সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজে মাস্টার্সের ফল বিপর্যয়


398 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজে মাস্টার্সের ফল বিপর্যয়
অক্টোবর ২৪, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক :
শিক্ষকদের অর্থ দেওয়ার পরেও আশানুরূপ নম্বর না পাওয়ায় মাস্টার্সে ফল বিপর্যয় হয়েছে সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজে। শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে ফরম পূরণের সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালাকে তোয়াক্কা না করে কলেজ প্রশাসন অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের খড়ক চাপিয়ে দেয় শিক্ষার্থীদের উপর। অতিরিক্ত অর্থ ছাড়া কোন শিক্ষার্থীকে ফরম পূরণ করানো হয়নি। কলেজের হিসাব বিভাগে ২ হাজার ৫০০ টাকার স্থলে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত ৫ টাকা। আর রশিদ ছাড়া প্রত্যেক বিভাগের নেওয়া হচ্ছে ৩০০ থেকে ৮৮০ টাকা পর্যন্ত। সে সময় পত্রিকায় বস্তুনিষ্ট সংবাদ প্রকাশ হলে কলেজের অধ্যক্ষ, ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। সাংবাদিকদের জানানোর কারণে শিক্ষার্থীদের টিউটোরিয়াল নম্বর কম দিয়েছে তাদের উপর ব্যবস্থা নিয়েছে কলেজের কতিপয় বিভাগের শিক্ষকরা। তবে কলেজ অধ্যক্ষ ড. হাসান সোরওয়াদী জানান, বিষয়টি নিয়ে আমি শিক্ষকদের সাথে দ্রুত বসবো।
সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ফরম পূরণ ২০ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়। কলেজের ইসলামী ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, দর্শন বিভাগ, বাংলা বিভাগ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্সে ফরম পূরণ শুরু হয়। ফরম পূরণে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি কোর্স, টিউটোরিয়াল ও ভাইভা বাবদ ২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করে দেয় কলেজ প্রশাসন। কিন্তু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালাকে তোয়াক্কা না করে কলেজ প্রশাসন অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের খড়ক চাপিয়ে দেয় শিক্ষার্থীদের উপর। অতিরিক্ত অর্থ ছাড়া কোন শিক্ষার্থীকে ফরম পূরণ করানো হয়নি। সূত্র আরো জানায়, কলেজের হিসাব বিভাগে ২ হাজার ৫০০ টাকার স্থলে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত ৫টাকা। আর রশিদ ছাড়া প্রত্যেক বিভাগের নেওয়া হচ্ছে ৩০০ থেকে ৮৮০ টাকা পর্যন্ত। কলেজের মাস্টার্সের ৪টি বিভাগের দাবীকৃত উক্ত টাকা পরিশোধ না করলে রেজিস্ট্রেশন কার্ড দেওয়া হচ্ছে না। এ বিষয়ে গত ২৭ জানুয়ারি কলেজের ড. সোরওয়াদী অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষকে অবহিত করলে উপাধ্যক্ষ কলেজের ৪টি বিভাগে কর্মরত স্টাফদের ডাকেন। এ সময় ইসলামী ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের কর্মচারী রওশন আলী তৎকালীন উপাধ্যক্ষকে জানান, তার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শেখ জাহাঙ্গীর আলী ও শাহিনুর রহমান শাহিনের নির্দেশে তিনি টাকা আদায় করছেন। তিনি ভাইভা ও টিউটরিয়াল পরীক্ষা বাবদ ৮৮০ টাকা আদায় করছে বলেও জানান। এ নিয়ে কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে তোড়পাড় শুরু হয়। কলেজ অধ্যক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাসও দেন। কিন্তু পরীক্ষার ফলাফলে শিক্ষার্থীদের টিউটোরিয়াল ও ভাইভা নম্বরে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয় ফুটে উঠে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, কলেজের কিছু শিক্ষক নির্লিপ্তের মতো গরীব শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে অর্থ আদায় করেছে। কিন্তু নম্বর দেয় নি। তিনি বলেন, ইসলামী ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলী ও প্রভাষক শাহিনুর রহমান বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে অর্থ আদায় করে। যা তারা নিজেরা হজম করে দিয়েছে। তিনি এ বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যায়সহ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
প্রসঙ্গত, মহিলা কলেজে মেহগনি গাছ বিক্রি, বিজ্ঞানাগারের সারঞ্জাম ক্রয়ে অনিয়ম ও বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে একটি অভিযোগ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
তবে কলেজ অধ্যক্ষ ড. হাসান সোরওয়াদী জানান,  অর্থ নেওয়া আমি শিক্ষকদের সতর্ক করেছিলাম। নম্বর ছাত্রীদের প্রাপ্য ছিলো। তারা না দিয়ে অন্যায় করেছে। নম্বর বেশি দিলে অনেকে প্রথম শ্রেণি পেত। আমি বিষয়টি নিয়ে শিক্ষকদের সাথে বসবো।