সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসে জনবল নিয়োগে গোপন আতাত ফাঁস ! টেন্ডার বাতিল


1858 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসে জনবল নিয়োগে গোপন আতাত ফাঁস !  টেন্ডার বাতিল
এপ্রিল ২৩, ২০১৭ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

॥  এম কামরুজ্জামান  ॥
সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসে জনবল নিয়োগে গোপন আতাত ফাঁস হয়েছে | আউটসোসসিং এর মাধ্যমে ( ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে ) জনবল নিয়োগ নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সাতক্ষীরায় বহুল প্রচারিত নয় এমন ২টি জাতীয় ( ১টি বাংলা ও ১টি ইংরেজি ) পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে গোপনে জেলায় ১২ জন লোক নিয়োগ প্রকৃয়া জানাজানির পর ঠিকাদারদের ঘোর আপত্তির মুখে সিভিল সার্জন ওই টেন্ডার প্রকৃয়া রোববার বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, টেন্ডার ঘাপলার মূল নায়কের ভূমিকা পালন করেছেন সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের প্রধান সহকারী আশিক নেওয়াজ। তিনি জেলার বাইরে থেকে বিএনপি মনা ঠিকাদার এনে তাদেরকে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে কাজটি পাইয়ে দিতে সহযোগিতা করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রধান সহকারী আশিক নেওয়াজ এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত বলে জানাগেছে।

সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা: তৌহিদুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে জানান, টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি একই দিনে ২টি জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশ হওয়ার কথা ছিল । কিন্তু এক দিন আগে-পিছে টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় (চলতি এপ্রিল মাসের ৮ ও ৯ তারিখ) প্রকাশিত হওয়ায় টেন্ডার বাতিল করতে হয়েছে। পুন:রায় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে টেন্ডার আহবান করা হবে।

তথ্যানুসন্ধানে জানাগেছে, সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসে ( তালা, কলারোয়া ও শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্য্রে – এর জন্য ) আউটসোসসিং এর মাধ্যমে (ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে ) ১২ জন জনবল নিয়োগ করা হবে। এদের বেতন-ভাতা হবে প্রত্যেকের ১২ থেকে ১৬ হাজার টাকা। আগামী ২ মাসের জন্য ঠিকাদারের মাধ্যমে এদেরকে নিয়োগ দেওয়া হবে।

সূত্র জানায়, গত ৮ এপ্রিল একটি বাংলা জাতীয় দৈনিকে ও ৯ এপ্রিল একটি ইংরেজি জাতীয় দৈনিকে ওই টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। এসব পত্রিকা সাতক্ষীরায় বহুল প্রচারিত নয়। ৮ এপ্রিল হিসাবে (২ সপ্তাহ) গত বৃহস্পতিবার দরপত্র জমাদানের শেষ দিন ছিল এবং ৯ এপ্রিল হিসেবে রোববার টেন্ডার জমা দানের শেষ দিন ছিল। কিন্তু সিভিল সার্জন অফিস ৮ এপ্রিল হিসেব করে গত বৃস্পতিবার দরপত্র জমাদানের সব কার্যক্রম শেষ করেন।

এদিকে, রোববার সকালে সাতক্ষীরা তরুন লীগের নেতা পরিচয়দানকারী কয়েক যুবক ও কয়েক জন ঠিকাদার সেখানে হাজির হয়ে টেন্ডার জমা নেওয়ার জন্য সাতক্ষীরা সিভিল সার্জনকে চাপ প্রয়োগ করে। এক পর্যায় সিভিল সার্জন ডা: তৌহিদুর রহমান বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় টেন্ডার প্রকৃয়া বাতিল ঘোষনা করেন। মোট ৩টি দরপত্র বিক্রি হয়। এরমধ্যে গত বৃহস্পতিবারে ২টি দরপত্র জমা হয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, তরুণ লীগের নেতা-কর্মী পরিচয়দানকারীরা রোববার সকালে গিয়ে সিভিল সার্জন অফিস থেকে পূূর্বেই জমাকৃত টেন্ডার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।তবে সিভিল সার্জন বিষয়টি স্বীকার করেননি।

অভিযোগ রয়েছে, টেন্ডার ঘাপলার মূল নায়কের ভূমিকা পালন করেছেন সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের প্রধান সহকারী আশিক নেওয়াজ। তিনি জেলার বাইরে থেকে বিএনপি মনা ঠিকাদার এনে তাদেরকে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে কাজটি পাইয়ে দিতে সহযোগিতা করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রধান সহকারী আশিক নেওয়াজ এ ধরনের অনিয়মের সাথে জড়িত বলে জানাগেছে।  এ ব্যাপারে আশিক নেওয়াজ ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে জানান, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা সঠিক নয়। আমি কোন ঠিকাদার আনি নাই।