সাতক্ষীরা হিসাবরক্ষণ অফিস দুর্নীতির আখড়া


588 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা হিসাবরক্ষণ অফিস দুর্নীতির আখড়া
জুলাই ১, ২০১৫ খুলনা বিভাগ সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

 

স্টাফ রিপোর্টার : সাতক্ষীরা জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে চলছে সীমাহিন দুর্নীতি আর অনিয়ম। টেবিল পার হলেই টাকার পরিমাণ বাড়ে। দিনের পর দিন এ অফিসটিতে এ অনিয়ম চললেও দেখার কেউ নেই। ফলে অনিয়মই এ অফিসের নিয়মে পরিণত হয়েছে। জেলা প্রশাসক নাজমুল আহমান বলেন, এ অফিসটিতে অনিয়ম আর দুর্নীতি চলছে অনেক দিন ধরে। এ ধরণের আরো কয়েক বার অভিযোগ পেয়েছেন। তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।
একটি দায়িত্বশীল সুত্র জানান, সম্প্রতি সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ১৪-১৫ অর্থ বছরে টিআর প্রকল্পে ৬০লাখ নগদ অর্থ ও ১৬টি প্রকল্পে প্রায় ২৫লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ টাকার বিপরীতে টিআর প্রকল্পে ২৫০টি প্রকল্প ও কাবিখা প্রকল্পে ১৬টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে প্রতিষ্ঠানের সভাপতিতরা চেক নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করবেন। জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে চেক নিতে গেলে অডিটর খালেকের হাতে পড়তে হবে। এরপর শুরু হবে টাকার খেলা। টাকা না দিলে নানা ভুল দেখিয়ে চেক দেওয়া হয়না। তার চাহিদামত টাকা দিলেই পরের লোক আগে চেক পাবে। টাকা না দিলে চেক গায়েব হয়ে যাবে অফিস থেকে। ঘন্টার পর সংশ্লিস্ট কর্মকর্তাদের নিকট অভিযোগ করেও কোন লাভ হয়না। বরং আরো বাড়ে যন্ত্রণাদায়ক হয়রানি। শুধু এ প্রকল্প নয় বিভিন্ন অফিসের সরকারি কর্মকর্তারা এ অফিসে জিম্মি হয়ে পড়েছে। টাকা না দিলে কোন কাজ হয়না। অতিসম্প্রতি ২৫০টি টিআর ও কাবিখা প্রকল্প থেকে অডিটর খালেকসসহ অফিসের কয়েকজন কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সদরের তুজলপুর গ্রামের ইউপি সদস্য রানা, ইউপি সদস্য আব্দুল মালেক, ভোমরা এলাকার রুহুল কুদ্দুস, চৌবাড়িয়া এলাকার খালেকুজ্জমানসহ কয়েকজন অভিযোগ করেন, এ অফিসে চেক নিতে এসে তারা পড়েছে নানা হয়রানিতে। চেক প্রতি ৫শ’ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা না দিলে চেক পেতে তাদেরকে নানাভাবে হয়রানি করা হয়েছে। অডিটর খালেক তাদের কাছ থেকে জিম্মি করে টাকা আদায় করেছে। তার চাহিদা মত টাকা না দিলে তাদেরকে নানা ভুল দেখিয়ে দেরি করানো হয়। টাকা দিলে সব ভুল সঠিক হয়। তারাসহ সদরের যে কটি প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তারা সকলেই হয়রানি আর টাকা দিতে হয়েছে। সবচেয়ে বেশি টাকা আদায় করা হয়েছে কাবিখা প্রকল্প থেকে। হাজার হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে এ প্রকল্পের সভাপতিদের নিকট থেকে। তারা বলেন, এ অফিসে টেবিলে টেবিলে টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে টেবিল পার হয়না কাগজ। টাকা দিলে সব ঠিকমত হয়। এ এক আজব অফিস। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সরকারি কর্মকর্তা জানান, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে এ অফিসের টাকা আদায়ের ব্যাপার সাদামাঠা। আমরা সরকারি কর্মকর্তা হওয়ার পরও তাদেরকে এ অফিসের কর্মকর্তাদের টাকা দিয়ে কাজ করাতে হয়। তাদের হাত থেকে রক্ষা পায়না বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তরা। অডিটর আব্দুল খালেক জানান, সব অফিসে একই অবস্থা। তার অফিসে শুধু লেনদেন হয়না। আমরা কিছু নিলেই অন্যদের চোখে পড়ে। জেলা হিসাব রক্ষণ অফিসার শাহাজান সরকারের কাছে অভিযোগ করা হলে তিনি চুপচাপ ছিলেন। তিনি বলেন, কেউ যেন হয়রানি না হয় সে জন্য সুপার আব্দুল হাকিমকে বলেন।