সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ঈদে গরু দিচ্ছেনা ভারত


2821 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ঈদে গরু দিচ্ছেনা ভারত
আগস্ট ২৮, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

বিশেষ প্রতিনিধি :
আর কিছুদিন পর পবিত্র ঈদুল আযহা। আর কোরবানি উপলক্ষে বেশ কয়েক বছর যাবত ভারতীয় গরু আসার হিড়িক পড়ে যায় সাতক্ষীরা সীমান্তে। কিন্তু ভারত সরকারিভাবে বাংলাদেশে গরু দেয়ার বন্ধের ঘোষনা দেয়ার পর গরু আসা একেবারে কমে গেছে।

এক সময় প্রতিদিন সাতক্ষীরা দিয়ে ৪ থেকে ৫ হাজার গরু আসলেও এখন তা কমে প্রায় শুন্যের কোটায় নেমে এসেছে। ফলে কোরবানী ঈদের গরুর বাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। একই সাথে স্থানীয় বাজারে গরু মাংশের দাম ২৫০টাকা থেকে বেড়ে ৪০০ টাকায় দাড়িয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সুত্র মতে, সাতক্ষীরার বৈকারী, কুশখালী, তলুইগাছা, কাকডাঙ্গা, ঘোনা, গাজীপুর, ভোমরা, মাদরা, হিজলদী, চান্দুড়িয়াসহ বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে এক সময় প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ হাজার ভারতীয় সিন্ধি, ফ্রিজিয়ান, জার্সি, হরিয়ানা, নেপালী, সম্বলপুরিসহ বিভিন্ন জাতের গরু বাংলাদেশে আসতো। এসব গরু অবৈধ পথে এসে ৩৮ বিজিবির আওতায় সদরের ভোমরা, গাজীপুর, ঘোনা, বৈকারী ও কুশখালী ৫ টি এবং ৩৪ বিজিবির আওতায় ৩ টি বৈধ গরুর খাটালে রাখা হয়। সেখান থেকে ব্যবসায়িরা গরু কিনে করিডোরের মাধ্যমে ৫০০ টাকা করে রাজস্ব দিয়ে তা বৈধ করেন। এরপরে ওই স্লিপ নিয়ে ব্যবসায়িরা এসব গরু নিয়ে যাওয়া হয় রাজধানী ঢাকা, চট্রগ্রাম, নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্নি স্থানে।

দেশের মানুষের মাংশের চাহিদা মেটায় ভারত থেকে বৈধ উপায়ে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে আসা এসব গরু দিয়ে। কিন্তু ভারত সরকার এ পদ্ধতিতে বাংলাদেশে গরু দেয়া বন্ধ করে দেয়ায় সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে গত একবছর যাবত বৈধ উপায়ে গরু আসা আশাংকাজনক হারে কমে গেছে।

সাতক্ষীরা বিজিবি সুত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরা-৩৮ বিজিবির অধীনে ১৩ টি এবং ৩৪ বিজিবি নীলডুমুর  অধীনে ১৬টি বিওপির অধীনে ৪ টি গবাদি পশু শুল্ক করিডোরের মাধ্যমে ৫০০ টাকা রাজস্ব নিয়ে সরকার এসব গরুর বৈধতা দিয়ে থাকেন।

সাতক্ষীরা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের তথ্য মতে, সাতক্ষীরার চারটি করিডোরের আওতায় ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে গরু এসেছে ৭ লাখ ৫০ হাজার ৯৯৪ টি গরু করিডোর হয়েছে। তার বিপরিতে সরকার ৩৭ কোটি ৫৩ লাখ ৩৫ হাজার ১০০ টাকা রাজস্ব আদায় হয়।

২০১৫-১৬ অর্থ বছরে তা কমে আসে ৭৬ হাজার ৬৭০ টিতে। এর বিপরিতে সরকার রাজস্ব পায় ৩ কোটি ৬১লাখ ২০ হাজার ৪৩০ টাকা।

২০১৬-১৭ অর্থ বছরের গত জুলাই মাসে চারটি করিডোরের আওতায় গরু এসেছে মাত্র ৩হাজার ৮২০ টি। এর বিপরীতে সরকার আয় করেছে মাত্র ১৯লাখ ২হাজার ৮০০টাকা।

কিন্তু বৈধপথে সাতক্ষীরা দিয়ে গরু আসছেনা বললেই চলে। দেবহাটার ভাতশালা এলাকার গরু ব্যবসায়ি বজলুর রহমান বলেন, সরকারিভাবে সিদ্ধান্তের পর বিএসএফ’র কড়াকড়ি এবং পাহারা বেড়ে গেছে। যে কারনে গরু আসছেনা বললেই চলে। ইদানিং কিছু মহিষ আসছে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় কয়েকজন রাখাল বলেন, যখন স্বাভাবিক ছিল তখন প্রতিদিন গরু আসতো ২-৩ হাজার। আমরা একজন ২/৩হাজার টাকা আয় করতাম। আমাদের সংসার চলতো ভাল ভাবে। কিন্তু গরু না আসায় এখন আর আয় রোজগার হচ্ছে না। সীমান্তবর্তী বৈকারি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান অসলে জানান, গত দু’বছর যাবত কোনো গরু আসছে না বললেই চলে। এখানকার ব্যবসায়ি ও রাখালরা এখন মানবেতর জীবন যাপন করছে।

সাতক্ষীরা কাস্টমস এক্সাসাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সহকারি কমিশনার মশিয়ার রহমান মন্ডল বলেন, গরু আসার বিষয়টি ভরতের নিজস্ব বিষয়। যখন যে পরিমান গরু আসে তখন সেই পরিমান গরুর করিডোর করা হয়। গরু কম বা বেশী আসার বিষয়টি রাষ্ট্রিয় সিদ্ধান্তের বিষয়, আমাদের নয়।

তবে জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা সমরেশ চন্দ্র দাশ বলেন, ভারত থেকে গরু না আসার ফলে দেশীয় কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। তারা গরুর দাম বেশী পাচ্ছেন। এবার সাতক্ষীরা গরুর খামারীরা যে পরিমান গরু পালন করছেন তাতে ঈদে গরুর চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশা করেন।