সাতক্ষীরা-১ আসন : আ’লীগ শরীকদলের ছাড় দিতে নারাজ,বিএনপি’র একক প্রার্থী


694 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা-১ আসন : আ’লীগ শরীকদলের ছাড় দিতে নারাজ,বিএনপি’র একক প্রার্থী
নভেম্বর ১১, ২০১৮ কলারোয়া তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

কে এম আনিছুর রহমান ::

সাতক্ষীরা-১ (জাতীয় সংসদ-১০৫) তালা ও কলারোয়া আসনটি একটি পৌরসভা ও ২৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২২ হাজার ৮৯৮ জন। গত ৮ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন কর্তৃক আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষনার পর এ আসনে আওয়ামী লীগের একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীসহ মহাজোটের প্রার্থীরা মনোনয়ন নিয়ে দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন। এমনকি তারা আগামী ২৩ ডিসেম্বর ভোট উপলক্ষ্যে গণসংযোগও শুরু করেছেন বেশ জোড়েসোরেই। প্রতিদিন নির্বাচনী পথসভা, মতবিনিময়, কর্মী সমাবেশ, লিফলেট বিতরণসহ মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করেছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। সেই সঙ্গে সরকারি কর্মসূচিতেও উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরে নৌকায় ভোট দেওয়ার আহবান চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে মহাজোটের শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টিকে এ আসন ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। নৌকা প্রতীক নিয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্ল¬াহ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাকে হটিয়ে এ আসনে নিজেদের মধ্য থেকেই প্রার্থী দেওয়ার তোড়জোড় চালাচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা।

আর বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং জামায়াতে ইসলামী থেকে এ আসনের একক প্রার্থী অনেকটা চূড়ান্ত হয়েই আছে। ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ধরে নিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন নেতা-কর্মীরা। বর্তমান কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত হাবিবুল ইসলাম ছাড়া এখন পর্যন্ত বিএনপির আর কোনো সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে না। তাই দলীয় মনোনয়ন নিয়ে অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে বিএনপি। তবে তিনি বর্তমানে বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলায় সাতক্ষীরা জেল হাজতে আছেন।

তবে আওয়ামীলীগের চিত্র একেবারে বিপরীত। ২০০৮ সালে বিএনপির হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে হারিয়ে এ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমান। আর ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ গ্রহন না করায় জোটের শরিক ওয়াকার্স পার্টির সাতক্ষীরা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এ্যাড.মুস্তফা লুৎফুল্ল্যাহ মনোনয়ন পেয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে আ’লীগের একাংশের স্বতন্ত্র প্রার্থী কেন্দ্রীয় সৈনিক লীগের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক সরদার মুজিবের সাথে প্রতিদ্বদ্বিতা করে জয়লাভ করেন।

গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০১৩ সালে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত ছিল এ আসনটি। জেলার সবচেয়ে রাজনৈতিক সহিংসতা প্রবন এ আসনকে কেন্দ্র করেই বলতে গেলে জেলার রাজনীতি পরিচালিত হয়ে আসছে। এমনকি এ আসনে জেলার সবচেয়ে হেভি ওয়েট প্রার্থীদের উপস্থিতি। ২০০৮ সালের আগে এ আসনে একবার আওয়ামীলীগের প্রার্থী প্রয়াত সৈয়দ কামাল বখত ছাকি, উপ-নির্বাচনে একই দলের বি এম নজরুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ দিদার বখত, জামায়াতের প্রার্থী আনছার আলী এবং দুইবার বিএনপি’র প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিব জয়লাভ করেন।

গত ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেয়ায় প্রথমে আ’লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ নুরুল ইসলাম। কিন্তু মনোনয়নপত্র জমা, প্রতীক বরাদ্দের চিটি পাওয়ার পরও জোটের স্বার্থে আকস্মিকভাবে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে শরিক দল বাংলাদেশ ওয়াকার্স পাটির নেতা এ্যাড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহকে প্রার্থী করেন এবং নৌকা প্রতীক নিয়ে তিনি জয়লাভ করেন।

অন্যদিকে সহিংসতার ঘটনায় বিএনপি ও এর জোট জামায়াত সাংগঠনিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত। মামলার কারণে নেতাকর্মীরা আজও এলাকাছাড়া। সেকারণে দুটি দলই কোণঠাসা। এদিকে এ আসনে জামায়াত, আওয়ামীলীগ ও বিএনপি’র ভোটার প্রায় সমানে সমান। ফলে জামায়াত ও বিএনপি জোট থেকে যদি সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব প্রার্থী হয় তাহলে আওয়ামীলীগের নীতি নির্ধারকদের অনেক হিসাব-নিকাশ করেই প্রার্থী মনোনীত করতে হবে। তা-নাহলে এ আসনটি আ’লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের হাত ছাড়া হয়ে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সাধারণ ভোটারদের অভিমত।

এমন প্রেক্ষাপটে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোট থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, জাতীয় পার্টির সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ দিদার বখত, সাবেক সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত সৈয়দ কামাল বখত ছাকির ছেলে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ কামাল শুভ্র, জেলা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক সরদার মুজিব, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক লায়লা পারভীন সেঁজুতি,কলারোয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফিরোজ আহম্মেদ স্বপন, জেলা পরিষদের সদস্য ও উপজেলা আ’লীগের অর্থ সম্পাদক আলহাজ্ব শেখ আমজাদ হোসেন, প্রচার সম্পাদক অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মন্ময়, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা কামরুজ্জামান সোহাগ, তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ নূরুল ইসলাম, আ’লীগ নেতা এ্যাড.অনিত কুমার মুখাজির্, বাবু বিশ্বজিৎ সাধু, এ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন, আ’লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য আমজাদ হোসেন,ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আহসান কবীর টুটুল ও জাসদের ওয়ায়দুস সুলতান বাবলু, জাতীয় পার্টির কলারোয়া উপজেলার সাবেক সভাপতি ও জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক এম মুনছুর আলী। তারা প্রত্যেকেই মাঠ পর্যায়ে নির্বাচন কেন্দ্রিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তবে এ আসনে জামায়াতে ইসলামীরও রয়েছে শক্ত অবস্থান। যদিও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্রিক সহিংসতার পর মামলা-হামলায় সাংগঠনিকভাবে বিপর্যয়ের মুখে পড়ে ধর্মভিত্তিক এ সংগঠন। কিন্তু একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে নীরবে তাদের তৎপরতা চলছে বলে জানা গেছে। এ নির্বাচনে বিএনপি জোটগতভাবে নির্বাচনে এলে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্ল¬াহ এ আসনে মনোনয়ন চাইবে বলে শোনা যাচ্ছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে বর্তমান সংসদ সদস্য এ্যাড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ বলেন, গত নির্বাচনের আগে বিএনপি-জামায়াত এ এলাকায় যে তান্ডব চালিয়েছে তা বন্ধ করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি এমপি হওয়ার পর তালা-কলারোয়ার প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে দুর্নীতিমুক্ত করে কপোতাক্ষ নদ খনন কাজ সম্পন্ন করেছেন, যে কারণে তালা ও কলারোয়ায় এবার জলাবদ্ধতা নেই বললেই চলে। দলীয় কোন্দল, দলবাজি, টেন্ডারবাজি’র সাথে নিজে জড়িত না থাকা এবং এটাকে স্বাভাবিকভাবে করতে দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীরা চাঁদামুক্ত ভাবে ব্যবসা করছে, কোন হয়রানীর শিকার হয়নি। এর আগে তালা-করারোয়ায় বিভিন্ন তেল পাম্প, ইটের ভাটা, গরুর খাটাল, দোকানদারদের নিকট থেকে কালো টাকা নিয়ে রাজনীতি নিয়ন্ত্রন করা হতো। তার সময় তিনি এসব অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করার চেষ্ঠা করেছেন। তবে সর্বক্ষেত্রে যে দুর্নীতি মুক্ত করতে পেরেছেন, এটা ঠিক নয়। তবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন এবং নিজেকে জড়াননি।

তিনি আরও বলেন, তার মেয়াদকালে প্রতিশ্রুতির চেয়ে বেশি কাজ হয়েছে, স্কুল,কলেজ,মাদরাসার নতুন ভবন, রাস্তাঘাটসহ এলাকার দৃশ্যপটের উন্নতি হয়েছে, তালা-কলারোয়াবাসীর জীবনমান উন্নত, সহজ ও আরামদায়ক হয়েছে। এলাকার উন্নয়নে তিনি দিন-রাত পরিশ্রম করছেন এবং এলাকায় অবস্থান করে ভোটারদের পাশে থাকছেন বলেও উল্লেখ করেন এমপি মুস্তফা লুৎফুল্লাহ।

স্থানীয় আ’লীগের সাথে তার সম্পর্ক কেমন জানতে চাইলে, তিনি আ’লীগের তৃণমমূল নেতাকর্মীদের সাথে তার সম্পর্ক ভাল আছে বলে জানান। তাই আবারো মনোনয়ন পাবেন এবং নির্বাচিত হবেন বলে আশাবাদী এ জনপ্রতিনিধি।

দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক এমপি আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, তিনি ১৯৬২ সালে ছাত্রলীগে যোগদান করেন। ১৯৬৬ সালে তিনি ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। তিনি ১৯৬২, ১৯৬৬ ও ১৯৬৯ সালের আন্দোলনে সক্রিয় অংশ গ্রহন করেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করেছেন। তৎকালীন সাতক্ষীরা মহুকমার মুজিব বাহিনীর প্রধান হিসেবে তিনি আন্দোলনে সক্রিয় ভুমিকা রেখেছেন। তিনি মাগুরা, কপিলমুনি এবং রায়পুর এলাকায় মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। যুদ্ধকালীন সময়ে তার সম্মুখে মাগুরাতে তিনজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। ১৯৭১ সালে তিনি আওয়ামীলীগে যোগদান করে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত আ’লীগের আন্দোলন সংগ্রামসহ বিভিন্ন কর্মকান্ডের সাথে সক্রিয় অংশ গ্রহন করেন। ১৯৭৯ সালে তিনি সাতক্ষীরা জেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০০ সালে তিনি সাতক্ষীরা জেলা আ’লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে একটানা ১৫ বছর জেলা আ’লীগের সভাপতি’র দায়িত্ব পালন করেছেন। এরই মধ্যে ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ১ লক্ষ ১৪ হাজার ভোট পেয়ে বিএনপি প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিবের নিকট পরাজিত হন। পরে ২০০৮ সালে এ আসন থেকে তিনি ১ লক্ষ ৭০ হাজার ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তিনি এমপি হওয়ার পর কপোতাক্ষ খননের জন্য ২৬২ কোটি ৫৪ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করান, শালিকা নদী খনন করেন, ১৩টি সাইক্লোন সেন্টার ভবন নির্মান, পাকা রাস্তা, স্কুল কলেজের নতুন ভবনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজ করেছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ গ্রহন না করায় এবং জাতীয় পার্টি ১৪ দলীয় জোট থেকে সরে দাড়ালে জোটের স্বার্থে অন্য শরিক দলের দাবিতে এ আসনটিতে তাকে মনোনয়ন না দিয়ে নেত্রী ওয়াকার্স পার্টির মুস্তফা লুৎফুল্লাহকে মনোনয়ন দেন। তবে তিনি মনোনয়ন না পেলেও এলাকার নেতা-কর্মীদের সুঃখে-দুঃখে সব সময় পাশে আছেন। বিধায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন পাবেন বলে আশাবাদি।


আ’লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী কলারোয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, তিনি ১৯৮১ সাল থেকে ছাত্র রাজনীতি শুরু করে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান কলারোয়া উপজেলা আ’লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েছেন। ২০১৩ সালে জামায়াত-বিএনপি’র নাশকতা তার একক নেতৃত্বে জনগনকে সাথে নিয়ে প্রতিহত করেছেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর থেকে এই সর্ব প্রথম তার নেতৃত্বে রাজনৈতিক কৌশল ও মেধা-বুদ্ধি দিয়ে উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের দলীয় চেয়ারম্যান ও পৌর সভার ১২টি কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। সকল নির্বাচিত জন প্রতিনিধির সাথে সু-সম্পর্ক থাকার সুবাদে জেলার মধ্যে তিনি আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীদের সু-রক্ষা দিতে সক্ষম হয়েছেন বলে তিনি মনে করেন। ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে অদ্যাবধি তালা-কলারোয়ার সকল নেতা কর্মীদের সাথে তার আত্মার বন্ধন সৃষ্ঠি হয়েছে। যা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রী সদয় হয়ে তাকে মনোনয়ন দিলে প্রতিদ্বদ্বিতামূলক নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন বলে তিনি মনে করেন।

দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় সৈনিক লীগের বর্তমান সহ-সভাপতি সরদার মজিব বলেন, তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী। সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কেরালকাতা ইউনিয়নের নাকিলা গ্রামে এক রাজনৈতিক পরিবারে তিনি জন্ম গ্রহন করেন। ছাত্র জীবনে তিনি ছাত্রলীগ করতেন। পরে সেনাবাহিনীর চাকুরী থেকে অবসর নিয়ে আবারও সক্রিয়ভাবে আওয়ামী রাজনীতি শুরু করেন। দীর্ঘদিন ধরে নিজ উদ্যোগে স্থানীয় নেতা কর্মীদের সেবা করে যাচ্ছেন। উন্নয়ন মুলক বিভিন্ন উদ্যোগে তার অংশ গ্রহন রয়েছে। দলের পরীক্ষিত ও বঞ্চিত নেতা-কর্মীদের প্রতি আন্তরিক থেকেছেন। তাদের সুঃখে-দুঃখে সব সময় পাশে আছেন। তাই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রী দল থেকে তাকে মূল্যায়ণ করবেন বলে তিনি মনে করেন।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর হওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্বাধীনতা স্বপক্ষের শক্তি আওয়ামী নেতাকর্মীকে সু-সংহত করার লক্ষ্যে দলীয় হাইকমান্ডের অনুমতি সাপেক্ষে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। তাই তার পরাজয়কে তিনি হাসিমুখে গ্রহন করেছিলেন।

দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক লায়লা পারভীন সেঁজুতি বলেন, আমি জন্মসূত্রে আওয়ামী পরিবারের সন্তান। আমার পিতা স.ম আলাউদ্দীন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সাতক্ষীরা জেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও তালা উপজেলা আ’লীগের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৯৬ সালের ১৯ জুন তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। স্বাভাবিকভাবে সে সময় জামায়াত-বিএনপি শক্তিশালি ছিল। তারাই আমার পিতাকে হত্যা করেছে বলে তিনি মনে করি। তিনি তালা-কলারোয়ায় বঙ্গবন্ধুর একজন সৈনিক হিসেবে নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত করছিলেন। আমি বর্তমান আমার পিতার প্রতিষ্ঠিত তালা উপজেলার নগরঘাটা বঙ্গবন্ধু পেশা ভিত্তিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। আমার পিতার মৃত্যুর পর থেকে আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে কাজ করে যাচ্ছি। আমি আশা করি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রী আমাকে মূল্যায়ন করে দলীয় মনোনয়ন দিবেন এবং বিপুল ভোটে জয়লাভ করব।

দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী তালা উপজেলা আ’লীগের সভাপতি শেখ নূরুল ইসলাম বলেন, তিনি ১৯৭৯ সালে সাতক্ষীরা সরকারী কলেজে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়ে ছাত্র রাজনীতি শুরু করেন। ১৯৮১ সালে ওই কলেজে ছাত্র সংসদের নির্বাচিত সদস্য, ১৯৮৩ সালে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি, ১৯৮৭ সালে ছাত্রলীগ জাতীয় কমিটির সদস্য, ১৯৮৮ সালে তালা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৯৩ সালে জেলা কমিটির সদস্য, ২০০৪ সালে তালা উপজেলা আ’লীগের সভাপতি হয়ে আজও সভাপতি দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০০ সালে উপ-নির্বাচন থেকে শুরু করে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তালা-কলারোয়া আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন চেয়েছেন। তবে ২০১৪ সালে তিনি দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন। এমনকি মনোনয়ন জমা, প্রতীক বরাদ্দের চিটিও পান। কিন্তু ওই নির্বাচনে বিএনপি অংশ গ্রহন না করায় এবং জাতীয় পাটি নির্বাচন থেকে সরে দাড়ালে ওই মুহুর্তে জোটের স্বার্থে ওয়াকার্স পার্টির দাবিতে নেত্রী সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে এ্যাড মুস্তফা লুৎফুল্লাহকে মনোনয়ন দেন। এরপর তিনি নেত্রীর সাথে দেখা করলে নেত্রী তাকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়ার প্রতিশ্রতি দেন। তাই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন পাবেন এবং বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবেন বলে আশাবাদি।

আ’লীগ নেতা এ্যাড. মোহাম্মদ হোসেন বলেন, তিনি এলাকার অসহায় মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পান তাহলে অবশ্যই জয়ী হবেন এবং অসমাপ্ত কাজ গুলো সম্পর্ন করবেন।

 


জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ দিদার বখত বলেন, তিনি মন্ত্রী থাকা কালীন সময়ে তালা-কলারোয়ায় সবচেয়ে বেশী উন্নয়ন হয়েছে। বিশেষ করে তালা ও কলারোয়া কলেজ সরকারী করণ, উপজেলা পরিষদ ভবন নির্মান, বেত্রবতী নদীর উপর ব্রীজ, পাটকেলঘাটা ব্রীজ, তালা হাইস্কুল,কলেজ ও বালিকা বিদ্যালয় সরকারীকরণসহ অসংখ্য উন্নয়ন করেছেন। ইতোমধ্যে তিনি দলের চেয়ারম্যান হুসাইল মুহাম্মদ এরশাদের অনুমতি নিয়েই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের লক্ষ্যে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং এই আসনে তিনি নির্বাচিত হবেন বলে আশাবাদি।

মনোনয়ন প্রত্যাশী কলারোয়া উপজেলা জাতীয় পাটির সাবেক সভাপতি এম মুনছুর আলী বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টির জন্মলগ্ন থেকে অদ্যাবধি জাতীয় পার্টিতে আছি। বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক। বিগত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোয়ন পাই। আমি দীর্ঘ ১৫ বছর একটানা কলারোয়া উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি’র দায়িত্ব পালন করি। দায়িত্বপালন কালে নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় চেয়ারম্যানসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে কলারোয়ায় নিয়ে আসা হয়। এলাকার মানুষের সুখে:দুখে পাশে থেকেছি, এখনও আছি। তাই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে তিনি নিবাচিত হবেন বলে আশাবাদি।

 

কলারোয়া উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি অধ্যাপক বজলুর রহমান বলেন, এ আসনে আমাদের একমাত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব। তিনিই দলীয় মনোনয়ন পাবেন। তবে বর্তমান সরকার হাবিবুল ইসলামসহ আমাদের বিএনপি’র নেতাকর্মীদের একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার ও হয়রানী করে এলাকা ছাড়া করেছে। দলটি বর্তমার কোণঠাসা রয়েছে তারপরেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যদি সুষ্ঠ, অবাধ ও নিরপেক্ষ হয় তাহলে এ আসনটি বিএনপি’র দখলে থাকবে বলে তিনি মনে করেন।

##