সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজে বিলুপ্ত প্রজাতির তালিপাম : শত বছর পর ফুটবে ‘মরণফুল’!


2818 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজে বিলুপ্ত প্রজাতির তালিপাম :  শত বছর পর ফুটবে ‘মরণফুল’!
অক্টোবর ১১, ২০১৫ জাতীয় ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

আব্দুর রহমান মিন্টু :
সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজ ক্যাম্পাসে বিলুপ্তপ্রায় “তালিপাম”প্রজাতির একটি গাছ বেড়ে উঠছে। বিরলপ্রজাতির এই গাছটি সংরক্ষণের জন্য ইতিমধ্যে কলেজ কতৃপক্ষ নিয়েছে নানা পদক্ষেপ। এই গাছের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, শত বছরের মধ্যে মাত্র একবার ফুল ধরবে। সেই ফুলই হবে ‘মরণফুল’। অর্থাৎ শতবছরের মাথায় একবার ফুল দিয়েই মারা যাবে গাছটি।

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ এস এম আনোয়ারুজ্জামান মুকুল ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে জানান, ২০০৮ সালে কলেজ ক্যাম্পাসে তালিপাম নামের বিলুপ্তপ্রায় এই গাছটি রোপণ করা হয়। তালিপামের চারাটি সেই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণী বিজ্ঞান বিভাগের একজন প্রফেসর সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজে প্রদান করেন। সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ (অব:) ড.দিলারা বেগম নিজ হাতে তালিপামের চারাটি কলেজ কাম্পাসে রোপণ করেছিলেন। এর পর থেকে কলেজের শিক্ষকদের নিবিড় পরিচর্যায় গাছটি বেড়ে উঠছে। গাছটির দিকে শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের রয়েছে বিশেষ নজরদারি। দেশে তালিপামের গাছের সংখ্যা খুবই কম।

সম্প্রতি সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে চোখে পড়ে তালিপাম গাছটি। শিক্ষকদের সামনেই ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমের ক্যামেরায় গাছটি ক্যামেরাবন্দি করা হয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এম হাসান সরোওয়ার্দী, মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ড.দিলারা বেগম, উপাধ্যক্ষ এস এম আনোয়ারুজ্জামান মুকুল, সহকারি অধ্যাপক শেখ আব্দুল গফ্ফার, সাধারণ সম্পাদক শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন, ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান সবুজ প্রমুখ।

তথ্যানুসন্ধানে জানাগেছে, তালিপাম দেখতে প্রায় তালগাছের মতো হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি একটি ভিন্ন প্রজাতি। এই প্রজাতিটি প্রথম আবিষ্কৃত হয় ১৯১৯ সালে।

ব্রিটিশ অরণ্যতরু সন্ধানী উইলিয়াম রক্সবার্গ ভারতের পূর্বাঞ্চলে এই প্রজাতির গাছের সন্ধান পান। তিনি এর নাম দেন ‘করিফা তালিয়েরা’। রক্সবার্গের নাম জুড়ে দিয়ে পরে এর বৈজ্ঞানিক নামকরণ করা হয় ‘কারিফা তালিয়েরা রক্সবার্গ’। বাংলায় গাছটিকে ‘তালি’ বা ‘তালিপাম’ নামে ডাকা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এ গাছটি প্রথম শনাক্ত করেন উদ্ভিদবিজ্ঞানী শ্যামল কুমার বসু।

পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাচ্ছে গাছটি। কারণ সেটিই ছিল বিশ্বে ওই প্রজাতির একমাত্র গাছ। ফলের বীজ থেকে চারা পাওয়ার সম্ভাবনা তেমন না থাকলেও জন্মেছিল চারা। সেই চারা বড় হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা পেয়ে বংশবিস্তার হচ্ছে দুর্লভ তালিপাম গাছের। বেঁচে থাকলে শত বছরে আবার ফুটবে তালিপামের সেই ‘মরণফুল’।

তালিপামের গাছ অধিক সংখ্যাক বৃদ্ধির জন্য প্রানী বিজ্ঞানীরা গবেষনা ও চেষ্টা চালাচ্ছে। তালিপামের গাছটির চারা সারা দেশে যেভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, এগুলোতেও একসময় ফুল ফুটবে, ফল হবে। মানুষ সচেতন থাকলে ধীরে ধীরে ‘বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি’র তালিকা থেকে গাছটি মুক্তি পাবে।