সাতক্ষীরা স্বাস্থ্য বিভাগের রেকর্ডীয় সম্পত্তি সুকৌশলে ভোগ দখল !


694 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা স্বাস্থ্য বিভাগের রেকর্ডীয় সম্পত্তি সুকৌশলে ভোগ দখল !
এপ্রিল ৬, ২০১৭ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

আব্দুর রহিম ::
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার লাবসা ইউনিয়নে স্বাস্থ্য বিভাগের রেকর্ডীয় সম্পত্তি সুকৌশলে মিথ্যা ওয়াকফ স্টেট সম্পত্তি দেখিয়ে বহাল তবিয়তে ভোগ করার অভিযোগ উঠেছে। সূত্রে জানা যায়, লাবসায় সাধারণ মানুষের জনসেবায় জমিদারদের দানকৃত সম্পত্তি এখন কিছু প্রভাবশালীদের দখলে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তাদেরকে মিথ্যা ও হয়রাণীমূলক মামলা ও জীবন নাশের হুমকি দিচ্ছে ঐ প্রভাবশালী ব্যক্তিরা।

লাবসা এলাকার স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদরের লাবসা গ্রামে প্রাক্তন জমিদারদের মধ্যে সর্বশেষ জমিদার আব্দুল হক ও অন্যরা মিলিতভাবে ইং-০৬.০৬.১৯১২ সালে তাদের সম্পত্তি আত্মীয় মুন্সি মহিউদ্দিন আহম্মেদ ও মুন্সি আবু মোহাম্মদ দিংয়ের নিকট থেকে যে সকল সম্পত্তি ক্রয় করেছিলেন তাহা সি.এস রেকর্ড তারিখ উল্লেখ সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ হয়। অতপর আব্দুল হকের নামে তার অন্যান্য সম্পত্তিসহ সকল সম্পত্তি এস.এ রেকর্ড লিপিবদ্ধ হয়। আব্দুল হকের মৃত্যুর তার পুত্র আতাউল হকের নামে ডিপি ৩৯নং খতিয়ানে সকল সম্পত্তি দখল ও কাগজসুত্রে রেকর্ড প্রস্তুত হয়। আতাউল হকের মৃত্যুর পর তাহার ওয়ারেশগণ ও প্রতিবেশি আব্দুল হামিকসহ অন্যান্যদের নামে এওয়াজ, বিক্রয় ও দানসুত্রে রেজিঃ দলিল করিয়া বেশকিছু সম্পত্তি হস্তান্তর করেন এবং প্রাপ্ত জমির মালিকগণ তাদের স্ব স্ব দলিল অনুসারে ডিপি ৩১ ধারা ও নামজারি রেকর্ড প্রাপ্ত হয়ে দখলে আছেন। কিন্তু পাশ্ববর্তী মাহমুদা খাতুন ও তার দুর্নীতিবাজ ভাই আমীরুল হক বাবলু মানুষের নামে মিথ্যা ওয়াকফ সম্পত্তি দাবি করে। বিভিন্ন মামলা দায়ের করে। ঐ সকল লোকদের হয়রাণী করে আসছে। মামহমুদা তার তামাদি ওয়াকফ স্টেট ৭৪.১০ একর জমির মিথ্যা তালিকা প্রদর্শন করলে ঐ আমির হায়দার ওয়াকফ স্টেটের নামে মাত্র ২১ শতক কবর স্থান ছাড়া অন্য কোন জমি রেকর্ডপ্রাপ্ত হননি। আবার মাহমুদা ও তার পিতা মুন্সি নুরুল হক চক্রান্ত করে ঐ কবরস্থান থেকে কিছু জমি জনৈক সিরাজুল ইসলামের নিকট কোবলা দলিল করে বিক্রয় করে। ঐ কবরস্থান বিক্রয় বায়না দলিলে মাহমুদার ছোট ভগ্নিপতি কাজী এমদাদ হোসেন দুর্নীতি মূলকভাবে সাক্ষী প্রদান করে। তাছাড়াও মাহমুদার ভাই আমিরুল হক বাবলু ঐ সকল সমুদয় দুর্নীতি মূলক কাজে সর্বদায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। আমিরুল হক বাবলু প্রথম জীবনে লেখা পড়া না থাকায় মটর শ্রমিক  (হেলপার) হিসেবে লাবসার মুজিদ ড্রাইভারের গাড়িতে কাজ করাকালীন মুজিদের ভাগ্নিকে বিয়ে করার পর সাতক্ষীরা জজ আদালতে পিয়ন পদে চাকুরি পেয়ে গাড়ীর হেলপারের কাজ ছেড়ে দেয়। অতঃপর ২০/২২ বছর পিয়ন পদে চাকুরি করার পর দুর্নীতির দায়ে চাকুরিচ্যুত হয়ে বেকার জীবন শুরু করে।
এলাকাবাসী জানায়, বাবলু লাবসা এমাদুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সভাপতি থাকাকালীন বিদ্যালয়ের পিয়ন পদে লোক নিয়োগে মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহন করে তা আত্মসাৎ করে। ঐ বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিয়ান পদেও লোক নেওয়ার সময় তালা উপজেলার আব্দুল আলিম নামক এক ব্যক্তির নিকট থেকে চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে ১লক্ষ ৪০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করে। এব্যাপারে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির অন্যান্য সদস্যদের তোপের মুখে পড়ে ঘুষের টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হয়। অতঃপর লাবসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি থাকা অবস্থায় পিয়ন পদে চাকুরি দিয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তির নিকট থেকে তিনি মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহন করার অভিযোগ পাওয়া যায়।
এছাড়াও মা চম্পার দরগা শরীফ এলাকায় ৬ হাজার পিচ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় সদর থানার এ.এস.আই সিকদার হাসিবুর রহমান বাদী হয়ে তার নামে একটি মামলা দায়ের করে। মামলা নং- ৫৫/৩২৮, তারিখ : ২৫.৬.১৬।

বর্তমানে সরকারি দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দের নাম ভাংগিয়ে চলছে। এছাড়া বিএনপি সরকারের আমলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানের কাছের লোক পরিচয় দিয়ে বাবলুর পরিবারটি গর্ববোধ করতো। শোনা যায় বর্তমানে এলাকার জমিদার বাড়ী মসজিদটি নতুনভাবে বানাতে নানাভাবে ছলচাতুরির দ্বারা বন্ধ করে রেখেছে। তাছাড়াও বেকার জীবনে আয়ের পথ হিসেবে বড় বোনকে ওয়াকফ স্টেটের মুতাওয়াল্লি সাজিয়ে বাবলু নেপথ্যে থেকে দখলদারির জন্য সকল মামলা মোকাদ্দমা দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রাণী করে আসছে। বাবলু মাহমুদার ওয়াকফ সম্পত্তির নাম করে জমিদারদের আম বাগান সহ মসজিদের ভোগ দখলীয় সম্পত্তি ও সরকারি ডাক্তারদের রেডর্কপ্রাপ্ত বাসভবনসহ আরো কিছু জমি এবং মসজিদের ব্যক্তিনামীয় পুকুর ৭-৮ বছর অন্যায়ভাবে ভোগদখল করে আসছিল। স্থানীয় কিছু প্রতিবাদী মুসুল্লিদের উদ্যোগে পুকুরটি আদালতের নির্দেশে পুনরুদ্ধার করা হয়। এহেন সমাজচ্যুত দুর্নীতি পরায়ন মাহমুদা বাবলুদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রাণীমূলক মামলাসহ জীবন নাশের হুমকি দিয়ে আসছে।

এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন ডা. তওহিদুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের নামে রেকর্ডীয় সম্পত্তি উদ্ধারে আমরা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। এছাড়া সরকারি সম্পত্তি যদিও কারও দখলে থাকে তাহলে আমরা আইনত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।