্যাদি, ব্যবহার্য দ্রব্যাদি, ল্যুাবেরেটরি সামগ্রী, বইপত্র ক্রয়, মনোহারি সামগ্রী ও শিক্ষা উপকরণ ক্রয়ের নামে ভুয়া বিল-ভাউচার জমা দিয়ে টাকা উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে অধ্যক্ষ ও ক্রয় কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে। যথাযথ মালামাল ক্রয় না করেই এসব সামগ্রীর টাকা উত্তোলন করেছে তারা।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে শিক্ষা অধিদফতর থেকে মালামাল ক্রয় এর জন্য সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের অনুকূলে ৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৮৩ টাকা বরাদ্দ দেয়। বরাদ্দকৃত টাকা উত্তোলন করে সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ও ক্রয় কমিটির অন্যান্য সদস্যরা মিলে একটি সক্রিয় সিন্ডিকেটেরর মাধ্যমে তা ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছে। অপরদিকে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে শিক্ষা অধিদপ্তর সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজে মালামাল ক্রয়ের জন্য ১০ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। ৩০ জুনের মধ্যে প্রতিটি সরকারি মহাবিদ্যালয়ের মালামাল ক্রয় করার কথা থাকলেও মালামাল ক্রয় না করেই বরাদ্দকৃত অর্থ তুলে নিয়েছে সংশ্লিষ্টরা ভুয়া বিল-ভাউচার দিয়ে । এছাড়াও সেশন চার্জের নামে ছাত্রীদের কাছ থেকে বিভিন্ন খাত দেখিয়ে কলেজের একাউন্ট থেকে বিভিন্ন সময়ে ৮০ লক্ষ টাকা আত্মসাত করেছে অধ্যক্ষ আব্দুল খালেক। কলেজে কোন মসজিদ বা মন্দির নেই। অথচ প্রায় ৪ হাজার ছাত্রীর কাছ থেকে প্রতিবছর ৫০ টাকা হারে ২ লাখ টাকা আদায় করে তা আত্মসাত করে আসছেন।

জানা যায়, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে শিক্ষা অধিদফতর থেকে মালামাল ক্রয়ের জন্য বরাদ্দ দিলেও তা আদৌ ক্রয় না করে অধ্যক্ষ আব্দুল খালেক কথিত মালামাল ক্রয় কমিটির মাধ্যমে সাতক্ষীরা নেট সার্ভিস এর নামে ক ৯২৫৫১৩ নম্বর চেকে কম্পিউটার সামগ্রী ক্রয় বাবদ ৪০ হাজার টাকা, জনতা পেপার ট্রেডার্স, সাতক্ষীরা এর নামে ক ৯২৫৫১৫ নম্বরে চেকে অন্যান্য মনোহারি সামগ্রী ক্রয় বাবদ ৭০ হাজার টাকা, বিউটি খেলাঘর প্লাস, সাতক্ষীরা এর নামে ক ৯২৫৫০৯ নম্বর চেকে ক্রীড়া সামগ্রী ক্রয় বাবদ ৫০ হাজার টাকা, সাতক্ষীরা নেট সার্ভিস এর নামে ক ৯২৫৫১৬ নম্বর চেকে কম্পিউটার মেরামত ও সংস্কার ক্রয় বাবদ ৩০ হাজার টাকা, স্কয়ার সায়েন্টিফিক মার্ট, খুলনা এর নামে ক ৯২৫৫১০ নম্বর চেকে রাসায়নিক দ্রব্যাদি ক্রয় বাবদ ৫০ হাজার টাকা, জনতা পেপার ট্রেডার্স, সাতক্ষীরা এর নামে ক ৯২৫৫১১ নম্বর চেকে ব্যবহার্য দ্রব্যাদি ক্রয় বাবদ ৫০ হাজার টাকা, স্কয়ার সায়েন্টিফিক মার্ট, খুলনা এর নামে ক ৯২৫৫১৭ নম্বর চেকে ল্যাবরেটরি সামগ্রী ক্রয় বাবদ ৫০ হাজার টাকা, জনতা পেপার ট্রেডার্স, সাতক্ষীরা এর নামে ক ৯২৫৫১৯ নম্বর চেকে বইপত্র ক্রয় বাবদ ২৯ হাজার ৯৮৭ টাকা, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজ এর নামে ক ৯২৫৫১৮ নম্বর চেকে ল্যাবরেটরি সামগ্রী ক্রয় বাবদ ২০ হাজার টাকা, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজ এর নামে ক ৩৫২৯৫৬ নম্বর চেকে কম্পিউটার সামগ্রী ক্রয় বাবদ ১০ হাজার টাকা, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজ এর নামে ক ৯২৫০৬৪ নম্বর চেকে বইপত্র ক্রয় বাবদ ১০ হাজার টাকা, স্কয়ার সায়েন্টিফিক মার্ট, খুলনা এর নামে ক ৯২৫০২৪ নম্বর চেকে রাসায়নিক দ্রব্যাদি ক্রয় বাবদ ২০ হাজার টাকা, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজ এর নামে ক ৯২৫০২১ নম্বর চেকে শিক্ষা উপকরণ ক্রয় বাবদ ১৫ হাজার টাকা, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজ এর নামে ক ৯২৫০৭৩ নম্বর চেকে ব্যবহার্য দ্রব্যাদি ক্রয় বাবদ ৯ হাজার ৯৯৬ টাকা, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজ এর নামে ক ৯২৫০১৫ নম্বর চেকে মনোহারি দ্রব্যাদি ক্রয় বাবদ ১০ হাজার টাকা, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজ এর নামে ক ৯২৫৫১৪ নম্বর চেকে ক্রীড়া সামগ্রী ক্রয় বাবদ ১০ হাজার টাকা ভূয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে উত্তোলন করেছেন। অন্যদিকে সোনালী ব্যাংকে অনুকূলে ১৭-১৮/১৮-১৯ অর্থ বছরে কলেজের সাংস্কৃতিক তহবিলের ১২৩০৪ নম্বর একাউন্ট থেকে গত ২৯-০১-১৮ তারিখে ৬৩২২৯২৫ নম্বর চেকে ১ লক্ষ টাকা, গত ০৭-০৩-১৭ তারিখে ২৫৭৯২০৪ নম্বর চেকে ৮৫ হাজার টাকা, গত ০৯-০৩-১৭ তারিখে ২৫৭৯২০৫ নম্বর চেকে ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা, গত ১২-০৪-১৭ তারিখে ২৫৭৯২০৬ নম্বর চেকে ৪০ হাজার, গত ০৬-১২-১৭ তারিখে ৬৩২২৯২২ নম্বর চেকে ২০ হাজার টাকা, গত ১২-১২-১৭ তারিখে ৬৩২২৯২৩ নম্বর চেকে ২০ হাজার টাকা, গত ১৪-১২-১৭ তারিখে ৬৩২২৯২৪ নম্বর চেকে ৫ হাজার টাকা, গত ২০-০২-১৮ তারিখে ৬৩২২৯২৭ নম্বর চেকে ২০ হাজার টাকা, গত ১৪-০৩-১৮ তারিখে ৬৩২২৯২৯ নম্বর চেকে ১০ হাজার ৩০০ টাকা, গত ১৪-০৩-১৮ তারিখে ৬৩২২৯৩০ নম্বর চেকে ২৫০০০ হাজার টাকা, গত ০৪-০৪-১৮ তারিখে ৪১৪৫৬৭১ নম্বর চেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা, গত ২০-০৯-১৮ তারিখে ৪১৪৫৬৭২ নম্বর চেকে ১০ হাজার টাকা, গত ০৫-১২-১৮ তারিখে ৪১৪৫৬৭৩ নম্বর চেকে ৫০ হাজার টাকা, গত ১৩-১২-১৮ তারিখে ৪১৪৫৬৭৪ নম্বর চেকে ২০ হাজার টাকা, অন্তঃকক্ষ ক্রীড়া তহবিল এর ১২৩১২ নম্বর একাউন্ট থেকে গত ১৭-০১-১৮ তারিখে ০০২৬১১৪ নম্বর চেকে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা, গত ০৭-০৩-১৭ তারিখে ০০২৬১১২ নম্বর চেকে ২৫ হাজার টাকা, গত ১৪-০৩-১৭ তারিখে ০০২৬১১৩ নম্বর চেকে ৪৯ হাজার ৮২ টাকা, গত ১৯-০-১৮ তারিখে ০০২৬১১৫ নম্বর চেকে ১০ হাজার টাকা, গত ০৫-১২-১৮ তারিখে ০০২৬১১৬ নম্বর চেকে ৫০ হাজার টাকা, গত ০৬-০১-১৯ তারিখে ০০২৬১১৭ নম্বর চেকে ২০ হাজার টাকা, গত ৩১-০৩-১৯ তারিখে ০০২৬১১৮ নম্বর চেকে ৪০ হাজার ৭৫০ টাকা, উন্নয়ন তহবিলের ০১০০০৭৭৪২৪৭০৩ নম্বর একাউন্ট থেকে গত ২৪-০৯-১৭ তারিখে ৮৫১১৯৭০ নম্বর চেকে ২৫০০ টাকা, গত ২০-০৯-১৭ তারিখে ৮৫১১৯৬৭ নম্বর চেকে ১ লক্ষ ৫৩ হাজার টাকা, গত ০৯-০৪-১৭ তারিখে ৮৫১১৯৬২ নম্বর চেকে ৫ হাজার ১২৫ টাকা, গত ১০-০৪-১৭ তারিখে ৮৫১১৯৬৩ নম্বর চেকে ১০ হাজার ৭১৬ টাকা, গত ১৬-০৪-১৭ তারিখে ৮৫১১৯৬৪ নম্বর চেকে ৪৪ হাজার ৯৫৩ টাকা, গত ২৭-০৪-১৭ তারিখে ৮৫১১৯৬৫ নম্বর চেকে ৪ হাজার ৪০ টাকা, গত ২১-০৬-১৭ তারিখে ৮৫১১৯৬৬ নম্বর চেকে ৯ হাজার ৫৯০ টাকা, গত ০৪-০৭-১৭ তারিখে ৮৫১১৯৬৭ নম্বর চেকে ১১ হাজার ৯৭৫ টাকা, গত ০৪-০৭-১৭ তারিখে ৮৫১১৯৬৮ নম্বর চেকে ৬ হাজার ৬৫০ টাকা, গত ০৪-০২-১৮ তারিখে ০৩৪৭৮৯৭ নম্বর চেকে ১৪ হাজার ৯০০ টাকা, গত ০৫-০৩-১৮ তারিখে ০৩৪৭৮৯৮ নম্বর চেকে ১৫ হাজার টাকা, গত ২৮-০৩-১৮ তারিখে ০৩৪৭৮৯৯ নম্বর চেকে ২৫ হাজার ৩৫০ টাকা, গত ২৪-০৪-১৮ তারিখে ০৩৪৭৯০০ নম্বর চেকে ৫ হাজার টাকা, গত ০৪-০২-১৮ তারিখে ৪১৪৬৫৪১ নম্বর চেকে ১৪ হাজার ৪৪০ টাকা, গত ৩১-০৫-১৮ তারিখে ৪১৪৬৫৪২ নম্বর চেকে ৪০ হাজার টাকা, গত ১২-০৬-১৮ তারিখে ৪১৪৬৫৪৩ নম্বর চেকে ৫০০০০ হাজার টাকা, গত ২৮-০৬-১৮ তারিখে ৪১৪৬৫৪৪ নম্বর চেকে ৫২ হাজার ২৬৪ টাকা, গত ১২-০৮-১৮ তারিখে ৪১৪৬৫৪৬ নম্বর চেকে ৬ হাজার টাকা, গত ১২-০৮-১৮ তারিখে ৪১৪৬৫৪৭ নম্বর চেকে ৫৮ হাজার ৫ টাকা, গত ১৩-০৯-১৮ তারিখে ৪১৪৬৫৪৯ নম্বর চেকে ২৫ হাজার টাকা, গত ২৫-১১-১৮ তারিখে ৪১৪৬৫৫০ নম্বর চেকে ১২ হাজার ৩২০ টাকা, ৭৮৩৯৬৩১ নম্বর চেকে ১৫ হাজার টাকা, ৭৮৩৯৬৩২ নম্বর চেকে ২৫ হাজার টাকা, ৭৮৩৯৬৩৩ নম্বর চেকে ৫০ হাজার টাকা, ৭৮৩৯৬৩৪ নম্বর চেকে ২১ হাজার ৪৪৫ টাকা, ৭৮৩৯৬৩৫ নম্বর চেকে ৪ হাজার ৬৭০ টাকা, বিবিধ ফান্ডের ০১০০০৭৭৪২২৫৩১ নম্বর একাউন্ট থেকে গত ১৬-০৩-১৭ তারিখে ৮৫১১৯৭১ নম্বর চেকে ২৬ হাজার ২৯১ টাকা, গত ২৩-০৩-১৭ তারিখে ৮৫১১৯৭২ নম্বর চেকে ২৫ হাজার টাকা, গত ০৩-০৪-১৭ তারিখে ৮৫১১৯৭৩ নম্বর চেকে ১০ হাজার টাকা, গত ০৯-০৪-১৭ তারিখে ৮৫১১৯৭৪ নম্বর চেকে ৩ হাজার ৩৯৩ টাকা, গত ১৭-০৪-১৭ তারিখে ৮৫১১৯৭৫ নম্বর চেকে ১০ হাজার ৭১৬ টাকা, গত ১৯-০৪-১৭ তারিখে ৮৫১১৯৭৬ নম্বর চেকে ৫ হাজার ৪০০ টাকা, গত ২৭-০৪-১৭ তারিখে ৮৫১১৯৭৭ নম্বর চেকে ৫ হাজার ২২৩ টাকা, গত ০৮-১০-১৭ তারিখে ০৩৪৭৫৯৪ নম্বর চেকে ১০ হাজার টাকা, গত ১২-১০-১৭ তারিখে ০৩৪৭৫৯৫ নম্বর চেকে ১০ হাজার টাকা, গত ১৭-১০-১৭ তারিখে ০৩৪৭৫৯৬ নম্বর চেকে ২ হাজার ৯০০ টাকা, গত ০২-১১-১৭ তারিখে ০৩৪৭৫৯৭ নম্বর চেকে ১৯ হাজার ২৯৯ টাকা, গত ০৬-১১-১৭ তারিখে ০৩৪৭৫৯৮ নম্বর চেকে ১০ হাজার টাকা, গত ১১-১২-১৭ তারিখে ০৩৪৭৬০০ নম্বর চেকে ১৫ হাজার ৪০৯ টাকা, গত ২০-১২-১৭ তারিখে ৬৩২৫৮৬১ নম্বর চেকে ০৭ হাজার ৫০০ টাকা, গত ২৪-০১-১৮ তারিখে ৬৩২৫৮৬২ নম্বর চেকে ১৪ হাজার ৯০৪ টাকা, গত ০৮-০২-১৮ তারিখে ৬৩২৫৮৬৩ নম্বর চেকে ১৬ হাজার ৯০ টাকা, গত ১৯-০১-১৮ তারিখে ৬৩২৫৮৬৪ নম্বর চেকে ১৮ হাজার ১০০ টাকা, গত ২২-০২-১৮ তারিখে ৬৩২৫৮৬৫ নম্বর চেকে ৩ হাজার টাকা, গত ১৪-০৩-১৮ তারিখে ৬৩২৫৮৬৬ নম্বর চেকে ৩ হাজার টাকা, গত ২১-০৩-১৮ তারিখে ৬৩২৫৮৬৭ নম্বর চেকে ৩০ হাজার টাকা, , গত ২২-০৩-১৮ তারিখে ৬৩২৫৮৬৮ নম্বর চেকে ১৬ হাজার টাকা, , গত ২৮-০৩-১৮ তারিখে ৬৩২৫৮৬৯ নম্বর চেকে ১২ হাজার ৬৫০ টাকা, গত ০৫-০৪-১৮ তারিখে ৬৩২৫৮৭০ নম্বর চেকে ১৬ হাজার ৯৩১ টাকা, গত ১০-০৪-১৮ তারিখে ৪১৪৬২৩১ নম্বর চেকে ২০ হাজার টাকা, গত ১৮-০৪-১৮ তারিখে ৪১৪৬২৩২ নম্বর চেকে ১৮ হাজার ৮৩১ টাকা, গত ২৪-০৪-১৮ তারিখে ৪১৪৬২৩৩ নম্বর চেকে ৫ হাজার ৬০০ টাকা, গত ১৪-০৫-১৮ তারিখে ৪১৪৬২৩৪ নম্বর চেকে ১৫ হাজার ৮০১ টাকা, গত ৩১-০৫-১৮ তারিখে ৪১৪৬২৩৫ নম্বর চেকে ২ হাজার টাকা, গত ০৫-০৭-১৮ তারিখে ৪১৪৬২৩৬ নম্বর চেকে ১৭ হাজার ৭০০ টাকা, গত ০৯-০৭-১৮ তারিখে ৪১৪৬২৩৭ নম্বর চেকে ৯ হাজার ৬৮৫ টাকা, গত ২৫-০৭-১৮ তারিখে ৪১৪৬২৩৮ নম্বর চেকে ১৫ হাজার ৬৯৮ টাকা, গত ০৯-০৮-১৮ তারিখে ৪১৪৬২৩৯ নম্বর চেকে ৩০ হাজার টাকা, গত ১৬-০৮-১৮ তারিখে ৪১৪৬২৪০ নম্বর চেকে ১৬ হাজার ৭৮০ টাকা, গত ০৯-০৯-১৮ তারিখে ৪১৪৬২৪১ নম্বর চেকে ৭ হাজার ৭১৫ টাকা, গত ২৩-০৯-১৮ তারিখে ৪১৪৬২৪২ নম্বর চেকে ২৭ হাজার ৪১৬ টাকা, গত ০৫-১০-১৮ তারিখে ৪১৪৬২৪৩ নম্বর চেকে ৮ হাজার ৩২ টাকা, গত ২৯-১০-১৮ তারিখে ৪১৪৬২৪৪ নম্বর চেকে ৪ হাজার ৫৪৩ টাকা, গত ১২-১১-১৮ তারিখে ৪১৪৬২৪৫ নম্বর চেকে ১০ হাজার টাকা, গত ১৯-১১-১৮ তারিখে ৪১৪৬২৪৬ নম্বর চেকে ৭ হাজার ৮০০ টাকা, গত ২৫-১১-১৮ তারিখে ৪১৪৬২৪৭ নম্বর চেকে ৩ হাজার ১৭২ টাকা, গত ০৫-১২-১৮ তারিখে ৭৮৩৭৩৪৮ নম্বর চেকে ৮ হাজার ১০০ টাকা, গত ১৮-১২-১৮ তারিখে ৭৮৩৭৩৪৯ নম্বর চেকে ১০ হাজার টাকা, গত ০১-০১-১৯ তারিখে ৭৮৩৭৩৫০ নম্বর চেকে ১২ হাজার ৫৯৪ টাকা, গত ২৯-০১-১৯ তারিখে ১০৭০৭৬১ নম্বর চেকে ১৪ হাজার টাকা, গত ১৭-০২-১৯ তারিখে ১০৭০৭৬২ নম্বর চেকে ২০ হাজার ৭০৯ টাকা, গত ২০-০২-১৯ তারিখে ১০৭০৭৬৩ নম্বর চেকে ৩০ হাজার টাকা, গত ২৫-০২-১৯ তারিখে ১০৭০৭৬৪ নম্বর চেকে ১ হাজার ৩১০ টাকা, গত ২৮-০২-১৯ তারিখে ১০৭০৭৬৫ নম্বর চেকে ৭ হাজার ৩১০ টাকা, গত ০৭-০৩-১৯ তারিখে ১০৭০৭৬৬ নম্বর চেকে ৩ হাজার ২৭২ টাকা, গত ১০-০৩-১৯ তারিখে ১০৭০৭৬৭ নম্বর চেকে ১০ হাজার টাকা, গত ১৩-০৩-১৯ তারিখে ১০৭০৭৬৮ নম্বর চেকে ১৫ হাজার টাকা, গত ২৮-০৩-১৯ তারিখে ১০৭০৭৬৯ নম্বর চেকে ৪৫ হাজার ২০ টাকা, গত ০২-০৪-১৯ তারিখে ১০৭০৭৭০ নম্বর চেকে ৪ হাজার ৪০০ টাকা, গত ০৭-০৪-১৯ তারিখে ৫৩০৩৫০১ নম্বর চেকে ৮ হাজার ৩৭২ টাকা, গত ০৮-০৪-১৯ তারিখে ৫৩০৩৫০২ নম্বর চেকে ১০ হাজার টাকা, গত ১০-০৪-১৯ তারিখে ৫৩০৩৫০৩ নম্বর চেকে ৩০ হাজার টাকাসহ প্রতিষ্ঠানের আরও ১৯টি একাউন্ট থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অনুষ্ঠান / বিভিন্ন কাজের খরচ বাবদ টাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অধ্যক্ষ আব্দুল খালেক প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা আত্মসাত করেছেন। এই কলেজে বিভিন্ন খাতের নামে প্রায় ৪০টি ব্যাংক একাউন্ট রয়েছে বলে জানাগেছে। আর এসব ব্যাংক একাউন্টে কত টাকা লেনদেন হয় তা একমাত্র অধ্যক্ষ আব্দুল খালেক ছাড়া অন্য কেউ জানতে পারেননা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, ভুয়া বিল-ভাউচার এর অন্যতম সহযোগি বাংলা বিভাগের একজন সহযোগি অধ্যাপক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের একজন প্রভাষক । তারা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকদের বলেন, আপনারা ভুয়া বিল-ভাউচার দিয়ে অর্থ উত্তোলন করে দিলে মূল বিলের ৩০% পাবেন। এই প্রলোভনের ফাঁদে পড়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকরা ভুয়া বিল-ভাউচার দিয়ে টাকা উত্তোলন করে অধ্যক্ষকে বাকী ৭০% টাকা দিয়ে দেয়। অন্যদিকে এ টাকা থেকে ২০% অধ্যক্ষ তার সিন্ডগেটের শিক্ষকদের দেয়।

সূত্র জানান, খুলনা সরকারি বহেরা কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান থাকাকালীন সময়ে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ অধ্যক্ষ আব্দুল খালেক কে বিভিন্ন আর্থিক কমিটি থেকে ৫ বছর বহিস্কার করেন।

তিনি কলেজের মেরামত ও সংস্কার কাজের কোন সাব-কমিটি না করাই তড়িঘড়ি করে ঢাকা থেকে এসে গত ৩ জুনের চিঠি ২৬.০৬.১৯ তারিখ সকালে স্বাক্ষর করেন।

সাতক্ষীরা জনতা পেপার্স এর সত্তাধিকারী কামরুল জানান, আমি একজন সাধারণ ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারী। তাই আমার প্রতিষ্ঠানের কোনো প্রকার বইপত্র ক্রয় করা হয় না। তবে লোকেমুখে শুনেছি সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের অনুমতিক্রমে ক্রয় কমিটির সদস্যরা টাকা আত্মসাতের জন্য আমার প্রতিষ্ঠানের মেমো নিয়ে বিল প্রস্তুত করে বিল উত্তোলন করেছেন। যা আমি আদৌ অবগত নই। আর আমার প্রতিষ্ঠান থেকে কিছু মালামাল ক্রয় করেছেন। কিন্তু তাদের বাজেটের ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৯৮৭ টাকার মালামাল ক্রয় করেনি। আপনারা তো সবাই জানেন। যারা কমিটির দায়িত্বে থাকে তারা তো সব টাকার মালামাল ক্রয় করেনা। তাই আমার প্রতিষ্ঠান থেকে ক্রয় কমিটির সভাপতি ও সদস্যরা কিছু ব্যবহার্য দ্রব্যাদি ছাড়া আর কোন মালামাল ক্রয় করেনি। এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে চাই না।

নাগরিক আন্দোলন মঞ্চের সভাপতি এ্যাড. ফাইমুল হক কিসলু জানান, অধ্যক্ষ আব্দুল খালেকের যোগদানের কলেজে পূর্বে অনেক অধ্যক্ষ দায়িত্ব পালন শেষে চাকুরী থেকে এলপিআরে চলে গেছে। কিন্তু আমি অধ্যক্ষ আব্দুল খালেকের মতো আর কোনো অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়টি শুনিনি। তাই তিনি যদি সত্যিই অভিযুক্ত হয়ে থাকেন, তাহলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে তাকে বহিষ্কার করা হোক। তাঁর মতো শিক্ষককে আমরা সাতক্ষীরায় দেখতে চায় না। তিনি বলেন যেসব বিল ভাউচার দেখিয়ে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে তার যথাযথ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। অবিলম্বে তা তদন্ত করতে হবে। আর কর্তৃপক্ষ যদি ব্যর্থ হয়, তবে সাতক্ষীরার সকল-¤্রিেণ-পেশার মানুষকে সাথে নিয়ে আমরা কঠোর আন্দোলন করতে বৃহত্তর কর্মসূচী দিতে বাধ্য হবো।

সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, আমি অল্প কয়েকদিন আগে এই কলেজে যোগদান করেছি। পদাধিকার বলে আমি ক্রয় কমিটির সভাপতি হলেও এ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। যোগদানের আগে কি ঘটেছে তা আমার জানা নেই।

কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ ড. ইয়াহিয়া মোল্যা জানান, আমি পদাধিকার বলে ক্রয় কমিটির সভাপতি থাকাকালীন সদস্যরা আমাকে মালামাল ক্রয়ের জন্য কোন দোকানে নিয়ে যায়নি। এমনকি মালামাল ক্রয়ের কোন জিনিসপত্র দেখাতে পারেনি। কিন্তু অধ্যক্ষ আব্দুল খালেক ভূয়া বিল ভাউচার প্রস্তুত করে আমাকে সই করতে বলে। আমি সই না করলে অধ্যক্ষ ও তার সমর্থক দুইজন শিক্ষককে দিয়ে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এক প্রকার বাধ্য হয়ে এসব অনৈতিকতা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য স্বেচছায় স্বজ্ঞানে ক্রয় কমিটির সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করি।
তিনি আরও জানান, মালামাল ক্রয়ের জন্য সর্বোচ্চ ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা টেন্ডার বা কোটেশন ছাড়াই করা সম্ভব। এর চেয়ে বেশি হলে দরপত্র আহবানের মাধ্যমে করতে হয়। কিন্তু দরপত্র আহবানের মাধ্যমে করলে অধ্যক্ষ আব্দুল খালেক ৭০% টাকা নিজে আত্মসাত করতে পারবেনা। সেজন্য তিনি দরপত্র আহবান না করেই ভূয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে বরাদ্দকৃত টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করলেও কেউ তাকে কিছুই করতে পারেনি। তাই এসব অনিয়ম বন্ধের মাধ্যমে কলেজে একটি সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল খালেক জানান, আমার বাড়ী সাতক্ষীরায়। আমার ২ মাস চাকরী আছে। আমি মালামাল ক্রয়ের ব্যাপারে কিছুই জানি না। আমার প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ক্রয় কমিটি মালামাল ক্রয় করে এনে ভাউচার দিলে আমি সই করে দেইমাত্র। আর তারা মালামাল ক্রয় করতে ব্যর্থ হলে টাকা ফেরত যাবে এটাই নিয়ম। তিনি আরো বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে তা সবই মিথ্যে ও বানোয়াট। আমাকে হেয়পতিপন্ন করার জন্য একটি মহল এভাবে মিথ্যে অভিযোগ করছে আমার বিরুদ্ধে।