সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজে মাস্টার্সে ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায় !


1049 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজে মাস্টার্সে ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায় !
ফেব্রুয়ারি ২, ২০১৬ ফটো গ্যালারি শিক্ষা
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক :
শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজে মাস্টার্সে ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ফরম পূরণে ২ হাজার ৫০০ টাকা বেধে দিলেও আদায় করা হয়েছে শিক্ষার্থী প্রতি ৩ হাজার ৩৮৫ টাকা। অভিযোগ রয়েছে, আদায়কৃত অতিরিক্ত অর্থের ভাগ কলেজের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক পর্ষদের তহবিলসহ সকল কর্মকর্তারা পায়। কলেজ উপাধ্যক্ষ এস এম আনোয়ারুজ্জামান অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার ৭ দিন অতিবাহিত হলেও অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দেয়নি। তবে কলেজের অধ্যক্ষ ড. হাসান সোরওয়াদী অতিরিক্ত অর্থ আদায়কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসের সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ব্যবস্থা নেননি।

সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ফরম পূরণ ২০ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়। কলেজের ইসলামী ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, দর্শন বিভাগ, বাংলা বিভাগ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্সে ফরম পূরণ শুরু হয়। ফরম পূরণে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি কোর্স, টিউটোরিয়াল ও ভাইভা বাবদ ২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করে দেয় কলেজ প্রশাসন। কিন্তু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালাকে তোয়াক্কা না করে কলেজ প্রশাসন অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের খড়ক চাপিয়ে দেয় শিক্ষার্থীদের উপর। অতিরিক্ত অর্থ ছাড়া কোন শিক্ষার্থীকে ফরম পূরণ করানো হয়নি। সূত্র আরো জানায়, কলেজের হিসাব বিভাগে ২ হাজার ৫০০ টাকার স্থলে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত ৫টাকা। আর রশিদ ছাড়া প্রত্যেক বিভাগের নেওয়া হচ্ছে ৩০০ থেকে ৮৮০ টাকা পর্যন্ত। কলেজের মাস্টার্সের ৪টি বিভাগের দাবীকৃত উক্ত টাকা পরিশোধ না করলে রেজিস্ট্রেশন কার্ড দেওয়া হচ্ছে না। এ বিষয়ে গত ২৭ জানুয়ারি কলেজের ড. সোরওয়াদী অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষকে অবহিত করলে উপাধ্যক্ষ কলেজের ৪টি বিভাগে কর্মরত স্টাফদের ডাকেন। এ সময় ইসলামী ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের কর্মচারী রওশন আলী উপাধ্যক্ষকে জানান, তার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শেখ জাহাঙ্গীর আলীর নির্দেশে তিনি টাকা আদায় করছেন। তিনি ভাইভা ও টিউটরিয়াল পরীক্ষা বাবদ ৮৮০ টাকা আদায় করছে বলেও জানান। এ সময় অন্য বাকী তিন বিভাগের কর্মচারীরা সামান্য টাকা আদায় করছে বলে উপাধ্যক্ষকে অবহিত হবেন। বিষয়টি সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে কলেজের অধ্যক্ষ ড. হাসান সোরওয়াদী কে অবহিত করলে তিনি বলেন, অতিরিক্তি টাকা আদায়ের তথ্য তার কাছে নেই। তবে কেউ আদায় করলে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে ঐ দিন কলেজের উপাধ্যক্ষ এস এম আক্তারুজ্জামান মুকুল অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়ে টেলিফোনে অধ্যক্ষকে অবহিত করেন।

মাস্টার্সে ফরম পূরণ করা শিক্ষার্থীর একজন দিনমজুর অভিভাবক জানান, টাকা ধার করে মেয়ের ফরম পূরণ করিয়েছি। আমাদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলা টাকা কলেজ কিভাবে অতিরিক্ত আদায় করছে তা জানিনা। তিনি আরো জানান, মেয়ের শিক্ষা বর্তমান সরকার যেখানে ফ্রি করছে সেখানে মহিলা কলেজে জিম্মি করে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। শিক্ষকরা যদি এভাবে অর্থ আদায় করে তবে আমাদের মেয়েরা তাদের কাছ থেকে কি শিক্ষা গ্রহণ করবে? তিনি অতিরিক্ত অর্থ শিক্ষার্থীদের ফেরত দেওয়ারও দাবী জানান।

একাধিক প্রাক্তন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করে জানান, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজে দীর্ঘ দিন থেকে গড়ে উঠা একটি সিন্ডিকেটে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে। তারা দীর্ঘ দিন এই কলেজে থাকায় কলেজ নিয়ন্ত্রণ করে। শিক্ষার্থীরা মৃদু প্রতিবাদ করলে তারা ভাইভা, টিউটোরিয়াল নম্বর তাদের কম দেয়। তারা দীর্ঘ দিন থাকা শিক্ষকদের বদলীরও দাবী জানান।

মঙ্গলবার কলেজের অধ্যক্ষ ড. হাসান সোরওয়াদী জানান, টাকা কারা নিয়েছে তার খতিয়ে দেখা হবে। ভর্তির সময় কম নিয়েছিলো, তাই এখন নেওয়া হচ্ছে। ভর্তির সময় সকল বিভাগের একই অর্থ নিয়েছে তবে ফরম পূরণে কেন বিভাগ ভিত্তিক রাশিদ ছাড়া অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমাদের সভা চলছে। তবে অতিরিক্ত অর্থ নিলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আবারও জানান তিনি।